গোলাম-ই-চিশতীয়া
হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন
চিশতী (রহঃ)
দরবারে-এ-ওলী-এ-বাংলা
হযরত শাহ্ খাজা শরফুউদ্দিন চিশতী (রহঃ)
মহান এই ওলীর জীবনি
এ যাবৎকাল বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে সুনিশ্চিত ভাবে জানা গেছে যে, ওলী-এ-বাংলা হযরত শাহ্ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী বেহেস্তী (রহঃ) সুলতানুল হিন্দ, খাজা গরীব উন নওয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন হাসান চিশতী (রহঃ) এর ২য় পুত্র ছিলেন। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর ২য় স্ত্রী হযরত বিবি ইসমত -এর গর্ভে ও হযরত শাহ্ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ)
এর ঔরষে তিনি ৬২৮ হিজরী মোতাবেক ১২৩০ খৃষ্টাব্দে আজমীর শরীফে জম্ম গ্রহণ করেন।
বিগত ৭৫০ বৎসর ব্যাপী লিখিত বিভিন্ন মালফুজাত, তাজকিরাত , মাকতুবাদ , বিশেষ করে হযরত শাহ্ খাজা গরীব উন নওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর দ্বীতিয় প্রধান খলিফা হযরত হামিদ উদ্দিন সাভালী (রহঃ) কতৃক ১২৫০ খ্রীষ্টাব্দে রচিত
"সুরুবাস সুদুর" এ তথ্য প্রদত্ত হয়েছে । (০১)
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহঃ) রচিত "ফাতেয়াইদুল ফুয়াদ" এবং তার খলিফা হযরত নাসির উদ্দিন চেরাগী রচিত " খায়রুল মঞ্জিল" পূস্তকের বর্ণনায় এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
ওলী -এ- বাংলার পিতৃপ্রদত্ত প্রকৃত নাম ছিল খাজা হুসাম উদ্দিন আবু সালেহ চিশতী (রহঃ) তার জৈষ্ঠ ভ্রাতা হযরত খাজা ফখর উদ্দিন আবুল খাইর চিশতী (রহঃ) হযরত শাহ্ খাজা গরীব উন নওয়াজ (রহঃ) এর ১ম সস্ত্রী বিবি আমাতুল্লাহর গর্ভজাত ও ঐ একই মাতার গর্ভে তার একমাত্র ভগ্নী হযরত বিবি হাফেজা জামাল (রহঃ) জম্ম গ্রহণ করেন। তার কনিষ্ট ভ্রাতা হযরত খাজা গিয়াস উদ্দিন আবু সাইয়েদ চিশতী (রহঃ) তার গর্ভ ধারিনী মাতা বিবি ইসমত এর গর্ভজাত ছিলেন। পিতৃকূলে এই ওলী মহান ওলী সাইয়েদ ছিলেন এবং বংশধারা পিতা হযরত খাজা গরীব উন নওয়াজ (রহঃ) মাধ্যমে রাসূল করীম (সাঃ) এর রক্তধারার সাথে সংমিশ্রিত ছিল। (০২)
ওলী-এ-বাংলার ৫ বৎসর বয়স কালে ৬ই রজব ৬৩৩ হিজরী মোতাবেক ১২৩৬ খ্রীষ্টাব্দে তার পিতা হযরত খাজা গরীব উন নওয়াজ (রহঃ) ইন্তেকাল করেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) ফলে সে সময়ে যুবক বয়স্ক তার জৈষ্ঠ ভ্রাতা হযরত খাজা খাজা ফখর উদ্দিন আবুল খাইর চিশতী (রহঃ) এর পরিচর্যায় তিনি লালিত পালিত হন। পরবর্তী কিশোর বয়সে তিনি দিল্লীতে হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহঃ) এর হাতে বাইয়াত হন ও তার কাছে ইলমে মারেফাতে জ্ঞান অর্জন করেন। ক্রমে তিনি কঠোর সাধনা দ্বারা কামালিয়াতের উচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়ে মহান রাব্বুল আলামিনের আবদালে পরিণত হন। হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) ইন্তেকালের পর আজমীর শরীফ পূনরায় এর অভূতপূর্ব হিন্দু রাজা পৃথিরাজ রায় এর পুত্রগনের দখলে চলে যায় ও আজমীর শরীফের
মুসলমান গণ নির্যাতনের শিকার হন। (০৩) এ সময় ৬৬৩ হিজরী মোতাবেক ১২৬৫ খ্রীষ্টাব্দে তার জৈষ্ঠ দ্রাতা খাজা ফখর উদ্দিন আরুল খাইর চিশতী (রহঃ) হিন্দু দুস্কৃতকারীদের সাথে যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। ভ্রাতার শাহাদতে হযরত হুসাম উদ্দিন খুবই মর্মাহত হন ও আজমীর শরীফ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সময় তার বয়স ছিল ৪৫ বৎসর । এ সময় একদা রাতে তিনি পিতা হযরত খাজা গরীব উন নওয়াজ (রহঃ) এর নিকট থেকে বাশারত লাভ করেন, ও পূর্বদিকে দেশে গমন করে দ্বীনের খেদমত করার নির্দ্দেশ লাভ করেন। এই অবস্থায় কাউকে কিছু না জানিয়ে একদা গভীর রাতে পদব্রজে দিল্লীর উদ্দেশ্যে আজমীর শরীফ করেন। এই একই সময়ের কিছু পূর্বে হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে দিল্লীর হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহঃ) কতৃক নির্দেশিত হয়ে ১২ জন আউলিয়া সহযোগে বঙ্গেদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আরও বহু আউলিয়া দরবেশ তার সঙ্গী হন। (০৪) হযরত হুসাম উদ্দিন আজমীর শরীফ থেকে পদব্রজে দিল্লী আসেন এবং সেখানে সংবাদ পান যে, হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) ১২ জন সঙ্গী সহ পূর্ব দিকে বঙ্গদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং বর্তমানে সমরখন্দে অবস্থান করছেন, হযরত হুসাম উদ্দিন পদব্রজে সমরখন্দে গিয়ে তার সাথে যোগ ন। আজমির শরীফ হতে মুহাম্মদ শরীফ নামে অপর এক দরবেশ একই সময়ে হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) এর সাথে যোগ দেন। হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) এর এই কাফেলার সাথে হযরত হুশামউদ্দিন মূলতান, ইরান, আফগানিস্তান, বিহার, প্রভৃতি দেশ পদব্রজে পেরিয়ে বঙ্গদেশের সপ্তগ্রামে এসে উপস্থিত হন। সপ্তগ্রাম তখন ছিল মুসলিম সুলতান শামস্ উদ দীন ফিরোজ শাহ্ এর রাজ্য লাখনৌতির অন্তগত । শ্রীহট্র
তখন ছিলো অত্যাচারী হিন্দু রাজা গোবিন্দ এর অধিনে । সুলতান সামস্ উদ্দিনকে শ্রীহট্র অভিযানে উপদেশ দিয়ে হযরত শাহ জালাল (রহঃ) সুলতানের সেনাবাহিনীর সিপাহশালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন এর বাহিনীর সাথে হযরত হুসাম উদ্দিন(০৫) ও হযরত শাহ জালাল (রহঃ) এর ৩৬০ জন ওলী দরবেশ হিজরী ৭০১ মোতাবেক ১৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে বিজয়ীর বেশে শ্রীহট্রে প্রবেশ করেন। অতপর শ্রীহট্র বা সিলেট হযরত শাহ জালাল (রঃ) এর সাথে তিনি ২ বৎসর অবস্থান করেন ও তার সহবতে ফায়েজ ও বরকত লাভ করেন। এই সময় খাজা গরীব উন নওয়াজ (রহঃ) এর পুত্র হিসাবে পরিচিতি প্রকাশ পেলে হযরত শাহ জালাল (রহঃ) তার নাম রাখলেন শরফ উদ্দিন যার আরবী অর্থ হচ্ছে বদলানো বা পাল্টানো। সেই থেকেই হযরত হুসাম উদ্দিন চিশতী (রহঃ) হযরত খাজা শরফ উদ্দিন চিশতী (রহঃ) নামে পরিচিত হন । হযরত শাহ জালাল (রহঃ) এর জীবনী গ্রন্থ সমূহে তার সঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার নামের তালিকায় তার নাম এবং সাথী মোঃ শরীফ ওরফে
শরীফ আজমেরী এর নাম অন্তভূক্ত আছে ।
অতপর ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৫ খ্রীষ্টাব্দে তিনি হযরত শাহ জালাল (রহঃ) এর নির্দেশে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে শ্রীহট্র থেকে দক্ষিণ বঙ্গের দিকে নৌকা যোগে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে সোনারগাঁও এঅবস্থিত "হযরত শরফ উদ্দিন আবু তাওয়ামা" প্রতিষ্ঠিত খানকা শরীফে কিছু কাল অবস্থান করে তথকার সূফী দরবেশদের পরামর্শে রমনা নামক এক গ্রামে অবস্থিত এক কালী মন্দিরের পাশে বসবাসকারী
জনগণের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে ইচ্ছুক হয়ে তিনি ঐ এলাকার উদ্দেশ্যে সোনারগাঁও থেকে নৌকা যোগে রওয়ানা হন। উক্ত নৌকার মাঝির জানামতে তিনি উক্ত কালী মন্দিরের কাছাকাছি স্থানে আসার জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত এক খাল পথের শেষপ্রান্তে এসে এক গভীর জঙ্গলাকির্ণ কিন্তু সরু একপায়ে
চলা পথের পাশে অবতরণ করেন। স্থানটি নির্জন লোকালয় শূন্য হওয়ায় তার খুব পছন্দ হয় ও এখানেই তিনি আস্তানা নেন। আজ যে স্থানে এই মাঝার মসজিদ অবস্থিত এটাই সেই ভিষণ জঙ্গলাকির্ণ স্থান এবং বায়োবৃদ্ধ যারা এখনো জীবিত আছেন তারা জানেন যে, মাঝার মসজিদের এই জাতীয় ঈদগাহ মাঠটি ছিল একটি খালের শেষ মাথা এবং এই খালটি দিয়েই ওলী এ বাংলা এই স্থানে এসে নৌকা থেকে অবতরণ করেন এবং এখনও সেই কালি মন্দির সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভিতর পূর্ণ প্রতিষ্ঠাক্রমে দাঁড়িয়ে আছে। খ্রীষ্টিয় দ্বাদশ শতাব্দিতে রমণা গ্রামটি সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ধর্মাবলন্বী এবং হিন্দু জনগণ দ্বারা অধিষ্ঠিত ছিল। খ্রীষ্টিয় অষ্টম শতাব্দীতে এখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলন্বীদের উপসানালয় "গুরুদুয়ারা নানকশাহী" প্রতিষ্ঠিত হয় । ১১০০ খ্রীষ্টাব্দে নেপালের বদ্রীনাথ যোশী মঠ' । এর শংকরাচার্য স্বামী গোলাপ গিরির নেতৃত্বে একদল তীর্থ দর্শনার্থী রমণা গ্রামে আগমন করে তথায় আস্তা গড়ে তোলে এবং কালি মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠাকল্পে একটি কাঠঘর মন্দির নির্মাণ করেন, ও তথায় কালি পূজা শুরু হয়। ক্রমে ক্রমে এই কালিপূজার মন্দিরে কাপালিকদের প্রাধান্য বিস্তৃত হয় এবং তারা নরবলী যজ্ঞ সহ নানা যাগযজ্ঞ দ্বারা স্থানীয় নিরীহ হিন্দু ধর্মাবম্বী ও অপরাপর বসবাকারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেন। এই কাপালিদের তান্ডবে সনাতন ধর্মের সৌন্দর্য বিলীন হয়ে গেলে গৃহী হিন্দুরা বৌদ্ধ ও বামন্য ধর্মের দিকে ধাবিত হতে থাকে । এই অবস্থায় ওলী-এ-বাংলা এই স্থানে আস্তানা গড়ে তুলেন। এই সময় এই এলাকায় ছিল উৎকট তান্ত্রিক হিন্দু গুরুবাদের প্রভাব এবং সূরাপায়ী তান্ত্রিকাবাদের এই পুরোহিতরা রমণার কালি মন্দিরে উৎসর্গ করত নরবলী । ভয়ে উৎকন্ঠায় এই গ্রামীন মানুষ গুলি যখন অস্থির ছিল তখন মানব সেবার ব্রত নিয়ে এই মহান ওলীর কন্ঠে ধ্বনিত হলো আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ" ॥ এই উচ্চারণে "সেরাতুল মুস্তাকিম" স্পষ্ট হয়ে ওঠে পথভ্রষ্ট মানবকূলের সামনে।
হিজরী ৭০৪ মোতাবেক ১৩০৬ খ্রীষ্টাব্দে ওলী-এ-বাংলা এখানকার আস্তানা থেকে দ্বীন প্রচারে লিপ্ত হন। তার চরিত্র মাধুর্য্য ও শ্রদ্ধেয় পূর্ণাত্মার পরিচয় পেয়ে হিন্দু জনগণ অচিরেই তার প্রতি আকৃষ্টি হতে থাকে এবং
দীক্ষিত হতে থাকে ইসলামে । নিজের জীবিকা নির্বাহের দুঃশ্চিন্তা না করে তিনি এই অঞ্চলে ইসলামের বানী প্রচার করতে থাকেন। শত শত হিন্দু তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করে ॥ কিন্তু কায়েমী স্বার্থবাদী পুরোহিতরা নানা ভাবে বাঁধার সৃষ্টি করতে থাকে তবে ওলী -এ-বাংলার কঠোর স্রংগ্রামে তান্ত্রিকদের তন্ত্র মন্ত্র নিষ্ফল হয় এবং এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, কালি মন্দিরের তান্ত্রিকেরা হয় ওলী-এ-বাংলার নিকট ইসলামের ছায়া সুশীতলে আশ্রয় নেয় অথবা এই এলাকা ছেড়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় খ্রীষ্টিয় ত্রয়োদশ শতকে এলাকার কালিমন্দিরটি বিরান হয়ে যায় ও তা বাদুর চামচিকার আশ্রয় স্থানে পরিণত হয় । ওলী-এ-বাংলার অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ধীরে ধীরে মুসলিম লোকালয় গড়ে উঠে ও ওলী-এ-বাংলার নামের চিশতী পদবীর কারণে এলাকাটি চিশতীয়া মহল্লা" নামে পরিচিত হয়ে উঠে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এই এলাকায় চিশতীয়া মহল্লার বাড়ীঘর, মসজিদ ও কবরস্থান ছিল ইন্তেকালের পরবর্তীতে নানা কারণে ক্রমে ক্রমে বিরান হয়ে যায়। ৬০০বৎসর পর ১৯০৫ সালে এই স্থানে পূর্ব বাংলা প্রদেশের বড়লাটের বাসগৃহ নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করে বৃটিশ সরকার এই এলাকার কবরস্থান নিঞ্চিহৃ করে গভর্নমেন্ট হাউস নির্মাণ করে, যা আজকের পুরাতন হাইকোট ভবন রূপে দাঁড়িয়ে আছে। উল্লেখ্য ওলী -এ-বাংলার ইন্তেকালের পরবর্তীতে স্বামী হরিচরণ গিরি রমণা গ্রামের ঐ কাঠঘর মন্দির ভেঙ্গে পাকা মন্দির এর পত্তন করলে ভাওয়াল রাজ মহিষী রানী বিলাসমনি দেবী তা পাকা অতুচ্চ শিখর মন্দিরে পরিণত করেন ও তথায়
বিশুদ্ধ সনাতন ধর্মীয় আচার আচরণ প্রতিষ্ঠা করেন। ওলী-এ-বাংলা নিজ জীবদ্দশায় ইসলাম প্রচারে যে সংগ্রাম করে গেছেন, তারই ফলশ্রুতিতে রমণা ছাড়িয়ে ইসলামের মহান বানী পৌছিয়ে যায় এই এলাকার পশ্ববর্তী সকল জনপদে। শত শত মানুষ ক্রমে ক্রমে তার
সোহবতে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা ও ইসলাম প্রচারে তার কঠোর সাধনার কারণে তিনি ওলী-এ-বাংলা নামে পরিচিত হয়ে উঠেন। ৩৫০ বছর পর ১৬১০ খ্রীষ্টাব্দে যদিও ঢাকার শহর প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু ইসলাম ধর্মের গোড়া পত্তন করেন তিনি ১৩০০খ্রীষ্টাব্দে তার জীবদ্দশা কালে । বর্তমানের বাংলাদেশে ইসলামের যে জৌতী বহমান তা ওলী-এ-বাংলা হযরত শাহ্ খাজা শরফ উদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর দ্বীন প্রচারের শ্রমের ফসল । এই কারণেই তার মাঝার এক পূন্যময় স্থানে পরিণত হয়েছে। মহান এই ওলী শুধু যে অজ্ঞ পথ হারা মানুষদের মাঝে ধর্মীয় বানীই পৌছাতেন তাই নয় বরং তাদের সামাজিক জীবনে ইসলামের সংহতির বীজ বপন করে দিতেন। ফলে এই এলাকায় ইসলামের দরজা দিনে দিনে মজবুত ভীত প্রাপ্ত হয় যা আজও আমাদের মাঝে বিকাশমান। তিনি দীর্ঘ ৩৪ বৎসর এই এলাকায় অবস্থান করে দ্বীনের খেদমত করেন। হিজরী ৭৩৮ মোতাবেক ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে
ওলী-এ-বাংলার ১১০ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন) তার ভক্ত আশেকান ও মুরীদগন চিশতীয়া মহল্লার কবরস্থানের সন্নিকটে তার হুজবার মধ্যে তাকে দাফন করেন। সেটাই আজ ওলী-এ-বাংলা হযরত শাহ্ খাজা শরফউদ্দিন চিশতী(রহঃ) এর মাজার শরীফ । ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সময়ে মাজারটির সংস্কার সাধিত হয়।
একাজে ঢাকায় নবাব আহসান উল্লাহ ও নবাব সলিমুল্লাহ বাহাদুর এবং ঢাকার জমিদার মোহনী মোহন সাহা সহ বহু আশেকান ভক্তদের অবদান রয়েছে।
মাজার মসজিদের পরিচিতি
বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে ০.৭৬ শতাংশ ভূমির ওপর হযরত শাহ্ খাজা শরফউদ্দিন চিশতী বেহেস্তী (রহঃ) এর মাজার -মসজিদ কমপ্লেক্স অবস্থিত। হিজরী ৭৩৮ মোতাবেক ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে এই মহান ওলীর ইন্তেকালের পর তার ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তার মাজারটি সংরক্ষণ করতে থাকেন এবং এভাবেই ২৭২ বৎসর কেটে যায় । পরবর্তীতে ১৬১০ খ্রীষ্টাব্দে মোঘল সম্রাজ্যের আমলে ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠা হলে চিশতীয়া মহল্লা এলাকাটি ঢাকা শহরে অন্তভূক্ত হয় । এই সময়ের পূর্বের ২৭২ বৎসরে এই মাজারটি তৎকালীন এলাকাবাসীর কাছে গভীর শ্রদ্ধার সাথে একটি পূর্ণ্যময় স্থান রূপে বিবেচিত হতে থাকে । মোঘল আমলে ইসলাম খাঁ বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি ঢাকা শহরের রমণা এলাকার এই স্থানে "বাগ-এ- বাদশাহী" নামে এক সুরম্য বাগান তৈরী করেন। এই বাগানেরই একাংশে তিনি ওলী-এ-বাংলার মাজারটির এক গুম্বুজ বিশিষ্ট পাকা দালান নির্মাণ করেন। তার নির্মীত এই দালানটি বর্গাকৃতি। বর্গাকৃতি এই দালানটির মধ্যস্থানে হযরত শাহ্ খাজা শরফউদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর মাজার অবস্থিত । মাজার সহ এই বর্গাকৃতির এই দালানটি অদ্যবধি অক্ষুন্ন রূপে বলবৎ আছে । বর্তমানে মাজারটির চারপাশে সুরম্য মসজীদ নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯০৫ সালে মাজার এলাকাটি তৎকালীন বৃটিশ সরকার কতৃক আবাদ করে এখানে বাংলার ছোট লাটের বাসঘৃহ নির্মাণ করা হয় যা ১৯৪৭ সাল পরবর্তী সময়ে ঢাকা হাইকোর্ট ভবনে পরিণত হয় । এই কারণেই ওলী-এ-বাংলার মাঝারটি লোক মূখে হাইকো র্ট মাঝার শরীফ রূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৪ সালে ঢাকা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব মাহবুব মোর্শেদ মাঝারের সুষ্ঠ পরিচালনার স্বার্থে মাঝারটির কতৃত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ভূমিতে মাঝার মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় এই মন্ত্রণালয় থেকে মাঝার মসজিদের ভূমি চিহ্নিত করে
চারপাশে লোহার গ্রীলের সীমানা বেষ্টনী দেয়া হয়। ঐ সময় হতে ওলী-এ-বাংলার মাঝারের ব্যাবস্থাপনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মহোদয় গণের সমন্বয়ে হাইকোর্ট মাঝার প্রসাসন কমিটি গঠিত হয়, যা বর্তমানে পরিবর্তীত নাম সুপ্রীম কোর্ট মসজিদ ও মাঝার প্রসাশন কমিটি নামে বলবৎ আছে ।
মাযার মসজিদ প্রসাশন
ওলী-এ-বাংলার মাযার মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে অবস্থিত হওয়ায় এটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির উপর ন্যাস্ত রয়েছে । মাননীয় প্রধান বিচারপতির মনোনিত ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রশাসন কমিটি মাঝার মসজিদের প্রশাসন পরিচালনা করেন। এই কমিটি সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে মাঝার মসজিদের ভক্ত আশেকান ও মুসল্লিদের প্রদত্ত নজর, নেওয়জ , দান সদকা'র মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জমা করা হয় ও কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে বিভিন্ন কার্যক্রমে তা খরচ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে মাঝার প্রশাসন কমিটিতে নিন্মে উল্যেখিত মাননীয় বিচারপতিগন সভাপতি ছিলেন।
(১) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, বি,এ সিদ্দিক, ১৯৬৪-১৯৬৯
(২) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, এ,বি, মাহমুদ হোসেন ১৯৬৯-১৯৭৪
(৩) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, আহসানউদ্দিন চৌধুরী ১৯৭৪-১৯৭৮
(৪) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, রুহুল ইসলাম ১৯৭৮-১৯৮৩
(৫) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, এ, টি, এম, মসউদ ১৯৮৩-১৯৯৮
(৬) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, মোহাম্মদ আবদুর রউফ , ১৯৯৮-২০০২
(৭) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, রুহুল আমিন,২০০২-২০০৪
(৮) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, মোহাম্মদ ফজলুল করিম, ২০০৪-২০০৮
(৯) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, জয়নুল আবেদিন, ২০০৮-২০১০
(১০) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান, ২০১০-২০১১
(১১) মাননীয়, বিচারপতি জনাব, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ২০১২ বর্তমান ।
সুপ্রীম কোর্ট মসজিদ ও মাঝার প্রশাসন কমিটির অধীনে মাঝাঁর মসজিদের খেদমতে সার্বক্ষণিক কর্মচারীর সংখ্যা ৪০/৪৫ জন । মাঝার মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে একটি হেফজখানা ও লাল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে এবং সেখানে ৩০ জন ছাত্র দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত ও কোরআনে হাফেজ হওয়ার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হচ্ছে ।
অনুমোদিন চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম দ্বারা মাযার মসজিদের তহবিল নিয়মিত বার্ষিক অডিট করানো হয় এবং কঠোর
নজরদারীতে মাযার মসজিদের তহবিল বিলি ব্যাবস্থা করা হয় ।
মাযার মসজিদের উন্নয়ন
ঢাকার নওয়াব আহসান উল্লাহ কতৃক পূনঃনির্মিত মাঝার শরীফের দক্ষিণের টিনসেড বারান্দায় মাঝারের আশেকান ও ভক্তবৃন্দ ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করতেন ।
১৯৭৪ সালে এই টিনশেড বারান্দার স্থলে পাকা মসজিদ গৃহ নির্মাণ কাজ শুরু হয় ও দরগা শরীফটি ভেতরে রেখে ১৯৮০ সালে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে তা পূর্ণাঙ্গ জামে মসজিদে পরিণত হয়। ক্রমে ক্রমে এই মসজিদে অধিক মুসল্লির সমাগত হতে থাকলে এতে স্থানাভাব দেখা দেয়, ফলে ১৯৯৬ সালে মসজিদ সম্প্রাসারনের কার্য হাতে নেয়া হলে বর্তমানে মাঝার এলাকার সমস্ত চত্ত্বরেই মসজিদের গৃহ বর্ধিত করা হয়েছে। এই নির্মাণ কার্যে মাঝার তহবিল ও ভক্তদের দান অনুদানে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যায় হয় । বর্তমানে মসজিদের মোট মেঝের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট। ২০১১ সালে মাঝার মসজিদ কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মাননীয় বিচারপতি জনাব শাহ্ আবু নাঈম মোমেনুর রহমান মহোদ্ধয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মাযার মসজিদে র সামগ্রীক উন্নয়নসহ মসজিদ অভ্যন্তরে মাযারের প্রবেশ পথে ভাস্কর মৃণাল হক একটি সোনালী গেট প্রতিষ্ঠা করলে মাযারের প্রবেশর পথটির উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব, এ, বি, এম, খায়রুল হক মহোদ্ধয়ের নির্দেশে মাযার মসজিদে পূর্বদিকের লোহার গ্রীলের সীমানা বেষ্টনী অপসারণ করা হলে মসজিদের বর্ধিত অংশটি এখন পূর্বদিকস্ত রাস্তার ওপর উন্মুক্ত হয়ে গেছে । ফলে রাস্তা থেকে সরাসরি মসজিদে ঢোকার জন্য বিশাল কাঠের গেট স্থাপন করা হয়েছে । এই সকল উন্নয়ন কার্য মাযারের আশেকান ও ভক্তবৃন্দের অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সমগ্র মসজিদে একত্রে ৩ হাজার মুসল্লির । নামাজ আদায়ের ব্যাবস্থা আছে ।
মাযার মসজিদের স্থাপনা সমূহ
মাযার মসজিদ প্রকল্পের ভেতরে নিন্মরুপ স্থাপনা আছে
১: মসজিদ গৃহ অভ্যন্তরস্থ ওলী-এ-বাংলার বর্গাকার পবিত্র দরগাহ
২: মাযার সংলগ্ন মূল মসজিদ (মহিলা অংশ সহ)
৩: বর্ধিত মসজিদ অংশ (পূর্বদিকে)
৪: হেফজখানা
৫: রান্না মহল ।
৬: মাযার মসজিদ প্রশাসন দপ্তর ।
৭: অজু ও গোসল খানা । । ।
মাযার মসজিদের কার্যক্রম
প্রতিদিন মসজিদের পুরুষ ও মহিলা অংশে পাঞ্জেগানা সালাত আদায় করা হয় । প্রচুর পুরুষ ও মহিলা মুসল্লি পাঞ্জেগানা সালাতে শরীক হন । মাহে রমযানে খতমে তারাবিহ, কায়েমুল লায়েল সালাত আদায় সহ প্রত্যেক নামাজ অন্তে জিকির আসগার ও মিলাদ মাহফিল বয়ান ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় । এ ব্যাতিত মাযার প্রশাসন কমিটি নিন্মরূপ কার্যক্রম করে থাকে।
১; দৈনিক দুঃস্থ জনগণের জন্য লঙ্গর খানা প্রস্তুত ও বিতরণ করা হয় । এতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০জন দুঃস্ত ব্যাক্তি কে খাবার
প্রদান করা হয় ।
২; মাযার মসজিদে প্রদত্ত নজর, নেওয়াজ , দান ও সদকা'র অর্থ সুষ্ঠরূপে সংগ্রহ ও ব্যাবস্থা পনা করা হয় । যার দ্বারা প্রশাসনিক খরচ বাদে দান, ছাত্র বৃত্তি, ওরশ খরচ , ধর্মীয় অনুষ্ঠানের খরচ ত্যাদি সংকুলান করা হয় ।
৩: ভক্ত আশেকানদের এবাদত বন্দেগী সঠিক ও সুষ্ঠ ভাবে সমাধানে সহায়তা করাসহ ও সকল অনাচার পরিহার করে ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা হয় ।
৪: সকল ধর্মীয় গুরত্বপূর্ণ দিন গুলিতে মাহফিল অনুষ্ঠান করা এবং ভক্ত ও আশেকানদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয় ।
৫: তরিকত্বের অন্যান্য ওলীগনের তথা হযরত মুইনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) হযরত শাহ জালাল (রহঃ) হযরত শাহ্ পরাণ (রহঃ) । হযরত শাহ আলী (রহঃ) । ইত্যাদি ওলীগণের ওরশ মোবারক উপলক্ষে তাদের মাযারে গিলাফ পরানোর ব্যাবস্থা করা হয় ।
৬: হেফজখানা লিল্লাহ বোডিং এর মাধ্যমে কোরআনে হাফেজ তৈরী করা হয় ।
৭: দুঃস্থ ও মারাত্নক রোগে আক্রান্ত দরিদ্র জনগণকে আর্থিক ও দ্রব্যাদি দ্বারা সাহায্য করা হয় ।
৮: শিক্ষা প্রসারে ছাত্র/ছাত্রীদের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা করা হয় ।
৯: মাযার মসজিদের উন্নয়ন কার্য বাস্তবায়ন করা হয় ।
১০: মাযার মসজিদের মূখপাত্র ""সিরাজাম মুনীরা""প্রকাশ করা ও ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয় ।
১১: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ জাতীয় ঈদগাহে র নামাজ সমাপ্তির একঘন্টা পরে অনুষ্ঠিত হয় ।
দান, নজর, নিয়াজ ও মানত
ওলী-এ-বাংলার দরবারের ভক্ত ও আশেকানগণ নিয়মিত ভাবে তাদের নজর, নিয়াজ, মানত ও দানের টাকা মসজিদে স্থাপিত বিভিন্ন সিন্দুকে ফেলে থাকেন অথবা রশিদ গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সংগ্রহ কর্মচারীর নিকট প্রদান করেন ।
প্রতিমাসে প্রশাসন কমিটির সদস্য মাননীয় বিচারপতি মহোদ্ধয়গণের তত্বাবধানে এই অর্থ সংগ্রহ করে তা রেকর্ড ভূক্ত করে ব্যাংকে জমা প্রদান করা হয় । এই অর্থ থেকে মাযার মসজিদের প্রশাসনিক খরচ, উন্নয়ন খরচ, বাৎসরিক অনুষ্ঠানের খরচ দুঃস্বদ্বেয় সহযোগিতার খরচ সংকুলান করা হয় । দান, নজর, নিয়াজ, ও মানতের অর্থ ব্যাতিত কোন কোন ভক্ত প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ব্যায়ভার বহন করে থাকেন।
এই সকল দানেই দরবারে ওলী-এ-বাংলার মাযার মসজিদ সমগ্র প্রকল্পটি ঢাকা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনোরম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। একটি ধর্মীয় অনাচার বিহীন মায়াররূপে এটি বর্তমানে ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে ।
বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুচী
(১) আখেরী চাহার সোন্বা মোবারক ২৩শে সফর দিনের মর্তবা সংকান্ত্র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ।
(২) শাহ পরান (রঃ) ওরশ মোবারক - ৪ ও ৫ই রবিউল আউয়াল- তার পবিত্র মাযার শরীফে গিলাফ প্রেরণ করা ।
(৩) ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী সঃ ১১ ও ১২ ই রবিউস আউয়াল-- ২দিন ব্যাপী আলোচনা ও দোয়ার মাহফিল।
(৪) ফাতেহা-ই -ইয়াজদাহম -- ১১ ই রবিউস সানী-- মিলাদ মাহফিল ও জিকির আসগার।
(৫) খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতী (রহঃ) ওরশ মোবারক --৬ই রজ্বব -- দিনব্যাপী কোরানখানী লঙ্গর বিতরণ ও দোয়া মাহফিল।
(৬) ওলী-এ-বাংলার ওরশ মোবারক --১৯ ও ২০ শে , রজ্বব -- দুইদিন ব্যাপী আলোচনা ও দোয়ার মাহফিল।
(৭) শব-ই-মেরাজ --২৭শে রজ্বব --মিলাদ জিকির আসগার ও দোয়া মাহফিল।
(৮) শব-ই-বরাত --১৪ ই সাবান --জিকির মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল।
(৯) শব-ই-কদর --২৬ শে রমযান --মিলাদ, জিকির আসগার , ও দোয়ার মাহফিল।
(১০) জুময়াতুল বিদা --২৮ শে রমযান --বাদ জুম্মা বিশেষ মোনাজাত ।
(১১) শাহ জালাল (রহঃ) এর ওরশ মোবারক। --১৯ ও ২০ শে জিলকদ -- তার প্রবিত্র মাযার শরীফে গিলাফ প্রেরণ এবং মিলাদ মাহফিল ও জিকির আসগার দোয়া মাহফিল।
(১২) হযরত শাহ আলী (রহঃ) এর ওরশ মোবারক, -- ২ রা জালহজ্ব,-তার পবিত্র মাযার শরীফে গিলাফ প্রেরণ এবং মিলাদ, জিকির আসগার ও দোয়া মাহফিল।
(১৩) পবিত্র আশুরা-- ১০ ই মহরম-- আলোচনা মিলাদ , যিকির আসগার ও দোয়া মাহফিল।
__________________________________ __________________ _
উল্লেখিত পবিত্র দিনগুলিতে মাযার মসজিদ অভ্যন্তরের অনুষ্ঠানাদিতে সকল ভক্ত ও আশেকান ভাইগন অংশ গ্রহণ করে থাকেন। পবিত্র ওরশ মোবারক অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচার প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত থাকেন।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানাদিতে ওয়াজিন হিসাবে প্রতখ্যাত ইসলামিক বক্তাগণ ওয়াজ করে থাকেন। মাযার মসজিদের ওয়েব
সাইট ঃ WWW.highcourtmazar.webs.com এ সংক্রান্তে বিস্তারিত প্রোগ্রাম পূর্বেই প্রচার করা হয়।
মাযার জিয়ারত করার সময় ও নিয়মাবলী
প্রত্যেক ওয়াক্তিয়া নামাজের পূর্বে ১ ঘন্টা ও পরে ১ ঘন্টা দরগা শরীফের দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়। এই সময়ে ভক্ত আশেকানগণ দরগা শরীফের ভিতর প্রবেশ করে ওলী-এ-বাংলার মাযার জিয়ারত করতে পারেন।
মসজিদের মহিলা অংশের দক্ষিণ দিক দিয়ে মাযার জিয়ারত করার জন্য উন্মুক্ত জানালা আছে। এ স্থানে দাড়িয়ে মহিলা মুসল্লিগণ মাযার জিয়ারত করতে পারেন।
দরগা শরীফের দরজা বন্ধ থাকাকালিন সময়ে বাইরে থেকে মাযার যে কোন সময়ে জিয়ারত করা যায়। সহীহ হাদিসে আছে জিয়ারত করা সুন্নাত , সপ্তাহে ১ দিন কবর জিয়ারত করা মুস্তাহাব। বৃহস্পতি বার /শুক্র/শনি/রবি/সোম বারে জিয়ারত করা ভালো। তবে শুক্রবারে প্রত্যুষে জিয়ারত করা উত্তম।
মাযার জিয়ারতে ধর্মীয় নিয়মাবলী
জিয়ারতকারী মরহুমের পায়ের দিক হতে অতিক্রম করে মূখমন্ডলের সন্মুখীন হয়ে নিম্ন বর্ণিত দোয়া পরবেন।
বাংলা উচ্চারণঃ- আস্ সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল দাআরেন কাওমেন মুমেনীনা আনতুম লানা সালফুন ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহ বিকুম লা হিকুনা নাসয়ালাল্লাহ লানা ওয়া লাকুম আল আফওয়া ওয়াল আফিয়াত ইয়ার হামদুল্লাহ আলমুসতাক দিমিনা মিন্না ওয়াল মুস্তাউন খিরিনা ।অতপর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সুরা ফাতেহা ১ বার । সুরা বাকারার ৫ আয়াত তথা- আলিফ লাম মীম, হতে ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহুন , পর্যন্ত এবং শেষ ২ আয়াত " আমানার রাসূল " হইতে শেষ পর্যন্ত এবং সুরা তাকাসুর " একবার এবং সুরা "এখলাস" ৭ বার কিংবা ৩ বার তেলোয়াত করে নিয়ম অনুযায়ী এর সওয়াব মরহুমের প্রতি বখশাইয়া দিতে হবে।
অথবা
* বিকল্পে সুরা ফাতেহা ১ বার, সুরা এখলাস ৩ বার, সুরা ফালাক ১ বার ও সুরা নাস ১ বার পাঠ করে মরহুমের প্রতি সওয়াব বখশাইয়া দিতে হবে ।
* যাহারা উল্লেখিত দোয়া সুরা সমূহ পড়তে পারেনা তারা যেকোন সুরা, আয়াত অথবা তসবীহ (সুবাহানা আল্লাহ) ও দরুদ শরীফ পড়ে সওয়াব রেসানী করতে পারবেন।
সাবধানতা
*কবর জিয়ারত করতে শিরক ও বিদআত হতে নিজেকে পবিত্র রাখুন । মাযার শরীফে সিজদা করা হারাম ।
* মসজিদ ও মাযারে "সামা" জাতীয় সংগীত গাওয়া কিংবা যে কোন ধরনের সুরেলা আওয়াজ করা হারাম।
* মসজিদে গলার স্বর উচ্চ করবেন না । এতে অপরের এবাদত
বন্দেগীতে অসুবিধা সৃষ্টি হয় ।
* মসজিদ এবাদত বন্দেগীর স্থান। এস্থানে উচ্চ স্বরে কথা বলা ঝগড়া ফ্যাসাদ করা, তবারকের খাদ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা জোর জবরদস্তি করে নেয়া হারাম ।
* সিন্দুকে টাকা ফেলা ব্যাতিত রশীদ ছাড়া মাযার মসজিদের কোন খাদেমের হাতে দান, নজর, নেওয়াজের টাকা দেয়া নিষিদ্ধ।
* দরগায় গিলাফ পড়ানো কিংবা চাদর দেয়ার জন্য যথাযত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
* মাযার মসজিদে সকল প্রকার অনাচার , বিদাত ও হারাম কার্য থেকে বিরত থেকে ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখুন।
*মহিলা মসজিদ অংশে হৈ চৈ করা কিংবা পর্দা পুশিদার খেলাপ করা হতে বিরত থাকুন।
ঢাকা শহরের অন্যান্য দরগা শরীফের তথ্য
১/ হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহঃ) এর মাযার মিরপুর ঢাকা।
২/ হযরত গোলাপ শাহ্ (রহঃ) এর মাযার, গুলিস্তান, ঢাকা ।
৩/ বেগম বাজার মাযার, বেগমবাজার , কোতোয়ালী,ঢাকা ।
৪/ পীর কামেল হযরত মাওঃ হাফেজ আহমেদ (রঃ আঃ) এর মাযার , চকবাজার, কোতোয়ালী ঢাকা ।
৫/ হযরত জরিপ শাহ্ (রঃ আঃ) এর মাযার, নিমতলী, ঢাকা ।
৬/ হযরত শাহ্ ইলিয়াস (রঃ আঃ) এর মাযার, মৌলভী বাজার , ঢাকা।
৭/ হযরত শাহ্ মালেক পীর ইয়ামেনী (রঃ আঃ) এর মাযার, ৪৪ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২২৭ ।
৮/ হযরত শাহ্ সুফী মোঃ দায়েম (রঃ আঃ) এর মাযার, বড় দায়রা শরীফ , আজিমপুর ঢাকা ।
৯/ হযরত মঙ্গল শাহ্ (রঃ) এর মাযার, ঢালকা নগর , সুত্রাপুর, ঢাকা ।
১০/ হযরত শাহ্ নওয়াব আলী (রহঃ) রেজা শাহ্ এর মাযার ,
৭৯, সতীশ সরকার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা।
১১/ হযরত আবু নাসের মোহাম্মদ নাজিমুদ্দীন চিশতী (রহঃ) এর মাযার, জুরাইন , ফরিদাবাদ, ঢাকা।
১২/ ছোট দায়রা শরীফ মাযার, ৪২/২ আজিমপুর রোড ঢাকা ।
১৩/ হযরত শাহ্ সৈয়দ আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ (রঃ আঃ) এর মাযার , লক্ষিবাজার , শাহ্ সাহেব বাড়ি, ঢাকা ।
১৪/ হযরত শাম্ সৈয়দ পীর মোহাম্মদ আলী (রঃ আঃ) এর মাযার, ২০/২ আবুল হাসনাত রোড, ঢাকা ।
১৫/ হযরত শাহ্ আহসানুল্লাহ (রঃ আঃ) এর মাযার, নারিন্দা, ঢাকা।
১৬/ হযরত শাহ্ কবীর (রঃ আঃ) এর মাযার, উত্তরখান, উত্তরা ঢাকা ।
১৭/ হযরত শাহ্ আবদুল্লাহ (রঃ আঃ)এর মাযার, বাবুপুরা, নীলক্ষেত, ঢাকা ।
১৮/ হযরত শাহ্ পীর জঙ্গি (রঃ আঃ)এর মাযার, মতিঝিল, ঢাকা ।
১৯/ হযরত সৈয়দ মাহবুব কাদের ইলিয়াস (রঃ আঃ)এর মাযার, ২৯ আজিমপুর রোড, ঢাকা ।
২০/ হযরত শেখ ফরিদ (রঃ আঃ)এর মাযার , কমলাপুর, ঢাকা ।
২১/ হযরত হিন্সল শাহ্ (রঃ আঃ) এর মাযার, কাকরাইল, মগবাজার, ঢাকা ।
২২/ হযরত শাহ্ পীর জঙ্গি (রঃ আঃ) এর মাযার, ১৭৬, আজিমপুর রোড, ঢাকা ।
২৩/ হযরত খাজা শাহবাজ (রঃ আঃ)এর মাযার, সোহওয়ার্দি উদ্যান সংলগ্ন, ঢাকা ।
২৪/ হযরত খোদা বক্স (রঃ আঃ)এর মাযার, ৭৫/জি, আজিমপুর এস্টেট, ঢাকা ।
২৫/ হযরত ইব্রাহীম আদহাম খলিল (রঃ আঃ)এর মাযার, আজিমপুর এস্টেট, ঢাকা ।
২৬/ হযরত শাহ্ পঙ্খি (রঃ আঃ) এর মাযার, ৪৭, উত্তর বেগুণবাড়ী, তেজগাঁও, ঢাকা ।
২৭/ হযরত পীর শাহনুরী (রঃ আঃ)এর মাযার, মগবাজার, রমণা, । ঢাকা ।
২৮/ হযরত শাহ্ কামাল (রঃ আঃ) এর মাযার, আজিমপুর ঢাকা ।
২৯/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন, ঢাকা ।
৩০/ হযরত শাহ্ জালাল (রঃ আঃ)দুঃখিনী এর মাযার, বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে, ঢাকা
এ সকল মাযার ব্যাতিত ঢাকা ও তার আশেপাশে আরও বহু মাযার রয়েছে, এই তালিকা দেখতে ভিজিট করুন : www.bangladeshmazar.webs.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন