নারায়ে চিশতীয়া ইয়া খাজা গরীব উন নওয়াজ
আনিসুল আরওয়াহ্
হযরত খাজা গরনওয়া
হযরত খাজা ওসমান হারুণী (রহঃ) সংক্ষীপ্ত জীবনি
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ খোরাসানের অন্তগত নিশাপুরের অদুরে হারুণ নামক এক প্রখ্যাত গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন, সাত বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরান মুখস্ত করে হাফেজে কোরান" এর মর্যাদা অর্জন করেন । এরপর তিনি ধর্মীয়
শিক্ষা র বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান লাভ করেন। তিনি প্রতিদিন দু বার করে কোরান খতম করতেন। জওহরে ফরিদী কিতাবে বর্ণিত আছে,তিনি ৭০ বছর পর্যন্ত কঠিন সাধনায় লিপ্ত ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কখনও তিনি পেট ভরে আহার বা পান করেননি। তিনি রাত্রে নাম মাত্র বিশ্রাম নিতেন।সারা জীবনে কখনও তিনি দূনিয়ার ঐশ্বর্যের প্রতি লালায়িত ছিলেন না। তিনি প্রায় বলতেন ,দুঃখ হয় ঐসব দরবেশদের জন্য যারা পেট ভরে আহার করে ও দুনিয়ার ঐশ্বর্যকে কজ্বা করে।অথচ,দুনিয়াদারীকে আল্লহ ঘৃণার চোখে দেখেন। আল্লহর প্রেমিকদের উচিত নয় ,তারা আল্লহর ঘৃণার বস্তুকে গ্রহন করে। তিনি: মুজিবুদ্দাওয়াত:ছিলেন অর্থাৎ যে দোয়া তিনি আল্লাহর দরবারে করতেন,সেটা গৃহীত(কবুল)হতো।সামার মজলিসে অর্থাৎ গানের মজলিসে গান শ্রবণ করে অঝোরে কাঁদতেন।মজলিসে অন্য কাউকে কাঁদতে দেখলে তিনি চিৎকার দিয়ে কাঁদতেন। তিনি হামেশাই(প্রায়ই)রোজাব্রত পালন করতেন। একাধিক ক্রমে ৫ দিন রোজাব্রত(সিয়াম)পালন করার পর ইফতার করতেন অর্থাৎ ১২০ঘন্টা অনাহারে(রোজা)থেকে তারপর তিনি খাদ্য গ্রহন করতেন। এ অবস্থায় তিনি কারো প্রতি দৃষ্টি দিলে সে প্রাণত্যাগ করে ঈল্লিন(মৃত্যুর পর পূন্যাত্মাদের নিবাস) এ পৌছে যেতো। কাশ্ফ ও কারামত (অন্তদৃষ্টি ও অলৌকিক শক্তি) তার এতো তীক্ষ্ণ ও অগাধ ছিলো যার বর্ণনা কোনো লেখনির পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি জাতে পাকে(প্রবিত্র) এলাহির কুদরতের অর্ণিবান প্রদীপ ছিলেন।তার মধ্য হতে একই সময়ে আল্লাহ জাল্লে শানহুর কুদরতের অসংখ্য নির্দশন ও অগণিত কারামত প্রকাশ হতো। তা র শান ও মর্যাদার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হচ্ছে, জন্মগত ওলিয়ে কামেল(আল্লাহর পরিপূন্য বন্ধু) ওয়ারেসুল আম্বিয়া আলে রসূল(দঃ) নবীদের জ্ঞানের উত্তরাধিকারী, হযরত রসূলে মকবুল(দঃ) এর বংশধর॥আউলিয়া সম্রাট, ইলমে শরিয়ত,তরিকত,মারফত, ও হকিকতের প্রভাকর ও এই উপমহাদেশে সর্ব প্রথম ও সর্বাধিক সংখ্যক বিধর্মীদেরকে মুসলমান ধর্মে দীক্ষা দানকারী, সদাদীপ্ত সেই পরশমনি হযরত খাজা গরীব উন নওয়াজ শায়খ সৈয়দ মঈনুদ্দীন হাসান সন্জরী কাদ্দাসাল্লাহু সাররাহু এর মতো মহামানবকে যিনি স্বীয় মুরিদের মধ্যে পেয়েছেন,তার অপরাপর কারামত ও মর্যাদা বর্ণনার প্রোয়োজন রাখে না॥
হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রঃ) যখনমুরীদ হওয়ার জন্য হযরত খাজা হাজী
শরীফ জিন্দানী (রঃ) এর দরবারে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি তার বাঞ্চিত পীর মুর্শেদ হযরত খাজা শরীফ জীন্দানাী(রঃ) এর কদম মোববারকে পরে বলতে লাগলেন, ওসমানের খায়েশ(বাসনা) আপনার ত্বরিকা(আল্লাহ প্রাপ্তির পথ) গ্রহন করা।
হযরত খাজা শরীফ জিন্দানী রহমতুল্লাহে আলায়হে তাকে অত্যাগ্রহে স্বীয়
মুরীদ করে কুল্লাহ চাহার তর্কী(চার টুকরা কাপড়ের তৈরী গোল টুপি, যাহা চির্শতীয়া তরিকার পীরগন কাউকে উপযুক্ত মনে করলে মুরীদ করার সময় প্রদান করতেন) স্বীয় হস্তে হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজকে (আল্লাহ্ তার রহস্যকে প্রবিত্র রাখুন)মাথায় পরিয়ে দিলেন ,এবং এরশাদ করলেন হে ওসমান, যখন তুমি এ টুপি পরিধান করলে তখন তোমার উচিৎ এর হক (প্রাপ্য) প্রধান করা বা সম্পাদন করা, এবং (রহঃ) এর হক আদায় করতে তোমার প্রথম কাজ হবে, দুনিয়াদারী ত্যাগ করা ও দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু হতে নিজেকে মুক্ত করা॥
দ্বিতীয় কাজ হবে লোভ লালসা ও অহংকার বর্জন করা॥
তৃতীয় কাজ হলো=নফসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলা॥ চতুর্থ কাজ হলো=রাতে এলাহীর জেকেরে মশগুল থাকা এবং শয়ন না করা॥ আমাদের শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ (পীরগণ)বলেছেন যে, কুল্লাহ চাহার তর্কী পরিধান করে সে স্বীয় অন্তনর মনকে আল্লাহ্ র জন্য উৎসর্গ করে॥ হযরত খাজায়ে আলম (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়াস্ সালাম কে প্রথম এই কুল্লাহ্ চাহার তর্কী জীব্রাইল আলায়হে ওয়াস্ সালাম আল্লাহ্ তায়লারদিক থেকে প্রদান করেন,এবং বলেন ,আপনি এটা পরিধান করুন এবং যাকে খুশী দান করে খলিফা নিযুক্ত করুন॥
হযরত রসূলে মকবুল (দঃ) এ টুপি পরিধান করার পর দরিদ্রতা ও উপবাসকে(রোজা) সঙ্গী হিসেবে গ্রহন করে ছিলেন॥
এ টুপি যখন হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু পরিধান করেছিলেন তিনি তখন
হুজুর করিম (সাঃ) এর মতো দরিদ্রতা ও রোজাব্রত পালন করতেন॥
এ ভাবেই তরিকার বংশ পরম্পরায় এ টুপি তার হক অর্থাৎ দাবি নিয়ে আমার নিকট পৌছেছে এবং আমি তোমার নিকট পৌছালাম, তুমিও পূর্বসুরিদের পথ অনুসরণ করবে॥
এরপর খাজা শরীফ জিন্দানী (রঃ) বললেন , হে ওসমা আমি তোমাকে হুকুম দিচ্ছি যে, আল্লাহর ইবাদতে রাতদিন
মশগুল থাকবে, দরিদ্রতা ও উপবাস (রোজা) জীবন যাপন করবে এবং বস্তুজগৎ ও তাতে নিমজ্জিত ব্যাক্তিগন হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে॥
হযরত খাজা ওসমান কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ বললেন, আমি আপনার সমস্ত উপদেশ কবুল(গ্রহণ) করলাম॥
এরপর স্বীয় পীরের খানকা শরীফে তিন বছর উপস্থিত থেকে ইবাদত ও মুজাহেদায়(উপাসনা ও সাধনা) নজীরবিহীন
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন॥ হযরত খাজা শরীফ জীন্দানী (রঃ) যখন তার এ কঠোর রিয়াজত (সাধনা)অবলোকন করলেন
তখন তাকে সাজ্জাদাহ নশীন (তরিকার শাসন ক্ষমতা দান করে) খলিফা নিযুক্ত করলেন ,এবং চিশতীয়া তরিকার পীরগন কর্তৃক বংশ পরম্পরায়(সিলসিলাহ্ -ব- সিলসিলাহ্) প্রাপ্ত ইস্ মে আজম(আল্লাহ্ র সর্ব শ্রেষ্ঠ নাম, যা আল্লাহর আউলিয়া ছাড়া জানেনা)
হযরত খাজা ওসমান হারুণী (কুঃ সেঃ আঃ) কে দান করলেন॥সাথে সাথেই আল্লাহ তায়লার কুদরতের, জ্ঞানসমূহ তার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হলো॥ যখন তিনি নামাজ পরতেন, তখন অদৃশ্যলোক হতে আওয়াজ আসতো, হে ওসমান
আমি তোমার নামাজ কবুল করলাম, তোমার যা কিছু চাওয়ার আছে চাও, তিনি নামাজ শেষ করে, প্রার্থনার মাধ্যমে
বলতেন ,হে বারে এলাহী, আমি তোমার কাছে তোমার মারেফাত (পরিচয় জ্ঞান) চাই, এ দোয়ার পর পূনরায় আওয়াজ হলো, হে ওসমান আমি তোমার দোয়া কবুল করে, আমার মারেফাত দান করলাম, আরো কিছু চাওয়ার থাকলে চাও॥
তখন হযরত ওসমান হারুণী(রঃ) সেজদারত হয়ে , দোয়া চাইলেন, ইয়া এলাহী, তুমি তুমি আমাদের রসূলে মকবুল ও তোমার প্রিয় হাবীব(বন্ধু) হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল ল্লামের গোনাহগার উম্মতদেরকে ক্ষমা কর॥
উত্তর এলো, হে ওসমান তোমার দোয়ার সম্মানে ত্রিশ হাজার গোনাহগার কে ক্ষমা করা হলো॥
এ রকম ঘটনা, খাজা ওসমান হারুণী (রঃ) এর জীবনে, প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত(সময়) নামাজে বিরামহীন ভাবে ঘটতো,এবং যতোদিন পৃথিবীর অধিবাসী হিসেবে দুনিয়ায় অবস্থান করেছিলেন , শেষদিনে শেষ নামাজটিতে ও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল ॥ সুতারাং তার ৭০ বছর দুনিয়ার জীবনে সর্বমোট কত সংখ্যক গোনাগার উম্মত তার দোয়ার বরকতে ক্ষমা লাভ করেছে তা অনুধাবনকরার বিষয়॥ তার জীবনের ছোট্র একটা কারামত(অলৌকিক ক্ষমতা) হযরতখাজা গরীব-উন নওয়াজের মুখে শ্রবণ করুণ॥
আমার এক প্রতিবেশী পীর ভাই ,তরিকার নিয়ম কানুন মেনে চলতো না, হঠা মারা গেল॥ নিয়ম অনুযায়ী তাকে দাফন(( ইসলামের বিধান অনুযায়ী মৃতদেহকে নতুন পোশাকে আবৃত করে মাটির তলায় শায়িত করানো) করে যে যার কাজে চলে গেলো ॥ কিন্তুু কৌতূহল বশতঃ আমি কবরের পাশেই দুনিয়া হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে খানিক ক্ষণ বসে রইলাম॥
এমন সময় দুইজন ফেরেস্তা এসে কবরে অবতরণ করলো॥ দেখেই বুঝতে পারলাম এরা আযাবের ফেরেস্তা( আল্লাহর প্রেরিত শাস্তি প্রধানকারী দূত) কবরে নেমেই তারা আমার পীরভাইকেশাস্তি দিতে উদ্যত হলো॥
এমন সময় আমার পীর ও মুর্শেদ খাজা ওসমান হারুণ কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ, ফেরেস্তাদ্বয়ের সমূখে উপস্থিত হয়ে বললেন, এ লোককে শাস্তি প্রদান করতে পারবেনা,কারণ এ আমার মুরিদ॥ ফেরেস্তাদ্বয় আল্লাহর বন্ধুর সম্মানার্থে চলে গেলো॥ কিন্তু একটু পরেই ফিরে এসে বললো, হুজুর এ লোক আপনার মরীদ একথা অবশ্যই সত্য কিন্তু এ আপনার তরিকার কর্ম হতে বিরত ছিলো॥ হুজুর এরশাদ করলেন, তার কর্ম যাই হোক না, সে নিজেকে আমার নিকট সমর্পণ করায় ,তার কর্ম আমার কর্মের সংগে সংযুক্ত হয়ে গেছে॥ এতএব , তার রক্ষণাবেক্ষণ আমার কর্তব্য ॥ হুজুর ফেরেস্তাদেরকে তার বক্তব্য পেশ করার সাথে সাথেই ফেরেস্তাদের প্রতি আল্লাহতায়লার হুকুম হলো, তোমরা চলে এসো,তাকে শাস্তি দিওনা, আমি আমার বন্ধুর সম্মানে তাকে ক্ষমা করে দিলাম॥
হযরত খাজা ওসমাসন হারুণী(রহঃ)এর কার্শফ ও কারামত ও অন্যান্য বিষয়ে জানতে হলে তার জীবনী পাঠ করুন॥ হযরত খাজা ওসমান হারুণী(কুঃ সেঃ আঃ)এর অগনিত খলিফা ছিলেন, তন্মধ্যে হিন্দুস্থানে
প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন চারজন, এবং সমস্ত খলিফাদের মধ্যে তরিকার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, এবং তরিকার আমানত ছিলো, হযরত ওয়ারেছুল আম্বিয়া, খাজায়ে খাজেগান, শায়খ মঈনুদ্দীন হাসান চির্শতী
সনজরী, ওরফে খাজা গরীব উন নওয়াজ(রহঃ)এর উপর॥
হিন্দুস্থানের দ্বীতিয় প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ তুর্ক (রহঃ)মাঝার শরীফ দিল্লীর
কাছাকাছি নারনোল নামক স্থানে অবস্থত॥
তৃতীয় প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সাইয়্যেদি লাঙ্গোচি(রহঃ)এর মাঝারশরীফ নারনোলে অবস্থিত॥ চতুর্থ খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সৈয়দ শায়খ নিজামুদ্দীন ছোগরা(রহঃ)এর মাঝারশরীফ দিল্লীতে অবস্থিত॥
হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ) এর বেছাল মোবারক (দেহত্যাগের মাধ্যমে মহামহিমের সাথে মহামিলন)
৫ই শাওয়াল ৬০৭ হিজরিতে হয়েছে॥ রওজা মোবারক মক্কা মোয়াজ্জেমায় কাবা শরীফের বায়ে জান্নাতুল
মুয়াল্লতে অবস্থিত॥কিন্তু সেখানে ওহাবী শাসন কায়েমের পর মক্কা মোয়াজ্জেমা ও মদিনা মনোয়ারা তথা
সমগ্র সৌদি আরবের এক মাত্র রসুলে মকবুল(দঃ) এর রওজা মোবারক ব্যাতিত সমস্ত মাঝারশরীফ,
ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, এবং বহু স্থানে সই সব মাঝারের উপর এখন প্রাসাদ গড়ে উঠেছে॥
অর্থাৎ পুস্তক ব্যাতিত হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ)এর মাঝার শরীফের চিহ্ন ও সেখানে খুজে পাওয়া সম্ভব না ॥
আমি দোয়া প্রার্থী ,ঘৃণিত মুসলমান, অকর্মণ্য ফকির, আল্লাহর গোলাম ,মঈনুদ্দীন হাসান সনজরী,
বাগদাদ শহরে হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজের, মাঝারশরীফ
জিয়ারত (দর্শন) ও কদমবুসি (পদচুম্বন) লাভের সৌভাগ্য অর্জন করলাম॥ ঐ সময়ে অনেক মাশায়েখ(পীরগন) আমার মুর্শেদের খেদমতে উপস্থিত ছিলেন যার জন্য ঐ জমিনকে আদবের স্বীকৃতি
হিসাবে, চুমু খেলাম॥ হযরত খাজা শায়খ ওসমান হারুণী(কুঃ সেঃ আঃ) আমাকে এরশাদ করলেন,
দু রাকাত নামাজ পাঠ কর॥ আমি যথার্থভাবে আদেশ পালন করলাম॥
আমার নামাজ শেষ হলে তিনি দাড়িয়ে গেলেন এবং আমার হাত ধরে আকাশের দিকে মূখ করে বলতে
লাগলেন, ইয়া এলাহী আমি মঈনকে তোমার হাতে সমর্পণ করলাম॥
এরপর খানকা শরীফে তরিকার নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন রিয়াজতে,নিজেকে নিয়োজিত করলাম॥
এতপর হযরত খাজা ওসমান (কুঃ সেঃ আঃ) মক্কা - মোয়াজ্জেমায় চলে গেলেন, আমিও তার সঙ্গ লাভ হতে,
বঞ্চিত ছিলাম না॥ সেখানে তিনি আমাকে নাওদান(পানির নালা) এর নীচে দাড় করিয়ে দোয়ায়ে খায়ের( উৎকৃষ্ট প্রার্থনা) করলেন ॥ ঐশীলোক হতে আওয়াজ ভেসে এলো, আমি মঈনুদ্দুীন সন্জরী কে
গ্রহণ করিলাম ।
এরপর আমাকে মদিনিায় নিয়ে গেলেন, যখন হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে সাল্লাম - এর রওজা মোবাকের পার্শ্বে পৌছলাম তখন আমার পীর ও মোর্শেদ, আদেশ করলেন- সালাম করো, আমি সালাম করলাম
রওজা মোবারক হতে আওয়াজ হলো, ওয়া আলায়কুমুস্ সালাম ইয়া কুতুবুল মাশায়েখ" (হে ঐশীজ্ঞান-জগৎতের মাশায়েখদের ধ্রবতাঁরা, তোমার উপর করুনা বর্ষিত হোক) আমার মুর্শেদ এরশাদ করলেন, তোমার কর্ম যে, কামালিয়াত(পরিপূর্ণতার স্থর) পযন্ত পৌছেছে তার স্বীকৃতি পেলে॥
পরে মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা হয়ে আমরা বদখ্ শানে এসে একজন বুজুর্গের সাক্ষাৎ করলাম,
যিনি হযরত জুনায়েত বোগদাদী(রহঃ) এর বংশধর, ছিলেন॥ তার বয়স তখন ১৪০ বছর, তিনি সবসময় ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকতেন॥ তার একটা পা ছিলোনা॥ একেবারে মূল থেকে কাটা ছিলো॥ আমরা দেখে অবাক হয়ে গেলাম॥
পা না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিলেন, আমি দীর্ঘকাল যাবৎ এ ইবদতখানায় অবস্থান করছি॥
নফ্ সের ইচ্ছায় কখনো এক কদমও এ ইবাদত খানার বাইরে বের করেনি, একবার এমন হলো যে, নফ্ সের প্রোরচনায় এ কর্তিত পা টি এবাদত খানার বাইরে বের করেছি , এবং অপরটি বের করে , বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছি, এমন সময় অদৃশ্যলোক হতে আওয়াজ ভেসে এলো, হে প্রেমপ্রার্থী আমার সাথে প্রতিজ্ঞা ভুলে গেলে?
এ আওয়াজ শুনে সাবধান হলাম এবং ওয়াদা ভঙ্গের জন্য অনুতপ্তহলাম॥ ছুরি আমার নিকট মজুদ ছিলো,
তৎক্ষণাৎ খাপ থেকে বের করে যে পা টি বাহিরে , বের করেছিলাম, সেটাকে কেটে বাইরে ফেলে দিলাম॥
এ ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪০ বছর॥ সে সময় হতে আজ পযন্ত সৃষ্টি অবলোকন হতে, বিছিন্ন ও লজ্জীত, আছি এ জন্য যে, কাল কেয়ামতে দরবেশদের সম্মুখে মুখ দেখাবো কি করে॥
আমাদের পরর্বতী গণ্তব্যস্থল ছিলো বোখারা ॥ সেখানকার ছোট বড় সব রকম মাশায়েখদের , সংঙ্গে সাক্ষাাৎ করলাম॥ এদের মধ্যে প্রত্যেকেই এমন সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলো , যাদের প্রশংসা বর্ণনার বহির্ভূত॥
এমনি করে দশটি বছর, পীড় ও মুর্শেদের সঙ্গে ভ্রমণ করে কাটালাম,এবং পরে বাগদাদে পৌছলাম॥ বেশকিছু দিন আমরা বাগদাদে অবস্থান করেছিলাম॥ তারপর আবার দশ বছরের জন্য পীর ও মোর্শেদের সঙ্গে ভ্রমণে বেরোলাম॥
ভ্রমণের উপযোগী প্রয়োজনীয় উভয়ের আসবাবপত্র , আমি মাথায় বহন করে পথ চলতাম॥
আনিসুল আরওয়াহ্
হযরত খাজা গরনওয়া
হযরত খাজা ওসমান হারুণী (রহঃ) সংক্ষীপ্ত জীবনি
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ খোরাসানের অন্তগত নিশাপুরের অদুরে হারুণ নামক এক প্রখ্যাত গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন, সাত বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরান মুখস্ত করে হাফেজে কোরান" এর মর্যাদা অর্জন করেন । এরপর তিনি ধর্মীয়
শিক্ষা র বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান লাভ করেন। তিনি প্রতিদিন দু বার করে কোরান খতম করতেন। জওহরে ফরিদী কিতাবে বর্ণিত আছে,তিনি ৭০ বছর পর্যন্ত কঠিন সাধনায় লিপ্ত ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কখনও তিনি পেট ভরে আহার বা পান করেননি। তিনি রাত্রে নাম মাত্র বিশ্রাম নিতেন।সারা জীবনে কখনও তিনি দূনিয়ার ঐশ্বর্যের প্রতি লালায়িত ছিলেন না। তিনি প্রায় বলতেন ,দুঃখ হয় ঐসব দরবেশদের জন্য যারা পেট ভরে আহার করে ও দুনিয়ার ঐশ্বর্যকে কজ্বা করে।অথচ,দুনিয়াদারীকে আল্লহ ঘৃণার চোখে দেখেন। আল্লহর প্রেমিকদের উচিত নয় ,তারা আল্লহর ঘৃণার বস্তুকে গ্রহন করে। তিনি: মুজিবুদ্দাওয়াত:ছিলেন অর্থাৎ যে দোয়া তিনি আল্লাহর দরবারে করতেন,সেটা গৃহীত(কবুল)হতো।সামার মজলিসে অর্থাৎ গানের মজলিসে গান শ্রবণ করে অঝোরে কাঁদতেন।মজলিসে অন্য কাউকে কাঁদতে দেখলে তিনি চিৎকার দিয়ে কাঁদতেন। তিনি হামেশাই(প্রায়ই)রোজাব্রত পালন করতেন। একাধিক ক্রমে ৫ দিন রোজাব্রত(সিয়াম)পালন করার পর ইফতার করতেন অর্থাৎ ১২০ঘন্টা অনাহারে(রোজা)থেকে তারপর তিনি খাদ্য গ্রহন করতেন। এ অবস্থায় তিনি কারো প্রতি দৃষ্টি দিলে সে প্রাণত্যাগ করে ঈল্লিন(মৃত্যুর পর পূন্যাত্মাদের নিবাস) এ পৌছে যেতো। কাশ্ফ ও কারামত (অন্তদৃষ্টি ও অলৌকিক শক্তি) তার এতো তীক্ষ্ণ ও অগাধ ছিলো যার বর্ণনা কোনো লেখনির পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি জাতে পাকে(প্রবিত্র) এলাহির কুদরতের অর্ণিবান প্রদীপ ছিলেন।তার মধ্য হতে একই সময়ে আল্লাহ জাল্লে শানহুর কুদরতের অসংখ্য নির্দশন ও অগণিত কারামত প্রকাশ হতো। তা র শান ও মর্যাদার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হচ্ছে, জন্মগত ওলিয়ে কামেল(আল্লাহর পরিপূন্য বন্ধু) ওয়ারেসুল আম্বিয়া আলে রসূল(দঃ) নবীদের জ্ঞানের উত্তরাধিকারী, হযরত রসূলে মকবুল(দঃ) এর বংশধর॥আউলিয়া সম্রাট, ইলমে শরিয়ত,তরিকত,মারফত, ও হকিকতের প্রভাকর ও এই উপমহাদেশে সর্ব প্রথম ও সর্বাধিক সংখ্যক বিধর্মীদেরকে মুসলমান ধর্মে দীক্ষা দানকারী, সদাদীপ্ত সেই পরশমনি হযরত খাজা গরীব উন নওয়াজ শায়খ সৈয়দ মঈনুদ্দীন হাসান সন্জরী কাদ্দাসাল্লাহু সাররাহু এর মতো মহামানবকে যিনি স্বীয় মুরিদের মধ্যে পেয়েছেন,তার অপরাপর কারামত ও মর্যাদা বর্ণনার প্রোয়োজন রাখে না॥
হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রঃ) যখনমুরীদ হওয়ার জন্য হযরত খাজা হাজী
শরীফ জিন্দানী (রঃ) এর দরবারে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি তার বাঞ্চিত পীর মুর্শেদ হযরত খাজা শরীফ জীন্দানাী(রঃ) এর কদম মোববারকে পরে বলতে লাগলেন, ওসমানের খায়েশ(বাসনা) আপনার ত্বরিকা(আল্লাহ প্রাপ্তির পথ) গ্রহন করা।
হযরত খাজা শরীফ জিন্দানী রহমতুল্লাহে আলায়হে তাকে অত্যাগ্রহে স্বীয়
মুরীদ করে কুল্লাহ চাহার তর্কী(চার টুকরা কাপড়ের তৈরী গোল টুপি, যাহা চির্শতীয়া তরিকার পীরগন কাউকে উপযুক্ত মনে করলে মুরীদ করার সময় প্রদান করতেন) স্বীয় হস্তে হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজকে (আল্লাহ্ তার রহস্যকে প্রবিত্র রাখুন)মাথায় পরিয়ে দিলেন ,এবং এরশাদ করলেন হে ওসমান, যখন তুমি এ টুপি পরিধান করলে তখন তোমার উচিৎ এর হক (প্রাপ্য) প্রধান করা বা সম্পাদন করা, এবং (রহঃ) এর হক আদায় করতে তোমার প্রথম কাজ হবে, দুনিয়াদারী ত্যাগ করা ও দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু হতে নিজেকে মুক্ত করা॥
দ্বিতীয় কাজ হবে লোভ লালসা ও অহংকার বর্জন করা॥
তৃতীয় কাজ হলো=নফসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলা॥ চতুর্থ কাজ হলো=রাতে এলাহীর জেকেরে মশগুল থাকা এবং শয়ন না করা॥ আমাদের শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ (পীরগণ)বলেছেন যে, কুল্লাহ চাহার তর্কী পরিধান করে সে স্বীয় অন্তনর মনকে আল্লাহ্ র জন্য উৎসর্গ করে॥ হযরত খাজায়ে আলম (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়াস্ সালাম কে প্রথম এই কুল্লাহ্ চাহার তর্কী জীব্রাইল আলায়হে ওয়াস্ সালাম আল্লাহ্ তায়লারদিক থেকে প্রদান করেন,এবং বলেন ,আপনি এটা পরিধান করুন এবং যাকে খুশী দান করে খলিফা নিযুক্ত করুন॥
হযরত রসূলে মকবুল (দঃ) এ টুপি পরিধান করার পর দরিদ্রতা ও উপবাসকে(রোজা) সঙ্গী হিসেবে গ্রহন করে ছিলেন॥
এ টুপি যখন হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু পরিধান করেছিলেন তিনি তখন
হুজুর করিম (সাঃ) এর মতো দরিদ্রতা ও রোজাব্রত পালন করতেন॥
এ ভাবেই তরিকার বংশ পরম্পরায় এ টুপি তার হক অর্থাৎ দাবি নিয়ে আমার নিকট পৌছেছে এবং আমি তোমার নিকট পৌছালাম, তুমিও পূর্বসুরিদের পথ অনুসরণ করবে॥
এরপর খাজা শরীফ জিন্দানী (রঃ) বললেন , হে ওসমা আমি তোমাকে হুকুম দিচ্ছি যে, আল্লাহর ইবাদতে রাতদিন
মশগুল থাকবে, দরিদ্রতা ও উপবাস (রোজা) জীবন যাপন করবে এবং বস্তুজগৎ ও তাতে নিমজ্জিত ব্যাক্তিগন হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে॥
হযরত খাজা ওসমান কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ বললেন, আমি আপনার সমস্ত উপদেশ কবুল(গ্রহণ) করলাম॥
এরপর স্বীয় পীরের খানকা শরীফে তিন বছর উপস্থিত থেকে ইবাদত ও মুজাহেদায়(উপাসনা ও সাধনা) নজীরবিহীন
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন॥ হযরত খাজা শরীফ জীন্দানী (রঃ) যখন তার এ কঠোর রিয়াজত (সাধনা)অবলোকন করলেন
তখন তাকে সাজ্জাদাহ নশীন (তরিকার শাসন ক্ষমতা দান করে) খলিফা নিযুক্ত করলেন ,এবং চিশতীয়া তরিকার পীরগন কর্তৃক বংশ পরম্পরায়(সিলসিলাহ্ -ব- সিলসিলাহ্) প্রাপ্ত ইস্ মে আজম(আল্লাহ্ র সর্ব শ্রেষ্ঠ নাম, যা আল্লাহর আউলিয়া ছাড়া জানেনা)
হযরত খাজা ওসমান হারুণী (কুঃ সেঃ আঃ) কে দান করলেন॥সাথে সাথেই আল্লাহ তায়লার কুদরতের, জ্ঞানসমূহ তার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হলো॥ যখন তিনি নামাজ পরতেন, তখন অদৃশ্যলোক হতে আওয়াজ আসতো, হে ওসমান
আমি তোমার নামাজ কবুল করলাম, তোমার যা কিছু চাওয়ার আছে চাও, তিনি নামাজ শেষ করে, প্রার্থনার মাধ্যমে
বলতেন ,হে বারে এলাহী, আমি তোমার কাছে তোমার মারেফাত (পরিচয় জ্ঞান) চাই, এ দোয়ার পর পূনরায় আওয়াজ হলো, হে ওসমান আমি তোমার দোয়া কবুল করে, আমার মারেফাত দান করলাম, আরো কিছু চাওয়ার থাকলে চাও॥
তখন হযরত ওসমান হারুণী(রঃ) সেজদারত হয়ে , দোয়া চাইলেন, ইয়া এলাহী, তুমি তুমি আমাদের রসূলে মকবুল ও তোমার প্রিয় হাবীব(বন্ধু) হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল ল্লামের গোনাহগার উম্মতদেরকে ক্ষমা কর॥
উত্তর এলো, হে ওসমান তোমার দোয়ার সম্মানে ত্রিশ হাজার গোনাহগার কে ক্ষমা করা হলো॥
এ রকম ঘটনা, খাজা ওসমান হারুণী (রঃ) এর জীবনে, প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত(সময়) নামাজে বিরামহীন ভাবে ঘটতো,এবং যতোদিন পৃথিবীর অধিবাসী হিসেবে দুনিয়ায় অবস্থান করেছিলেন , শেষদিনে শেষ নামাজটিতে ও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল ॥ সুতারাং তার ৭০ বছর দুনিয়ার জীবনে সর্বমোট কত সংখ্যক গোনাগার উম্মত তার দোয়ার বরকতে ক্ষমা লাভ করেছে তা অনুধাবনকরার বিষয়॥ তার জীবনের ছোট্র একটা কারামত(অলৌকিক ক্ষমতা) হযরতখাজা গরীব-উন নওয়াজের মুখে শ্রবণ করুণ॥
আমার এক প্রতিবেশী পীর ভাই ,তরিকার নিয়ম কানুন মেনে চলতো না, হঠা মারা গেল॥ নিয়ম অনুযায়ী তাকে দাফন(( ইসলামের বিধান অনুযায়ী মৃতদেহকে নতুন পোশাকে আবৃত করে মাটির তলায় শায়িত করানো) করে যে যার কাজে চলে গেলো ॥ কিন্তুু কৌতূহল বশতঃ আমি কবরের পাশেই দুনিয়া হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে খানিক ক্ষণ বসে রইলাম॥
এমন সময় দুইজন ফেরেস্তা এসে কবরে অবতরণ করলো॥ দেখেই বুঝতে পারলাম এরা আযাবের ফেরেস্তা( আল্লাহর প্রেরিত শাস্তি প্রধানকারী দূত) কবরে নেমেই তারা আমার পীরভাইকেশাস্তি দিতে উদ্যত হলো॥
এমন সময় আমার পীর ও মুর্শেদ খাজা ওসমান হারুণ কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ, ফেরেস্তাদ্বয়ের সমূখে উপস্থিত হয়ে বললেন, এ লোককে শাস্তি প্রদান করতে পারবেনা,কারণ এ আমার মুরিদ॥ ফেরেস্তাদ্বয় আল্লাহর বন্ধুর সম্মানার্থে চলে গেলো॥ কিন্তু একটু পরেই ফিরে এসে বললো, হুজুর এ লোক আপনার মরীদ একথা অবশ্যই সত্য কিন্তু এ আপনার তরিকার কর্ম হতে বিরত ছিলো॥ হুজুর এরশাদ করলেন, তার কর্ম যাই হোক না, সে নিজেকে আমার নিকট সমর্পণ করায় ,তার কর্ম আমার কর্মের সংগে সংযুক্ত হয়ে গেছে॥ এতএব , তার রক্ষণাবেক্ষণ আমার কর্তব্য ॥ হুজুর ফেরেস্তাদেরকে তার বক্তব্য পেশ করার সাথে সাথেই ফেরেস্তাদের প্রতি আল্লাহতায়লার হুকুম হলো, তোমরা চলে এসো,তাকে শাস্তি দিওনা, আমি আমার বন্ধুর সম্মানে তাকে ক্ষমা করে দিলাম॥
হযরত খাজা ওসমাসন হারুণী(রহঃ)এর কার্শফ ও কারামত ও অন্যান্য বিষয়ে জানতে হলে তার জীবনী পাঠ করুন॥ হযরত খাজা ওসমান হারুণী(কুঃ সেঃ আঃ)এর অগনিত খলিফা ছিলেন, তন্মধ্যে হিন্দুস্থানে
প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন চারজন, এবং সমস্ত খলিফাদের মধ্যে তরিকার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, এবং তরিকার আমানত ছিলো, হযরত ওয়ারেছুল আম্বিয়া, খাজায়ে খাজেগান, শায়খ মঈনুদ্দীন হাসান চির্শতী
সনজরী, ওরফে খাজা গরীব উন নওয়াজ(রহঃ)এর উপর॥
হিন্দুস্থানের দ্বীতিয় প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ তুর্ক (রহঃ)মাঝার শরীফ দিল্লীর
কাছাকাছি নারনোল নামক স্থানে অবস্থত॥
তৃতীয় প্রখ্যাত খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সাইয়্যেদি লাঙ্গোচি(রহঃ)এর মাঝারশরীফ নারনোলে অবস্থিত॥ চতুর্থ খলিফা ছিলেন হযরত খাজা সৈয়দ শায়খ নিজামুদ্দীন ছোগরা(রহঃ)এর মাঝারশরীফ দিল্লীতে অবস্থিত॥
হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ) এর বেছাল মোবারক (দেহত্যাগের মাধ্যমে মহামহিমের সাথে মহামিলন)
৫ই শাওয়াল ৬০৭ হিজরিতে হয়েছে॥ রওজা মোবারক মক্কা মোয়াজ্জেমায় কাবা শরীফের বায়ে জান্নাতুল
মুয়াল্লতে অবস্থিত॥কিন্তু সেখানে ওহাবী শাসন কায়েমের পর মক্কা মোয়াজ্জেমা ও মদিনা মনোয়ারা তথা
সমগ্র সৌদি আরবের এক মাত্র রসুলে মকবুল(দঃ) এর রওজা মোবারক ব্যাতিত সমস্ত মাঝারশরীফ,
ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, এবং বহু স্থানে সই সব মাঝারের উপর এখন প্রাসাদ গড়ে উঠেছে॥
অর্থাৎ পুস্তক ব্যাতিত হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ)এর মাঝার শরীফের চিহ্ন ও সেখানে খুজে পাওয়া সম্ভব না ॥
হযরত খাজা বুজুর্গ ওয়ারেছেুল আম্বিয়া ফিল্ হিন্দ্মঈনুদ্দীন হাসান চির্শতী সন্জরী ছুম্মা আজমেরী, কাদ্দাসাল্লাহু সাররাহু তার লিখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন॥
- ভুমিকা
আমি দোয়া প্রার্থী ,ঘৃণিত মুসলমান, অকর্মণ্য ফকির, আল্লাহর গোলাম ,মঈনুদ্দীন হাসান সনজরী,
বাগদাদ শহরে হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজের, মাঝারশরীফ
জিয়ারত (দর্শন) ও কদমবুসি (পদচুম্বন) লাভের সৌভাগ্য অর্জন করলাম॥ ঐ সময়ে অনেক মাশায়েখ(পীরগন) আমার মুর্শেদের খেদমতে উপস্থিত ছিলেন যার জন্য ঐ জমিনকে আদবের স্বীকৃতি
হিসাবে, চুমু খেলাম॥ হযরত খাজা শায়খ ওসমান হারুণী(কুঃ সেঃ আঃ) আমাকে এরশাদ করলেন,
দু রাকাত নামাজ পাঠ কর॥ আমি যথার্থভাবে আদেশ পালন করলাম॥
আমার নামাজ শেষ হলে তিনি দাড়িয়ে গেলেন এবং আমার হাত ধরে আকাশের দিকে মূখ করে বলতে
লাগলেন, ইয়া এলাহী আমি মঈনকে তোমার হাতে সমর্পণ করলাম॥
এরপর খানকা শরীফে তরিকার নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন রিয়াজতে,নিজেকে নিয়োজিত করলাম॥
এতপর হযরত খাজা ওসমান (কুঃ সেঃ আঃ) মক্কা - মোয়াজ্জেমায় চলে গেলেন, আমিও তার সঙ্গ লাভ হতে,
বঞ্চিত ছিলাম না॥ সেখানে তিনি আমাকে নাওদান(পানির নালা) এর নীচে দাড় করিয়ে দোয়ায়ে খায়ের( উৎকৃষ্ট প্রার্থনা) করলেন ॥ ঐশীলোক হতে আওয়াজ ভেসে এলো, আমি মঈনুদ্দুীন সন্জরী কে
গ্রহণ করিলাম ।
এরপর আমাকে মদিনিায় নিয়ে গেলেন, যখন হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে সাল্লাম - এর রওজা মোবাকের পার্শ্বে পৌছলাম তখন আমার পীর ও মোর্শেদ, আদেশ করলেন- সালাম করো, আমি সালাম করলাম
রওজা মোবারক হতে আওয়াজ হলো, ওয়া আলায়কুমুস্ সালাম ইয়া কুতুবুল মাশায়েখ" (হে ঐশীজ্ঞান-জগৎতের মাশায়েখদের ধ্রবতাঁরা, তোমার উপর করুনা বর্ষিত হোক) আমার মুর্শেদ এরশাদ করলেন, তোমার কর্ম যে, কামালিয়াত(পরিপূর্ণতার স্থর) পযন্ত পৌছেছে তার স্বীকৃতি পেলে॥
পরে মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা হয়ে আমরা বদখ্ শানে এসে একজন বুজুর্গের সাক্ষাৎ করলাম,
যিনি হযরত জুনায়েত বোগদাদী(রহঃ) এর বংশধর, ছিলেন॥ তার বয়স তখন ১৪০ বছর, তিনি সবসময় ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকতেন॥ তার একটা পা ছিলোনা॥ একেবারে মূল থেকে কাটা ছিলো॥ আমরা দেখে অবাক হয়ে গেলাম॥
পা না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিলেন, আমি দীর্ঘকাল যাবৎ এ ইবদতখানায় অবস্থান করছি॥
নফ্ সের ইচ্ছায় কখনো এক কদমও এ ইবাদত খানার বাইরে বের করেনি, একবার এমন হলো যে, নফ্ সের প্রোরচনায় এ কর্তিত পা টি এবাদত খানার বাইরে বের করেছি , এবং অপরটি বের করে , বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছি, এমন সময় অদৃশ্যলোক হতে আওয়াজ ভেসে এলো, হে প্রেমপ্রার্থী আমার সাথে প্রতিজ্ঞা ভুলে গেলে?
এ আওয়াজ শুনে সাবধান হলাম এবং ওয়াদা ভঙ্গের জন্য অনুতপ্তহলাম॥ ছুরি আমার নিকট মজুদ ছিলো,
তৎক্ষণাৎ খাপ থেকে বের করে যে পা টি বাহিরে , বের করেছিলাম, সেটাকে কেটে বাইরে ফেলে দিলাম॥
এ ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪০ বছর॥ সে সময় হতে আজ পযন্ত সৃষ্টি অবলোকন হতে, বিছিন্ন ও লজ্জীত, আছি এ জন্য যে, কাল কেয়ামতে দরবেশদের সম্মুখে মুখ দেখাবো কি করে॥
আমাদের পরর্বতী গণ্তব্যস্থল ছিলো বোখারা ॥ সেখানকার ছোট বড় সব রকম মাশায়েখদের , সংঙ্গে সাক্ষাাৎ করলাম॥ এদের মধ্যে প্রত্যেকেই এমন সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলো , যাদের প্রশংসা বর্ণনার বহির্ভূত॥
এমনি করে দশটি বছর, পীড় ও মুর্শেদের সঙ্গে ভ্রমণ করে কাটালাম,এবং পরে বাগদাদে পৌছলাম॥ বেশকিছু দিন আমরা বাগদাদে অবস্থান করেছিলাম॥ তারপর আবার দশ বছরের জন্য পীর ও মোর্শেদের সঙ্গে ভ্রমণে বেরোলাম॥
ভ্রমণের উপযোগী প্রয়োজনীয় উভয়ের আসবাবপত্র , আমি মাথায় বহন করে পথ চলতাম॥
ভ্রমণের দশ বছর পূর্তি হলে বাগদাদে ফিরে এলাম॥ এরপর হুজুর এক বিশেষ বন্দেগীর জন্য নির্জনতা বেছে
নিলেন, এবং অধমের প্রতি নির্দেশ দিলেন, আমি কিছু দিনের জন্য নিভৃতে (মু'তেকিফ) অবস্থান করবো ,
ই'তেকাফ( উপসনার জন্য নির্জন বাস) হতে বাইরে বেরোব না, তুমি প্রত্যেকদিন একবার করে অবশ্য আসতে থাকবে॥ কিছু বিশেষ কথা বলবো, যা আমার অবর্তমানে তোমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে ॥
এ নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি ই'তেকাফে এ বসলেন ॥ এ অধম প্রত্যেকদিন খেদমতে হাজির হতো এবং হুজুর
জবান মোবারক হতে যা বলতেন, আমি লিখে রাখতাম ॥ এভাবেই এ ২৮টি মজলিসের অমিয় বানী জমা হয়েছে এবং আল্লহ্ তায়লার করুনায় নাম রাখা হয়েছে আনিসুল আরওয়াহ্
ঈমান (বিশ্বাস) - এর আহকাম (আদেশ সমুহ) সম্মন্ধে আলোকপাত করলেন ॥ এ সমন্ধে বলতে যেয়ে,
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল বারী বললেন যে, হযরত আমিরুল মু'মেনীন আব্বাছ
রাদিআল্লাহু তায়লা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে সাল্লাম
এরশাদ করেছেন, ঈমান একটি উলঙ্গ জিনিস, তার পোশাক হলো তাকোয়া(সংযমশীলতা) ,তার পা হচ্ছে
দরিদ্রতা, তার ঘর হচ্ছে জ্ঞান, এবং তার কথোপকথন হচ্ছে , আশহাদু আল লা ই লাহা ইল্লাল্লহু ওয়া আশহাদু
আন্না মুহামাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু ॥ এরপর এরশাদ করলেন , হে দরবেশ ঈমানের মুল কখনো, বৃদ্ধিপায়না
কখনো হ্রাসও হয়না॥যে বলে যে কমবেশী হয় , সে নিজের অস্থিতকে (জাতকে) কষ্ট দেয়,কারণ সে মিথ্যা বর্ণনাকারী॥ এরপর এরশাদ করলেন, যখন রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর প্রতি নির্দেশ
এলো যে, কাফেরদের সঙ্গে ততখন পযন্ত যুদ্ধ করুন যতক্ষণ না তারা লা ই লাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ব্যাতিত
স্রষ্টা নেই) বলে॥ হযরত রসূলে খোদা সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম সে নির্দশ অনুসারেই কাজ করেছেন,
যতক্ষণ না তারা কালেমা পড়ে ঈমান এনেছে অর্থাৎ প্রবিত্র অন্তকরণে সাক্ষী দিয়েছে যে, আল্লাহ এবং তার
রসূল সত্য ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন॥ পরবর্তী পর্যায়ে নামাজ অবতীর্ণ হলে প্রত্যেকেই বিনা দ্বীদায়
তা গ্রহণ করেছেন ॥এরপর রোজার আদেশ হলো, রোজাও সবাই সন্তুুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করলেন ॥ তারপর এলো হজ্ব করার হুকুম ॥
এর প্রতি ও প্রত্যেকে সম্মাণ প্রদর্শন করলেন ॥অবশেষে এ সমস্ত পালন করার জন্য আদেশ হলো বলা হলো সবই ঈমানের আর কান(স্তম্ভ)॥
নামাজ পালন করতে যেয়ে যদি নামাজের ক্ষতি বা অঙ্গ হানি হয় তবে তা অতিরিক্ত(নফল) নামাজ দ্বারা পূর্ণ করতে সহজ করে দিয়েছন আল্লাহ তায়লা এবং এমতাবস্তায় ফেরেস্তাদের বললেন , দেখ আমার বান্দারা
নফল দ্বারা কিভাবে ফরজের ঘাটতি পূরণ করে নিচ্ছে॥ যে ফরজ এবং নফল কিছুই পাঠ করেনা সে দোজখের শাস্তি ভোগ করবে॥
অবশ্য যদি সে আল্লাহতায়লার বিশেষ রহমতের আওতাধীন থাকে বা
রসূলে মকবুল সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের শাফায়েত লাভ কারীদের
অন্তভুক্ত হয় তাহলে মুক্তি পাবে॥ যে ব্যাক্তি আল্লাহতায়লার ফরজ(অবশ্য কর্তব্য ) অস্বীকার করে সে, কাফের॥ কসম(শপথ) সেই মহাপরাক্রম আল্লাহতায়লার, কারো স্বাধীনতা নেই সে ঈমনের বিষয়গুলো হ্রাস বৃদ্ধ করে॥ এরপর পর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু
হতে বর্ণিত আছে যে, রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলতেন, ঈমান নূর যা ক্বলবে অবস্থান করে॥
যদি কোন ব্যাক্তি নেক কাজ তাহল তার অন্তরে তখন শুভ্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং নেক কাজ তার মাঝে সুপ্রতিষ্ঠীত হলে সম্পূন্য অন্তর সাদা হয়ে যায়॥ এরুপ স্থলে ঈমানের স্বাদ অর্জিত হয়॥
এ ঈমান বিশেষ ভাবে বন্ধুত্ব লাভের জন্য॥ নিফাক (কপটতা) হলো অন্ধকার বস্তু, যখন কোন মু মেনের অন্তরে প্রবেশ করে তখন সেখানে কালিমার সৃষ্টিকরে ॥
গোনাহের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে হৃদয়ের কালিমাও প্রসারিত হয়॥
গোনাহকর্মে দৃঢ়তা অবলন্বন করলে সম্পূর্ণ অন্তর অন্ধকার হয়ে যায় ॥ এ অবস্থায় সে মুনাফেকে
(অবিশ্বাসী) পরিণীত হয়ে যায় এবং আল্লাহতায়লার রহমত হতে বঞ্চিত হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, হে দরবেশ, যদি মুমেনের দ্বীল চেরা যায় তাহলে দেখবে সেখানে
শুভ্রতা ভিন্ন কালোর চিহ্নও পাবেনা॥
তারপর বললেন, আমি আমার পীর ও মুর্শেদ , হযরত খাজা হাজী শরীফ জিন্দানী কুদ্দেসা সিররুহুর
মুখে শুনেছি যে, হযরত আনিস বিন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু পয়গাম্ভর সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম
হতে রওয়ায়েত(বর্ণনা ) করেছেন যে প্রকৃত ঈমান কম বেশী হয় না ॥
কিন্তু এর ১০১টা হদ (ধাপ বা পরিধি) আছে , যে ব্যাক্তি এর মধ্যে কমবেশী বর্ণনা করবে , সে ব্যত্যয়
প্রভেদ সৃষ্টিকারী॥ এর প্রকৃত রুপ হচ্ছে, লা-ই-লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্
॥ এর হদ বা পরিধি হচ্ছে নামাজ , রোজা, হজ্ব ও যাকাত ॥
যানাবাত (সহবাস) এর গোসলও এর মধ্যে অন্তভুক্ত ॥ যে ব্যাক্তি অধিক নেকি করবে, সে অধিক
ছওয়াব (প্রতিদান) পাবে এবং যে বিমুখ থাকবে সে কোন প্রতিদান পাবে না বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবে॥
এরপর এরশাদ করলেন ,কিয়ামতের দিন বারিতায়লা মু মেনদেরকে তাদের আমল (কর্ম) সম্বন্ধে
জীজ্ঞাসাবাদ করা হবে ঈমান সমন্ধে প্রশ্ন করবেনা কিন্তু কাফেরদের কে ঈমানসম্বন্ধে ই জিজ্ঞাসা বাদ করা হবে ॥ মু মেনদের ঈমান ধ্বংস হয়না , কিন্তু কাফেরদের ঈমান ধ্বংস হয়ে যায় ॥
নামাজ ত্যাগকারী এবং অস্বীকার কারী (মুণকির), নিম্নোক্ত হাদিসের নির্দেশে কাফের হয়ে যায়॥
হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহ আলায়হে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন , মান তারাকাস্ সালাাতা মুতা আম্মেদান ফাকাদ কাফারা , অর্থাৎ যে ব্যাক্তি বুঝিয়া শুনিয়া নামাজ ত্যাগ করে সে কুফর (অবিশ্বাস)
করে এবং কাফের হয়ে যায় ॥ ইমাম শাফি রহমতুল্লাহে আলায়হের মজহাবে এমন ব্যাক্তিকে কতল(হত্যা) করা ওয়াজেব॥
এ অতূলনীয় ও অমিয় বানী বর্ণনা পর হযরত খাজা নিশ্চুপ হলেন এবং স্বীয় কর্মে বিভোর হলেন ॥
এ অধম তার জায়গায় চলে এলো॥ আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
দ্বিতীয় মজলিশ
===================================
হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম এর মোনাজাত সম্মন্ধে হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ)আলোচনা আরম্ভ করলেন। বললেন, আমি হযরত খাজা নাসিরুদ্দীন মওদুদ চির্শতী কাদ্দাসাল্লাহু সাররাহু হতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি তাম্বীহ আল গাফেলিন" পূস্তকে লেখা দেখিছি যে, আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম
হতে শুনেছেন, আল্লাহ্ জাল্লে কাদেরহু তার পাক কালামে এরশাদ করেছেন,
ফাতালাক্কা আদামা মের রাব্বিহি কালেমাতিন ফাতাবা আলায়হে॥
যখন হযরত আদম (আঃ) এর বেহেস্তী পোশাক তার অপরাধের জন্য খসে পরেছিল যার কারণে তিনি বেহেস্তের মধ্যে এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছিলেন, তখন আল্লাহ্ তায়লা তাকে জিজ্ঞেস করলেন হে আদম ,আমার নিকট হতে পালাচ্ছ কোথায় ?
হযরত আদম ( আঃ) উত্তরে বললেন, হে খোদা তোমার নিকট হতে কে পালাতে পারে, এবং যাবেই বা কোথায় ? আমি আমার ভুলের কারণে লজ্জিত হয়ে পরেছি॥
অপরাধ স্বীকার করায় আল্লাহ তায়লা তাকে কলেমা শিখালেন , যার উছিলায় তিনি তওবা করলেন এবং পরম করুনাময়ের দরবারে তা গৃহীত হলো ॥এ
পরবর্তী পর্যায়ে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ সমন্ধে কিছু জটিল তথ্য প্রদান করলেন ॥
হযরত এবনে আব্বাছ রাদিআল্লাহ্ তায়লা আনহুর বরাত দিয়ে বললেন যে, তিনি হযরত রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে, রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, যখন মানুষের মধ্যে গুণাহের পরিমাণ পায় তখন আল্লাহ্ তায়লা ফেরেস্তাদেরকে হুকুম করেন সেখানে চন্দ্র বা সূর্যের আলো কিছু ক্ষণের জন্য ঢেকে দাও, যাতে সৃষ্টি সাবধান হয় ॥
এরপর এরশাদ করলেন , যখন মহ্ রম মাসে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় সে বছর অনেক বালা (দুঃখ) অবতির্ণ হয়, ফেতনা (গণ্ডোগোল) বৃদ্ধি পায়, বুজুর্গদের
উপরে বিনা কারণে অপবাদ ঘটে ॥
সফর মাসে গ্রহণ হলে , বৃষ্টি কম হবে, নদী শুকিয়ে যাবে, রবিউল আউয়াল মাসে সূর্যগ্রহন বা চন্দ্রগ্রহণ হলে, কঠিন আকাল পড়বে, যার ফলে অসংখ্যলোক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে, ॥
রবিউস্ সানী মাসে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হলে, দেশের শস্যভান্ডার ভরে যায়, কিন্তু
বুজুর্গদের মৃত্য অধিক হবে॥
জমাদিউল আউয়াল মাসে গ্রহণে, ঝড় বৃষ্টি তুফান হবে,এবং আকস্মিক মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যাবে ॥
জমাদিস্ সানী মাসে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হলে সুফল ফলবে॥সে বছর ফসল খুব ভালো হবে, এবং দ্রবমূল্য হ্রাস পাবে ও ঐশ্বর্য বেড়ে যাবে ॥
রজ্জ্বব মাসে যদি সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ নতুন চাঁদের প্রথম শুক্রবারে হয়
তাহলে দুঃখত দূরর্ভিক্ষ মানুষের প্রতি অত্যাধিক বেড়ে যাবে
আকাশ বিকট থেকে আওয়াজ শোনা যাবে
শাবান মাসে গ্রহণ হলে মানুষ শান্তিতে থাকবে
এরপর রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন যদি রমজান মাসের প্রথম শুক্রবারে দিনে অথবা রাতে সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ হয়
তাহলে দেশে অনেক বিপদ আপদ নেমে আসবে এবং অনেক লোক মারা যাবে ।
শাওয়াল মাসে গ্রহণ হলে হাওয়ার গতি অত্যাধিক বেড়ে যেয়ে অনেক গাছ উপরিয়ে ফেলবে । জিলক্বদ মাসে গ্রহণ হলে অনেক রোগ অবর্তীন হবে।
জিলহজ্ব মাসে গ্রহণ হলে মনে করবে দূনীয়ার আয়ু শেষ হয়ে এসেছে, ফেতনা প্রতিষ্ঠিত হবে, আয়েব (দোষ) ঢেকে রাখার লোক মরে যাবে, অপরের দোষ বলে বেড়ারার লোক অধিক হবে, বাইরের সাজ সজ্জা বেড়ে যাবে, তাদের আখেরাতের সুফল বিনষ্ট হবে।
দুনিয়ার প্রতি প্রেম বেড়ে যাবে, অর্থাৎ মানুষ পরলালের চিন্তা পর্যন্ত ও ছেড়ে দেবে । মানুষ মোনাফেকদের সম্মান করবে, দরবেশদের কে দীন-দুঃখী মনে করে ঘৃণা করবে । সে সময় তাদের প্রতি আল্লাহ্ তায়লা এমন একটা বিপদ প্রতিষ্ঠিত করবে যার, কারণে তাদের সূখ বিনষ্ট হবে ।
নাউজুবিল্লাহ্
হযরত খাজা এ অমিয় বানী বর্ণনা করার পর স্বীয় কাজে মশগুল হলেন। আমি আমার বিজন স্থানে চলে এলাম ।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক।
===============================================
তৃতীয় মজলিস
===================================
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজজ শহরের অপকারিতা সম্মন্ধে জ্ঞান দান করলেন । বললেন, শেষ যামানায় শহরে অধিক গোনাহের কারণে শহর নষ্ট হয়ে যাবে ॥ আমি যখন আমার পীড়ের সঙ্গে একসাথে সমরকন্দ সফর করেছিলাম তখন, হযরত খাজা মওদুদ চিশতী (রঃআঃ) এর মূখে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন, হযরত ইমামুল আশ্ যাইন মদিনাতুল উলুম ওয়াল মুতালেব আলী এবনে আবু তালিব করমুল্লাহু ওয়াজহু এরশাদ করেছেন,
যখন এ আয়াত নাজেল হলো , ওয়া ইমমিন্ কার্ ইয়াতিন ইল্লা নাহ্ নু মুহলেকুহা কাবলা ইয়াওমিল কেয়ামাতে আও মূ'য়াজ্জেবুহা আজাবান শাদীদা ॥ কানা জালেকা ফিল । কিতাবি মাসতুরা "অর্থাৎ এমন কোন শহর নেই যেখানে কেয়ামতে আসার পূর্বে দুঃখ কষ্ট ও দূরদর্শা অবতীর্ণ হবে না , এবং এমন কোন শহর নেই যেটা ধ্বংস ও নষ্ট হবে না॥
একথা 'লওহে মাহফুজে লেখা আছে ॥
এরপর এরশাদ করলেন, হা বশীগন( আবিসিনিয়া র অধিবাসী নিগ্রো) মক্কাকে
বিরান (জনশূন্য) করবে ॥ মদিনা দূরভিক্ষের কারণে জনশূন্য হবে, বিপদাপদ অবতীর্ণ হবে, লোকজন অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। আমাদের দেশ (খোরাসান,বর্তমান ইরাক) রিয়া (কপটতা) এর কারণে ধ্বংশ হবে॥ শ্যাম দেশ (সিরিয়া) বাদশাহের জুলুমের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে ॥ এ অবস্থায় আকাশ থেকে এক প্রকার ফসল । ধ্বংশকারী পোকা (টিড্ ডি) জমিনে পতিত হবে ॥ রোম ধ্বংস হবে সমমৈথুনের কারণে॥ বলখ্ দেশ ব্যাবসায়ীক বন্ধুত্বের কারণে ধ্বংস হবে ॥ মুসলমানগণ সুদ গ্রহণ করবে এবং নরখাদক হিসেবে চিহ্নিত হবে ॥ এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা মওদুদ চিশতী ((রঃ) আরও বলেন যে, ভবঘুরে ও তাদের সঙ্গীদের রঙ্গ রস ও মদ্যপানের কারণে শহর ধ্বংস হবে ॥
সিস্তান দেশ ভূমিকম্পে অন্ধকারচ্ছন্ন প্রলয়ে পাহার ফেটে । চৌচির হয়ে যাবে এবং সেখাকার অধিবাসীদের অস্থিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে ॥
মিশর ও দামেস্কে মেয়েদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা এতো বৃদ্ধি পাবে যে, যার কারণে তাদের একজনকে সূলিতে চড়াবে এবং অনেকে বলবে এ হচ্ছে ফাতেমা (নবীদুলালী)নাউযুবিল্লাহ
সুতরাং এটাই হবে উক্ত দেশ দুটোর ধ্বংসের কারণ। ইরান আর সিন্ধু ধ্বংস হবে হিন্দুস্থানের কারণে ॥ হিন্দুস্থান ধ্বংশ হবে ফ্যাসাদ, জিনা, ও শরাপ পানের কারণে ॥
এরপর আল্লাহ তায়লা হাওয়াকে হুকুম করবেন দুনিয়ার অবশিষ্ট লোক ও দেশ কে নিঃশেষ করো ॥ এরপর যারা বেচে থাকবে তাদের মাঝে তখন মোহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ্ (ইমাম মেহেদী) আত্মপ্রকাশ করবেন ॥ সারা দূনীয়ায় তখন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে ॥ এরপর হযরত ঈসা(আঃ) আসমান হতে অবতরণ করবেন । ঐ সময় সমস্ত জগৎ এ দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত্ব হবে। এ অমিয়বানী পেশ করার পর হুজুর আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন। আমিও আমার জায়গায় ফিরে এলাম॥
আল্হামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক॥
=====================================================================
চতুর্থ মজলিস
===================================
এ মজলিসে স্ত্রী লোকদের স্বীয় স্বামীর আনুগত্য ও গোলাম মুক্ত করার ফজিলত(উপকারিতা) সমন্ধে বলতে যেয়ে বলেন, আমিরুল মু'মেমীন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন যে, হযরত(দঃ)
এরশাদ করেছেন , যে নারী স্বীয় স্বামীর ইচ্ছায় তার কাছে না যেয়ে দুরে দুরে থাকে তার সমস্ত নেকি এমন ভাবে ধ্বংস ও নষ্ট হয়ে যায় যে ভাবে সাপ তার খোলস ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যায় এবং জঙ্গলের বালুর পরিমাণ গুণাহ তার আমল নামায় লেখা । যদি সে স্ত্রীলোক এমতাবস্থায় মারা যায় তবে সে দোজগ ভোগ করবে। এবং দোজগকের
সত্তরটি দরজা তার জন্য উম্মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু যে নারীর স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট থাকাকালীন অবস্থায় ইন্তেকাল করে, সে তৎক্ষণাৎ শ্রেষ্ঠ জান্নাত লাভ করবে। বেহেস্তের সত্তর টি দরজা উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ইমাম আবুল । লায়ছা সমরকন্দি(রহঃ) স্বীয় কিতাব ত্বাম্বীহ তে লিখেছেন,
যে নারী স্বীয় স্বামীর নিকট রাগের সহিত উপস্থিত । হয় তার আমলনামায় আকাশের তারকা রাজির সমপরিমাণ সংখ্যক গোনাহ লেখা হয়। এরপর এরশাদ করলেন, যদি স্বামীর শরীরে কোন স্থান হতে পূজ বা রক্ত প্রবাহিত হয়, এবং স্ত্রী সেগুলো সাফ করার অভিপ্রায় মুখ দিয়ে চাটে তবুও স্বামীর পূর্ণ হক আদায় হবে না। তারপর বললেন, হে দরবেশ
যদি আল্লাহ ছাড়া যদি অন্য কাউকে ইবাদতের সেজদাহ্ করার হুকুম থাকতো তাহলে আল্লাহতায়লা অবশ্যই স্ত্রীর প্রতি স্বামীকে সেজদাহ্ করার হুকুম প্রদান করতেন।
পরবর্তী আলোচনায় গোলাম আজাদ করার ব্যাপার নিয়ে আরম্ভ করলেন। এমন সময় এক দরবেশ হুজুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে । জমিনে চুমু খেলেন। হুজুর তার জন্য দোয়াখায়ের করলেন। এরপর এরশাদ করলেন, রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যাক্তি কোন গোলামকে আজাদ করে দেয় আমল নামায় আজাদকৃত গোলামের শরীরের শিরা উপশিরার সমপরিমাণ সংখ্যক নেকি লেখা হবে। এবং যে পযন্ত সে একজন নবীর প্রাপ্ত পূর্ণ্যের সমপরিমাণ সওয়াবের সৌভাগ্য অর্জন না করবে, সে পযন্ত সে এই ধ্বংসশীল পৃথিবী হতে বিদয় নেবে না।
এছাড়াও । কেয়ামতের দিন সে নিজের মা- বাবা ও আত্মীয় স্বজনের মধ্য হতে ৭০ জনকে ক্ষমা করাতে পারবে এবং তার শরীর হতে তার দেহের লোমের সমপরিমাণ নূর উদ্ভাসিত । হবে।
আসমানে । তার নাম ওলি আল্লাহ্(আল্লাহর বন্ধু) বলে উচ্চারিত হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, পয়গম্বর সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম
বললেন, গোলাম আজাদীকারী ব্যাক্তি যে পযন্ত না নিজের । জায়গা । বেহেস্তে দেখবে সে পযন্ত সে মারা যাবে না এবং প্রাণবায়ু বের করার সময় এ । কাজে নিযুক্ত ফেরেস্তা (মালেকূল মউত) তাকে বেহেস্তের সুসংবাদ প্রদান করবেন।
তারপর বললেন যে ব্যাক্তি বন্দি বা দাসকে মুক্তি দেবে সে এ নশ্বর পৃথিবী যে পযন্ত বেহেস্তের সূধা (শেরাবান তহুরা) পান না করবে সে পযন্ত , সে । নিজেকে মৃত্যুর নিকট আত্মসমপর্ণ করবে না ॥ মৃত্যু যন্ত্রণাও তার জন্য সহজ করা হবে। কিয়ামতের দিন আরশের নীচে ছায়া পাবে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্ত পাবে।
এরপর এরশাদ করলেন, আহ্ লে সুলুকগন দুনিয়াকে দোজকের চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করে, কারণ দূনিয়ার সাথে বন্ধুত্ব করলে পথ ভ্রষ্ট হতে হয়।
যার তুলনা হলো অন্ধকারচ্ছন্ন পথ। যেমন কোন পথিক যদি অন্ধকারে পথ চলতে যেয়ে পথ হারিয়ে ফেলে তাহলে পূরণায় পথ খুজে পেতে । তাকে খুবই কষ্ট করতে হয়। সুতারাং সেই ক্ষমতাবান যে নিজের সত্তাকে এই দূনিয়ায় মৃত্যু ঘটিয়ে রাখে ।যে দূনিয়াদারীতে নিজেকে না জড়িয়ে এ আবর্জনা হতে মুক্ত । থাকে, সেই শ্রেষ্ঠতম স্তরে । বা । মাকামে পৌছে সফলতা অর্জন । করতে সক্ষম হয়।
এরপর এরশাদ করলেন আহলে সূলক, দাসগণকে হাজার প্রার্থনা ও আকাংখ্যা দ্বারা ক্রয় করে মুক্ত করেছে, যেন কিয়ামতের দিন সে ঐ ওসিলায়(কারণে) দোজখ হতে মুক্তি । পায়। যখন হযরত খাজা এ অমিয়বানী বর্ণনা শেষ করলেন, তখন স্বীয় কাজে বিভোর হলেন।
এ দোয়াপ্রার্থী বিদায় নিয়ে । নিজের জায়গায় ফিরে এলাম ।
আল্হামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
==========================================
পঞ্চম মজলিস
হুজুর সদকা নিয়ে কথা শুরু করলেন, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর নিকট আরজ আরজ করা হয়ছিল, কর্মের (আমল) মধ্যে কোন কর্ম আফজল (শ্রেষ্ঠ) ?
উত্তরে তিনি এরশাদ করেছিলেন,
"সদকা" (আল্লাহ্ র উদ্দেশ্যে দান করা) পূনরায় আবেদন করা হইল সদকা কি জিনিস ? উত্তরে বললেন করো অভাব দূরকরা ।
সদকা প্রধান কারীর আশে পাশের ৭০ হাজার লোক কিয়ামতের ভয় হতে নিরাপদ থাকবে এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা হাসান বসরী(রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সদকা দেয়া শ্রেষ্ঠ, না কোরান তেলোয়াৎ করা শ্রেষ্ঠ, উত্তরে তিনি বলেছিলেেন,
রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, একটুকরা রুটি বা একমুঠো খেজুর দান (সদকা) করা হাজার বার কোরান শরীফ খতম করার চেয়েও উত্তম।
এরপর সদকা সমন্ধে একটা প্রত্যক্ষ ঘটনা বর্ণনা করলেন, হযরত খাজা হাসান বসরী (রহঃ) সমন্ধে বলেছিলেন, একবার এক ইহুদীকে দেখলাম বাজারের মধ্যে দাড়িয়ে এক ক্ষুদার্থ কুকুরকে রুটি খাওয়াচ্ছে । তাকে বললাম , তোমার এ নেকি কবুল হবে না, কারণ তুমি ইসলামের বহিভূত সম্প্রাদায়ের লোক। ইহুদী উত্তরে বললো, হে খাজা(মহামান্য ব্যাক্তি ) , যদি নেকি কবুল(গৃহীত) না হয়, না হবে, কিন্তু খোদা তো দেখেন এবং জানেন । এ ঘটনার বহুদিন পর আমি কাবা ঘড় জিয়ারতের জন্য গিয়েছিলাম , তোওয়াফের সময় দেখলাম, এক বৃদ্ধা কাবা ঘরের পাশ্বে সেজদাবনত হয়ে রাব্বি, রাব্বি (আমার রব, আমার রব) বলছে, হঠাৎ গায়বী আওয়াজ হলো, লাব্বায়িকা আবদি' অর্থাৎ হে আমার এবাদতকারী, এইতো আমি উপস্থিত । আমি তওয়াফ শেষ করে ঐ বৃদ্ধার নিকট গেলাম,
বৃদ্ধা সেজদাহ হতে মাথা উত্তোলন করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে' মাননীয়, আমাকে চিনতে পেরেছেন ? আমি সেই ইহুদী, যে বসরার বাজারে কুকুরকে রুটির টুকরো খাওয়াচ্ছিলাম এবং আপনি নিষেধ করেছিলেন।
এবার আপনি দেখলেন তো করুনাময় আমার পূর্ণ্য গ্রহণ করেছেন, এবং আমাকে কাছে ডেকে নিয়েছেন।
হে মহামান্য হাসান, আল্লাহর কুদরতকে কেহ সম্পূর্ণ রুপে জানেনা এবং এটাও বুঝতে পারেনা যে, কোন কাজের পরিণাম কি হবে ॥ অতপর হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ এরশাদ করলেন ,
আমি সলুকের কিতাবে লেখা দেখেছি যে, খাজা ইব্রাহীম বিন্ আদহম (রহঃ) বলেছেন এক বছর বন্দেগীর চেয়ে ১ দিরহাম সদকা দেওয়া উত্তম এবং একজন গোলাম আজাদ করা সারারাত্রী বন্দগীর চেয়ে উত্তম । এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোরান শরীফ তেলোয়াৎ করা উত্তম না সদকা দেয়া । তিনি বলেছিলেন সদকা দেয়া , কেননা সদকা দোজখের আগুন হতে মুক্ত করে । এরপর বললেন সদকা অন্তরে নূর পয়দা করে এবং হাজার রাকাত নামাজ অপক্ষা অধিক প্রতিদান আনয়ন করে।
এরপর বললেন, সদকা প্নরদান করা ফল নামাজ হতে উত্তমতর। আরো বললেন যারা সদকা দেয় এবং নামাজ পাঠ করে তাদের মর্যাদা অনেক উর্ধে । এরপর বললেন কিয়ামতের দিন সূর্য যখন
মাথার সোয়া হাত বল্লম পরিমাণ ওপরে অবস্থান করবে তখন সদকা তার মাথার ওপরে গম্ভুজ হয়ে যাবে । সদকা বেহেস্তের পাথেয় । সদকা প্রদানকারী কখনও আল্লাহর করুনা হতে বঞ্চিত হবেনা । এরপর আরও বললেন যে, আল্লাহতায়লা বলেছেন দাতা বা দানকারীগন আমার বন্ধু, এবং দানকারীদেরকে কবর বা কেয়ামতের কোন আজাবই করা হবেনা । এসব মানুষকে নিয়ে পৃথিবী ও গর্ভবোধ করে। এরা যখন পথ চলে তখন প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি করে প্রতিদান তার আমল নামায় লেখা হয় ।
দানশীল ব্যাক্তি গণ ১০০০ বছর পূর্বে বেহেস্তের সু ঘ্রাণ গ্রহণ করবে, এবং প্রতিদিন তাদের আমলনামায় একজন পয়গম্ভরের (আঃ) পূন্য লেখা হবে ।
পরবর্তী বক্তব্য পেশ করলেন আউলিয়া (হঃ)র সমন্ধে এরশাদ করলেন আল্লাহর বন্ধুগন দশ দশটি পর্যন্ত নিজেদের নফসের বাসনা পূরণে বিরত ছিলেন । বর্ণিত আছে যে, হযরত খাজা আবু তোয়াব নহ্ শী , যিনি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের বুজুর্গ ছিলেন, তার ২০ বছর যাবৎ বাসনা ছিলো, ডিম সহকারে মোরগের মাংস দিয়ে রুটি খাবেন কিন্তু নফসের এ ইচ্ছাকে পূরণ করেননি । ২০ বছর পর তার ইচ্ছা হলো আজ নফসের ইচ্ছা পূরণ করা দরকার এবং সেই অনুসারে সন্ধ্যায় ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন । সেইদিন ঘটলো একটা বিভ্রাট, তিনি জহুরের নামাজের জন্য নতুন করতে বিজন বনের দিকে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ পথি মধ্যে এক বালক দৌড়ে এসে তার হাত ধরে বলতে লাগলো, কাল তুমি আমার জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছো। আজ আবার কি চুরি করতে এসেছো ? লোকজন চোর চোর শব্দ শুনে জড়ো হয়ে । গেল, ঘটনাচক্রে বালকটির পিতাও সেখানে উপস্থিত হয়েছিলো । সে ছেলের নিকট সব শুনে হযরত খাজাকে ধরে বিশ টি ঘুষি মারল। এমন সময় হযরত খাজা তোয়াব নহ্ শী (রহঃ) এর একজন পরিচিত ব্যাক্তি উপস্থিত হয়ে এ অচিন্ত্যনীয় ঘটনা অবলোকনে হকচকিয়ে গেলো । সে তখন উপস্থিত জনতাকে লক্ষকরে বললো উনি চোর নন, উনি মহামান্য ও মাননীয় তোয়াব নহ্ শী (রহঃ) । এ বাক্য উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত জনতা স্তীমিত হয়ে গেলো, এবং নিজেদের ভূলের জন্য অনুশোচনা করতে লাগলো এবং বললো হুজুর আমরা আপনাকে চিনিনি, আমাদের অন্যায় হয়ে গেছে , আমাদের মাফ করে দিন । তিনি জনতার কবল থেকে মুক্ত হয়ে, ঐ পরিচিত ব্যাক্তির সাথে তার বাড়িতে মেহমান হলেন । ইফতারের সময় সে লোক তার জন্য মোড়গের গোস্ত, ডিম রুটি পরিবেশন করলো । ইফতারের নফসের চাহিদা অনুযায়ী আহার্য দেখে তিনি বলে উঠলেন, এগুলি এখান থেকে জলদি দুর করো, আমি এইসব জিনিস আহার না করে শুধু আহারের বাসনা পোষণ করার জন্য লাভ করেছি বিশ ঘুষী, আর যদি এসব আহার করি, তাহলে না জানি কোন ধরনের বিপদে আবদ্ধ হই । পরের ঘটনা হলো ও গুলিতো খেলেন না বরং বাকি জীবনেও তিনি আর নফসের কোন বাসনাই পূরণ করেননি ।
এই পর্যন্ত বলা শেষ করে হুজুর আল্লহ্ তে মশগুল হলেন এবং আমি আমার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে এলাম ।
আলহামদুল্লাহ আলা জালেক
==========================================
ষষ্ঠ মজলিস
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
শরাবখোর বা মদ্যপায়িদের সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন । হযরত আমিরুল মো'মেনীন ওমর(রাঃ আঃ) আনহু হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, শরাব (মদ বা সূরা) সসম্পূর্ণরূপে 'হারাম' ॥ পরিমাণ কম হোক আর বেশী হোক, সর্বপ্রকার পরিমাণই হারাম (নিষিদ্ধ) ॥ কিন্তু
আঙ্গুরের রস বের পান করা হারাম নয়॥ অবশ্য যদি সে রস রেখে দিয়ে যদি পরে পান করে তাহলে নাজায়েজ (অনুচিত) । এরপর এরশাদ করলেন রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ হচ্ছে , লা নত (অভিশাপ) সেই ব্যাক্তির উপর যারা শরাপ পান করে অথবা বিক্রীকরে অথবা বিক্রীত মূল্য দ্বরা নিজের কর্ম সমাধা করে ॥ এরপর বললেন, এইসব কথা হচ্ছে হুকুম বা আদেশের ব্যাপারে এবং এ জিনিস পান না করা খুব কঠিন কোন কাজ নয় ॥ কেননা প্রথম থেকে অভ্যেস না থাকলেই তো হলো , কিন্তু যারা
মদ্যপানে অবস্থ্য তাদের জন্য ত্যাগকরা কষ্টের ব্যাপার হলেও ত্যাগ অবশ্য কর্তব্য ॥ সলুকের পথে এমন এমন মহাপুরুষ (বুজর্গ) গত হয়ে গেছেন যারা নিজের নফসকে হালাল (বৈধ) পানিও পান করতে দেয়নি । উপমা স্বরূপ হযরত খাজা ইউসুফ চিশ্ তি (রঃ আঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করলেন । এক রাত্রে তার ইচ্ছা হলো হাজার রাকাত নামাজ পাঠ করবেন। কিন্তু তার নফস বিরুদ্ধাচরণের কারণ কি ? বহু অনুসন্ধানের পর তার মনে হলো, রাতে এক কোঁজা (পানি পান করার পাত্র) পানি অধিক পান করে ফেলেছেন এবং সমস্ত ফ্যাসাদ(গন্ডগোল) ঐ পানিকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে॥
অতপর শপথ করলেন, যতদিন জীবিত থাকবো নফসকে(নিজেকে) তার ইচ্ছা মত পানি পান করতে দেবনা বরং পিপাসার্ত থাকবো।
পরিশেষে তিনি তাই করেছিলেন । যতদিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন কখনো
পেট ভরে বা চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করেননি ॥ হুজুর এই পর্যন্ত বর্ণনা করে মশগুল হলেন আমিও স্বীয় কুটিরে ফিরে এলাম ॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক ॥
=============================== ==============
সপ্তম মজলিস
===============================
আজকের বক্তব্য ছিল মোমেনদেরকে (বিশ্বাসীদেরকে) দুঃখ দেয়া সমন্ধে । হুজুর এরশাদ করলেন, হুজুর করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম নির্দেশ করেছেন, মুসলমানদেরকে দুঃখ দিওনা । কারণ এদের সিনায় (বক্ষের) মধ্যে ৭০টি পর্দা রয়েছে এবং প্রতিটি পর্দার উপর একজন করে ফেরেস্তা অবস্থান করছেন । যে ব্যাক্তি কোন মোমেন মুসলমানকে দুঃখ দেয় প্রথমতঃ সে যেন কোন ফেরেস্তাকে কষ্ট দেয় , অর্থাৎ যন্তনা প্রথমে ফেরেস্তাগনের মধ্যেই অনুভূত হয় এবং পরে মোমেন উপলব্ধি করে।
যে ব্যাক্তি মোমেনকে কষ্ট দেয়, ৭০টি কবীরাহ গোনাহ্ (মদ্যপান, জেনা, অথবা এধরনের নিষিদ্ধ কোন কর্মের অপরাধকে কবীরা গোনাহ্ বলা হয় ) তার কর্মফলের(আমল নামায়) সাথে যোগ হয় এবং তার জন্য দোজখের মধ্যে একটা শাস্তির ঘড় তৈরী হয় ।
মোনাফেক(প্রবঞ্চক, ভন্ড, কপট) ব্যাতিত কউ মোমেনদের অন্তরে কষ্ট দেয় না ।
পরবর্তী বক্তব্য ছিল সূন্নত ও নফল নামাজ নিয়ে । বললেন ফরজের পরেই সুন্নত নফলের স্থান ॥ আমাদের মাশায়েগ (পীড়গন) রহমতুল্লাহ্ আলাইহিম এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি নাজের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ পাঠ করে এবং কোরান শরীফের মধ্য হতে যা তার স্মরণে আসে , সূরা ফাতেহার সংযুক্ত করে (অর্থাৎ সুরা ফাতিহার শেষ অক্ষরটির উপরে পেশ দিয়ে পরবর্তী সুরা বা আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে)পড়বেগ সে এই দূনীয়াতে বেহেস্তের সুসংবাদ পাবে মূৃত্যুর পর ৭০ হাজার ফেরেস্তা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন উপহার নিয়ে আসবে এবং দাফনের পর তার কবরে নূরের তবক বিছিয়ে দেয়া হবে॥
হায়শরের দিন ঐ ফেরেস্তাগনই তাকে কবর থেকে উত্তোলন করবে এবং ৭০ প্রকার পোষাক পরিধান করাবে॥ আল্লাহুম্মা আরজিকনা মিনহু( হে আল্লাহ্ আমাদেরকে উহা হতে রিজিক দান করো)॥
এরপর এরশাদ করলেন , যোহরের সুন্নতের পূর্বে যে ব্যাক্তি চার রাকাত নফল নামাজ পাঠ করবে এবং নামাজের মধ্যে যেসব সূরা কারাত নির্দারিত আছে তা সঠিক ভাবে অনুসরণ করবে , আল্লাহ্ তায়লা তার
হাজার বাসনা পূর্ণ করবেন ॥ প্রত্যেক রাকাতের বিনিময়ে ১০০০ হাজার বছর এবাদতের সওয়াব পাবে ।
এরপর বললেন, যে ব্যাক্তি আসরের চার রাকাত সুন্নতের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে, সে তার প্রতি রাকাতের বিনিময়ে, বেহেস্তে একটি করে প্রাসাদ (মহল) পাবে ॥
এ রওয়ায়েত হযরত আবু হুরায়রা (রাদিঃ) হযরত রসূলে খোদা (সাঃ)
হতে বর্ণনা করেছেন ॥ যে ব্যাক্তি মাগরেবের নামাজের পরে চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে সে ব্যাক্তি রোজ হা শরের আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাবে॥ যে ব্যাক্তি মাগরেব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে চার রাকাত নামাজ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তায়লা তাকে সমস্ত বালা মুসিবত হতে মুক্ত রাখবেন এবং বিনা হিসাবে তাকে বেহেস্ত প্রদান করবেন॥
এছাড়াও প্রতি রাকাত নামাজের বিনিময়ে, একজন নবী (আঃ) দের ছওয়াব প্রদান করা হবে॥ যে ব্যাক্তি এশার নামাজের পরে চার রাকাত
সুন্নত নামাজ পাঠ করবে সে আল্লাহ্ তায়লার বারগাহে (দরবারে) গৃহীত হবে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্তে স্থান পাবে॥
এই সমস্ত নামাজ আল্লাহ্ তায়লার বন্ধুগন ব্যাতিত কেউ পাঠ করেন না। এরপর এরশাদ করলেন , যেব্যাক্তি অধিক নামাজ পাঠ করে, তার অর্জিত সওয়াবের পরিমাণ হবে ফেরেস্তাদের অর্জিত এবাদত হতেও অধিক। অর্থাৎ ঐ পরিমাণ ছওয়াব তাকে দান করা হবে॥
এরপর বললেন , মোমেনদেরকে দুঃখ কষ্ট দেয়া সমন্ধে। আহলে সলুকগণ অপরের সঙ্গে কথা বলা এই জন্য বন্ধ করে দেয় যাতে কথা বলতে যেয়ে কোন মুসলমান ভাইয়ের অন্তরে দুঃখ না দেয়া হয়। আহলে সলুক শুধু ভয় পায় এই ব্যাপারকেই এবং এ জন্যই তারা নিজেদেরকে বোবা ও বধির করে রাখে॥
এই পর্যন্ত বলার পর হুজুর আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন এবং আমি আমার নির্ধারিত স্থানে ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ।
========================================= = ==
অস্টম মজলিস
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
গালি দেওয়া সমন্ধে আলোচনা শুরু করলেন ॥
এরশাদ করলেন , কোন ব্যাক্তি কোন মুসলমানকে গালি দেয়ার অপরাধের মানদন্ডটি দাড়ায়, স্বীয় মা বোনের সঙ্গে জেনা (নিষিদ্ধ সহবাস) করার সমতুল্য ॥
ফেরাউনের সাহায্য কারীদের মধ্যে তার নাম লেখা হয়ে যায় ।
(ফেরাউন হযরত মুসা (আঃ ) কে দুঃখ কষ্ট দেয়ার অগ্রনায়ক ছিল ) এরপর এরশাদ করলেন , কোন ব্যাক্তি কোন মুসলমানকে গালি দিলে
তার দোয়া ১০০ দিন পর্যন্ত কবুল হয়না এবং সে যদি বিনা তওবায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে দোজখ হবে তার বাসস্থান ।
পরে এরশাদ করলেন , একসময় খাজা নাসিরুদ্দিন আবু ইউসুফ চিশতী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম ।
ইলমের বাহাস (জ্ঞানের বির্তক ) চলছিলো । এক ব্যাক্তি খুব বাকপটুত্ব দেখাচ্ছিলো এবং উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছিল ॥
খাজা আবু ইউসুফ চিশতী(কুঃসেঃআঃ) ঐ ব্যাক্তিকে বললেন আস্তে কথা বল। একথা শুনে সে ব্যাক্তি চুপ হয়ে গেল এবং নিজের জিহবাকে এমনভাবে চিবালো যে, একেবারে রক্তাক্ত হয়ে গেল । অবশেষে নিজের নফসের দিকে খেয়াল করে বলতে লাগলো, তোর এই অযথা কথা বলার কি প্রয়োজন ?
মজলিস হতে নিশ্চুপ উঠে বেড়িয়ে গেল । পরবর্তীতে সে দশ বছর পর্যন্ত এই অপরাধের জন্য নির্জনে এবাদতে মশগুল ছিল॥ এরপর খাবার দেওয়া হলো। দস্তরখানা সাদা ছিল । তিনি বললেন , লাল দস্তরখানা নিয়ে এসো, তার উপর খাবার রেখে খাওয়া হবে । কেননা রসূলে মকবুল (সাঃ) খাঞ্চার (tray ) মধ্যে খুব কম সময়ই আহার করতেন ॥ যদি মেহমান আসতো এবং মেহমানদারি করা হতো , তাহলেও লাল দস্তরখানা ব্যাবহার করা হতো। এরপর এরশাদ করলেন , হযরত ঈসা (আঃ) এর দস্তরখানাও লাল ছিল এবং সেটা আসমান থেকে অবর্তীন্য হয়ে
ছিল । এরপর এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে আহার করে, তার প্রতি লোকমা (গ্রাস) এর প্রতিদানে একশ করে ছওয়াব পাবে এবং বেহেস্তের ১০০টি করে দরজা তার জন্য নির্ধারিত হবে॥ সে ব্যাক্তি বেহেস্তের মধ্যে সব সময় ই হযরত
ঈসা (আঃ) ও অন্য নবীদের হাজার হাজার সালাম এবং আর্শিবাদ লাভ করবে । আর যে ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে কোন গরীব দুঃখিকে আহার করাবে তার জন্য শ্রেষ্ঠ প্র তিদান তার আমল নামায় লেখা হবে এবং রুটি খাওয়া শেষ হবে তখন, আল্লাহতায়লা তার পুন্জিভূত গুণাহ্ কে মাফ করে দেবেন॥
এরপর এরশাদ করলেন, লাল দস্তরখানে খাবার খাওয়া , হযরত
ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ্ (আঃ) এর সুন্নত এবং এই সুন্নত অন্য আম্বিয়াদের ও ছিল॥
হযরত মূসা (আঃ) কখনও লাল দস্তরখানে খাবার না রেখে আহার করতেন না । এরপর হযরত কসম খেয়ে বর্ণনা করলেন,
কসম সেই খোদার যার হাতে নীহিত আছে আমার প্রাণ। যে লাল দস্তরখানে রূটি খাবে সে একটা ওমরার ছওয়াব পাবে, এবং এক হাজার ক্ষদার্থকে পেট ভরে খাওয়ানোর ছওয়াব পাবে।
সে ব্যাক্তি এতো বেশী ছওয়াব লাভ করবে যেন আমার উম্মতের মধ্যে হাজার বন্দিকে মুক্ত করালেন।
এরপর এরশাদ করলেন , যে ব্যাক্তি সব সময় লাল দস্তরখানে আহার করতে থাকে রোজ হাশরে জিব্রাইল (আঃ) তার জন্য বেহেস্তী পোষাকসহ বোরাক নিয়ে আসবে, বোরাকের উপরে উপবেশন করিয়ে এবং পোশাক পড়িয়ে বেহেস্তে নিয়ে যাবে ।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি কোন মেহমান কে লাল দস্তরখানে আহার করাবে , যে প্রতিটি দানা যা মেহমানকে ভক্ষণকরাবে , প্রতি দানায় দানায় হাজার হাজার নেকি পাবে ॥
এরপর এরশাদ করলেন , আমি আমার পীর হযরত খাজা শরীফ জিন্দানী (রঃ) এর মূখে শুনেছি , তিনি বলেছিলেন,
যে, ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে খানা খাবে এবং খাওয়াবে, আল্লাহ্ তায়লা তাকে রহমতের নজরে দেখেন এবং হাজারটি বেহেস্তের প্রকোষ্ঠ তাকে দান করবেন ॥
হযরত খাজা যখন এ বর্ণনা শেষ করে মশগুল হলেন, তখন এ দোয়া প্রার্থী নিজের জায়গায় ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
============================= ============
নবম মজলিস
===============================
বৃত্তি বা পেশা সমন্ধে আলোচনা শুরুকরলেন । বললে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এর নিকট একবার জানতে চাওয়া হয়েছিল
ব্যাবসা কেমন ? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আল্ কাসিবু হাবিবুল্লাহ্ । অর্থাৎ যারা ব্যাবসা করে, তারা আল্লাহ্ র বন্ধু।
ঐ সময় মজলিসের মধ্য হতে দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনি আমার পেশা সমন্ধে কি বলেন ? রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন তোমার পেশা কি ? সে বলল আমি দর্জির কাজ করি ॥
তিনি বললেন , তোমার পেশা অতি উত্তম, যদি তুমি সততা অবলম্বন করো, কল কেয়ামত ঈদ্রীস (আঃ) এর সঙ্গে তোমার হাশর হবে ॥ এরপর একজন দাড়িয়ে বললেন, আমার পেশা সমন্ধে কি বলেন ? তিনি জীজ্ঞাসা করলেন তোমার পেশা কি ?
তিনি উত্তরে বললেন, আমি হারছী অর্থাৎ কৃষক, খাদ্যশস্যের চাষাবাদ করি ॥ তিনি উত্তর দিলেন, এই কাজটি খুবই উত্তম ।
হযরব জিব্রাইল আঃ হযরত আদম (আঃ) কে এই পেশা শিখিয়েছিল । যদি মিথ্যা না বলো, চুরি না করো তাহলে, হাশরের দিন আদম (আঃ) এর সঙ্গে তোমাকে উঠানো হবে ও উত্তম বেহেস্ত দান করা হবে এবং তার প্রতিবেশী হবে ॥ এরপর একজন
ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম , আমি কর্মকার। তিনি বললেন তোমার পেশা পূর্ণতা লাভ করে, হযরত দাউদ (আঃ) এর হাতে । তিনি বলতেন, যারা কর্মকার তাদের হাশর আমার সঙ্গে হবে, বেহেস্তে সে আমার পর্শী হবে ।
এরপর আরও একজন লোক দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্
আপনি আমার পেশা সমন্ধে কি আদেশ করেন ? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার পেশা কি ? তিনি উত্তর দিলেন বস্তকারী, অর্থাৎ
(তরিতরকারী) উৎপন্ন করি । তিনি বললেন, তোমার পেশা অত্যন্ত ভালো, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ও এই পেশা ছিল । আল্লাহতায়লা মঙ্গল করুন এবং সূফল প্রদান করুন ॥ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এই পেশা অবল্বনকারীদের জন্য দোয়া করেছিলেন । হাশরের দিন আমার সাথে তাদের হাশর হোক এবং আমার প্রতিবেশী হোক ।
এবার অন্য একজন দাড়িয়ে বললেন , আমার পেশা শিক্ষকতা। তিনি জবাবে বললেন এই পেশাদারীকে আল্লাহ্ তায়লা বন্ধু মনে করেন । আরও বললেন , হাশরের দিন আমার সাথে তোমার হাশর হবে । এবং তুমি আযরে আজীম (শ্রেষ্ঠ প্রতিদান) লাভ করবে । এই দোকানদারী
যদি পড়াবার সময় নির্ভূল ও মনোযোগ সহকারে পড়াও তাহলে ফেরেস্তা তোমার জন্য আস্তাগফার (ক্ষমা পর্থনা) করবে ॥ এরপর আরও একজন লোক দাড়িয়ে বলতে লাগলেন , আমার পেশা তেজারত ব্যবসা । তিনি এরশাদ করলেন এটাও ভালো পেশা যদি সততা বঝায় রাখো তাহল হযরত লোকমান (আঃ) এর সঙ্গে বেহেস্তে স্থান পাবে । এরপর তিনি বললেন, হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন,
তালাবাল হালালে ফারিজাতুন আলা কুল্লে মুসলেমেও মুসলেমাতিন । অর্থাৎ হালাল রুজি প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উপর ফরজ ॥
এরপর এরশাদ করলেন , আলকাসেবু সাদিকুল্লাহ্ " অর্থাৎ পেশা অবল্বনকারী আল্লাহর সাদেক অর্থাৎ বন্ধু । অন্যত্র বলেছেন,
আল কাসেবু হাবিবুল্লাহ , অর্থাৎ পেশা অবল্বন কারীরা আল্লাহ তায়লার বন্ধু ।
এরপর এরশাদ করলেন , বৃত্ত অবল্বনকারীর উচিৎ , যে পেশায় আকৃষ্ট হয়েছে তার উপর অধিক গুরুত্ব না দিয়ে বুঝতে চেষ্টা পেশা শুধু পেশার জন্যই। এতে অন্য কোন উপকার নেই । তাকে অবশ্যই ফরজ নামাজ, রোজা, ও রসূলে খোদা (সাঃ) এর সূন্নত সমূহকে প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে , এবং এগুলি সমাধা করার পর পেশায় নিয়োজিত হতে হবে ॥ আল্লাহ্ তায়লার করুনা
লাভের জন্য নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন ॥
আহলে আশেকদের মধ্যে যদি কেউ চিন্তা করে যে, পেশার মাধ্যমে রুজী আসে তাহলে সে সাথে সাথেই কাফের হয়ে যাবে । কেননা রিজিকের ব্যাপারে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন,
রিজিক দানের অধিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বয়ং ।
যদি কেউ বলেন , ম্যায় আন্ধিবানকে কাম করতে হ্যায় আওর বিবি বনকে খাতে হ্যায় " অর্থাৎ আমি অন্ধ সেজে কাজ করি, এবং বিবি সেজে খাই , তাহলে এ প্রবচনকারীও কাফের হয়ে যায় । এবং এরুপ আরও অনেক খারাপ প্র দেখে ===== বচন আছে যা আমরা ব্যাবহার করি কিন্তু যার পরিণতি জানিনা । এরপর এরশাদ করলেন, আমি উমদাহ্ কেতাবে লেখা দেখিছি , হযরত আবু দারদা(কুঃ সাঃ) প্রথমদিকে দিকে দোকানদারী পেশায় একযুগ পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন এবং হঠাৎ করে ছেড়ে দিলেন,
লোকজন তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায় , তিনি উত্তর দিলেন , আমার কাছে এর স্বরুপ উ দ্ ঘাটিত হয়েছে। আমার এ দোকানদারী মুসলমানিত্বের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত ছিল না , আমার দ্বারা এ কাজের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রাপ্য সম্পূর্ণ আদায় হচ্ছিল না বরং কমে যাচ্ছিল ॥
এরপর এরশাদ করলেন , হযরত ইমামে আজম আবু হানিফা (রাঃ) কোন এক ব্যাক্তির নিকট কিছু টাকা পেতেন । তিনি যখন তার নিকট টাকা ফেরত চাইতেন, তখন সে প্রত্যেকদিনই পরিশোধ করার শপথ করতো।
পরে একদিন সে সাতদিনের সময় চাইলে, তিনি তাকে সময় দিলেন॥ সে এক সপ্তাহের মধ্যে কোন কাজ সমাধা করতে শ্যাম দেশে চলে গেল, কিন্তু ফিরে এলো একবৎসর পরে , তিনি আবার তাগাদা দিলেন, সে আবার ও সাত দিনের সময় চাইলো । তিনি এবারও তাকে সময় দিলেন, কিন্তু পূর্বের মত এবারও সে কোথাও চলে গেল, এবং একবছর পর ফিরে এলো,
এমনি ভাবে হযরত আবু হানিফা (রঃ) তাকে সাতবার সময় দিলেন এবং সাতবারই অন্যত্র যেয়ে এক বছর পর ফিরে আসতো। কিন্তু এ জন্য ইমাম সাহেব কখনও তার প্রতি
কটুবাক্য ব্যাবহার করেননি। শেষবার যখন ফিরে এলো তখন ঐ
লোকটি বলতে লাগলো , আপনার মজহাব এর আদর্শ দেখে
দুঃখ হয় যে, এতো পরিচ্ছন্ন আদর্শ দেখেও মানুষ গ্রহণ না করে
থাকতে পারে কি করে । সে আবেদন করলো, হযরত আপনি
আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করুন। হযরত তাকে ইসলামে দীক্ষা দিলেন।
এই ঘটনার বলা শেষ করে হযরত খাজা ওসমান হারুণী (রহঃ)
বলতে লাগলেন যে, ঈ ব্যাক্তির ইসলাম গ্রহণ করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল যার জন্য ইমামকে আল্লাহ্ তায়লা , তার প্রতি
মেহেরবান করে দিয়েছিলেন। তাই সেদিন লোকটি মেহেরবানীর
মর্যাদা মুসলমা হওয়ার মাধ্যমে প্রদান করলো ।
এই পযন্ত বলা শেষকরে তিনি মশগুল হলেন । আমি ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%% %
দশম মজলিস
=================================এ
আলোচনা মুসিবত সমন্ধে শুরু হলো ,
খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ বললেন, হযরত আবদুল্লাহ্ আনসারী রাদিআল্লাহ তায়লা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হতে এরশাদ করেছেন,
মুসিবত(বিপদাপদ, দুঃখ, দূর্ঘটনা) এর সময় যে বিলাপ ও চিৎকার করে সে কাফের ।
তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে, এবং তার নাম মুনাফেকদের তালিকায় তার নাম অন্তভুক্ত করা হবে ॥
আল্লাহ তায়লার লা -নত (অভিশাপ) তার ওপর আবর্তীন হয় ॥
মুসিবতে চিৎকার করা ইবলিশের (শয়তান) কাজ ॥ যে বিপদে আপদে ক্রন্দন বা চিৎকার করে শত বছরের সূকর্মফল নষ্ট হয়ে
যাবে । এবং শত বছরের গোনাহ তার আমল নামায় লেখা হবে।
এই সময়ের মধ্যে তওবা ( আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) না করে মৃত্যু হলে , দোজখে ইবলিশের সঙ্গে স্থান হবে।এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা ইব্রাহিম বিন আদহম বলখী (কুঃসেঃ) একদিন কোথাও যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে পেছন দিক থেকে ক্রন্দন ও চিৎকার শুনতে পেলেন, পেছনে পিছিয়ে যেয়ে বিলাপকারীর দেখা পেলেন। তিনি তাকে দেখে ফিরে চলে এলেন এবং এসে এধরনের কৌতূহলের জন্য নিজের নফসকে
এমন শাস্তি দিলেন যে ২০ বছর পর্যন্ত এধরনের
দৃশ্য দেখা বা শোনা থেকে রইলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি নিজের
কানের মধ্যে শীসার গুল ঢুকিয় শ্রবণপদ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি মুসিবতে ক্রন্দন করে, আল্লাহতায়লা
হাশরের দিন তাকে রহমতের নজরে দেখবে না ॥এবং দোজখে তার কঠিন শাস্তি হবে ॥
অন্যত্র বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি মুসিবতের সময় নিজের কাপড় ছিরে ফেলে এবং বিলাপ করে হাশরের দিন তার উভয় আবরণের মধ্যেই
লেখা থাকবে, এ ব্যাক্তি আল্লাহর রহমতকে বিশ্বাস করতো না।
পূরণায় বললেন , যে ব্যাক্তি দুঃখ কষ্টের সময় নিজের মূখ কালো করে , তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দোজখের মধ্যে একটা প্রকোষ্ঠ তৈরী
করা হবে এবং তার কোন ইবাদত কবুল হবেনা॥
অতপর পিপাসার্তকে পানি পান করানোর বিষয়ের ওপর আলোকপাত
করলেন, তিনি এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি পিপাসার্তকে পানি পান করাবে , সে গুণাহ্ হতে এমনভাবে প্রবিত্র হয় , যেন সদ্যজাত শিশু মায়ের পেট হতে ভূমিষ্ট হয়েছে।
যদি ঐদিন তার মৃত্যু হয় তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। আরও এরশাদ করলেন,
যদি কেহ কাহারো পিপাসা নিবারণে জন্য শরবত পান করায় আল্লহ্ তায়লা তার হাজারো বাসনা পূর্ণ করেন এবং সে দোজখের অগ্নি হতে মুক্তি পাবে ও বেহেস্ত লাভ করবে।
পরের বক্তব্য ছিল কন্যা সন্তান সমন্ধে, তিনি এরশাদ করলেন,
কন্যা সন্তান আল্লাহর নিকট হতে বান্দাদের জন্য উপহা স্বরুপ।
প্রত্যেকের উচিৎ কন্যা সন্তানকে মর্যাদা দেয়া।
যে ব্যাক্তি কন্যাদের মর্যাদা রক্ষাকরে আল্লাহ তায়লা তাকে সূখ শান্তিতে
রাখেন। যার ঘরে দুটো কন্যা সন্তান আছে, এবং সে তাতে সন্তুষ্ট থাকলে ৮০ টি হজ্বের সওয়াব তাকে প্রদান করা হয়। তার মর্যাদা ঐ ব্যাক্তির মর্যাদার চেয়েও উচ্চে যে ব্যাক্তি ৭০ জন গোলামকে মুক্ত করেছে।
যার ঘরে একজন কন্যা সন্তান আছে , আল্লাহতায়লা দোজখকে তার নিকট হতে ৫০০ বছরের পথ দূরত্বে রাখে।
এরপর এরশাদ করলেন, আমাদের নবী করিম (সাঃ) কন্যা সন্তানকে বন্ধু মনে করতেন।
যখন হযরত খাজা (রহঃ) বক্তব্য করে আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন ,
তখন দোয়াপ্রাথী নিজের জায়গা ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক।
================================
একাদশ মজলিল
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
এবার বক্তব্য শুরু করলেন পশু জবাই সমন্ধে।
এরশাদ করলেন, আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রঃ) হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, যে ব্যাক্তি (নফসের তৃপ্তির জন্য) ৪০ টি গরু জবাই করে, একটা খুনের অপরাধ তার
নামে লেখা হয় এবং যে ব্যাক্তি ১০০ টি ছাগল জবাই করে, তার নামেও একটা খুনের অপরাধ লেখা হয় এবং যে অন্যায় ভাবে গাভী বধ করে তার অবস্থা এমন হবে যেন সে কাবা শরীফ ধ্বংস করতে সাহায্য করলো।
কিন্তু এগুলো সেই কারণেই জবাই করা উচিৎ ; যে সব করারণে জবাই করার বিধান রয়েছে।
এরপর এরশাদ করলেন, আমি আমার পীরেরর মূখে শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ্ মোবারক নামের এক বুজুর্গের কথা বলতেন,
যার বয়স ৭০ বৎসরের মতো ছিলো। তিনি বলতেন, আমার ৭০ বছরের জীবনে কখনো কোন পশু জবাই করিনি।
এর পর এরশাদ করলেন, হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন,
কোন পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করা উচিৎ নয় কারণ আগুন আল্লাহর আযাব।
যদি কোন ব্যাক্তি পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করে তার প্রায়শ্চিত্ত বা (কাফ্ ফারা) হলো একজন কৃতদাসকে মুক্ত করে দওয়া অথবা
৬০ জন মিসকিন (দীন দুঃখী) কে আহার করানো অথবা ৬০ টি
রোজা রাখা।
যে ব্যাক্তি এ প্রায়শ্চিত্ত বা কাফ্ ফারা আদায় করবে না সে কেয়ামতেরদিন হকতায়লার আযাবে পতিত হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, নবী (সাঃ) বলেছেন, পশুকে আগুনে ফেলো না।
আল্লাহ্ তায়লার এই ধ্বংসশীল দুনিয়া ও আখেরাতের আযাবকে ভয় কর। পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করলে একাধারে দুমাস রোজা রাখতে হবে। কেননা পশুকে আগুর মধ্যে ফেলা এমন গুণাহ্, যেমন মায়ের সাথে জেনা করা।
এরপর হুজুর নামাজ সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন,
এ রাস্তায় এমন অনেক শক্তিধর মহাপুরুষ আছেন যারা রুকু সেজদাতে আল্লাহর নিকট হতে লাব্বায়েক আবদি (হে আমার বান্দা আমি উপস্থিত) না শোনা পর্যন্ত রুকু ও সেজদা হতে মাথা
উত্তোলন করেন না।
আমি সলুকের কিতাবে লেখা দেখেছি যে, একবার খাজা জোনায়েদ বোগদাদী (রহঃ) এবং শায়খ শিবলী (রহঃ) নতুন ভাবে অজু করার জন্য দজলা নদীতে যেয়ে অজু করতে লাগলেন, নদীতে তা রা এক কাঠুরিয়াকে অজু করতে দেখলেন । হযরত শিবলী এবং জোনায়েদ বোগদাদী (রহঃ) ওজু শেষ করে তারা বলতে লাগলেন, কাঠুরিয়াকে ও
কিন্তু একজন উচ্চদরের বুজুর্গ(আল্লাহর নৈকট্যপ্রাত ব্যাক্তি বলেই মনে হচ্ছে।
তার অজু শেষ হলে তারা দুজনে তাকে পেশ ইমাম হওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন এবং বললেন,
অনুগ্রহকরে আপনি নামাজ পড়ান, তিনি নামাজ আরম্ভ করলেন,
কিন্তু রুকু এবং সেজদাতে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে লাগলেন। নামাজ শেষকরে এরা উভয়ে তাকে
রুকু এবং সেজদাতে এত দীর্ঘ সময় ব্যাবহার করার কি কারণ
জানতে চাইলেন । তিনি উত্তর দিলেন, আমি রুকু ও সেজদাতে
প্রতেকটি তসবীহ পাঠ করার পর যতক্ষণ না লাব্বায়েক আবদি
শুনতাম ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বীতিয় তকবীর বলতাম না । এটাই ছিল রুকু ও সেজদাতে দেরি করার কারণ ।
প্রথম মজলিস
=================================ঈমান (বিশ্বাস) - এর আহকাম (আদেশ সমুহ) সম্মন্ধে আলোকপাত করলেন ॥ এ সমন্ধে বলতে যেয়ে,
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল বারী বললেন যে, হযরত আমিরুল মু'মেনীন আব্বাছ
রাদিআল্লাহু তায়লা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে সাল্লাম
এরশাদ করেছেন, ঈমান একটি উলঙ্গ জিনিস, তার পোশাক হলো তাকোয়া(সংযমশীলতা) ,তার পা হচ্ছে
দরিদ্রতা, তার ঘর হচ্ছে জ্ঞান, এবং তার কথোপকথন হচ্ছে , আশহাদু আল লা ই লাহা ইল্লাল্লহু ওয়া আশহাদু
আন্না মুহামাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু ॥ এরপর এরশাদ করলেন , হে দরবেশ ঈমানের মুল কখনো, বৃদ্ধিপায়না
কখনো হ্রাসও হয়না॥যে বলে যে কমবেশী হয় , সে নিজের অস্থিতকে (জাতকে) কষ্ট দেয়,কারণ সে মিথ্যা বর্ণনাকারী॥ এরপর এরশাদ করলেন, যখন রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর প্রতি নির্দেশ
এলো যে, কাফেরদের সঙ্গে ততখন পযন্ত যুদ্ধ করুন যতক্ষণ না তারা লা ই লাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ব্যাতিত
স্রষ্টা নেই) বলে॥ হযরত রসূলে খোদা সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম সে নির্দশ অনুসারেই কাজ করেছেন,
যতক্ষণ না তারা কালেমা পড়ে ঈমান এনেছে অর্থাৎ প্রবিত্র অন্তকরণে সাক্ষী দিয়েছে যে, আল্লাহ এবং তার
রসূল সত্য ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন॥ পরবর্তী পর্যায়ে নামাজ অবতীর্ণ হলে প্রত্যেকেই বিনা দ্বীদায়
তা গ্রহণ করেছেন ॥এরপর রোজার আদেশ হলো, রোজাও সবাই সন্তুুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করলেন ॥ তারপর এলো হজ্ব করার হুকুম ॥
এর প্রতি ও প্রত্যেকে সম্মাণ প্রদর্শন করলেন ॥অবশেষে এ সমস্ত পালন করার জন্য আদেশ হলো বলা হলো সবই ঈমানের আর কান(স্তম্ভ)॥
নামাজ পালন করতে যেয়ে যদি নামাজের ক্ষতি বা অঙ্গ হানি হয় তবে তা অতিরিক্ত(নফল) নামাজ দ্বারা পূর্ণ করতে সহজ করে দিয়েছন আল্লাহ তায়লা এবং এমতাবস্তায় ফেরেস্তাদের বললেন , দেখ আমার বান্দারা
নফল দ্বারা কিভাবে ফরজের ঘাটতি পূরণ করে নিচ্ছে॥ যে ফরজ এবং নফল কিছুই পাঠ করেনা সে দোজখের শাস্তি ভোগ করবে॥
অবশ্য যদি সে আল্লাহতায়লার বিশেষ রহমতের আওতাধীন থাকে বা
রসূলে মকবুল সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের শাফায়েত লাভ কারীদের
অন্তভুক্ত হয় তাহলে মুক্তি পাবে॥ যে ব্যাক্তি আল্লাহতায়লার ফরজ(অবশ্য কর্তব্য ) অস্বীকার করে সে, কাফের॥ কসম(শপথ) সেই মহাপরাক্রম আল্লাহতায়লার, কারো স্বাধীনতা নেই সে ঈমনের বিষয়গুলো হ্রাস বৃদ্ধ করে॥ এরপর পর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু
হতে বর্ণিত আছে যে, রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলতেন, ঈমান নূর যা ক্বলবে অবস্থান করে॥
যদি কোন ব্যাক্তি নেক কাজ তাহল তার অন্তরে তখন শুভ্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং নেক কাজ তার মাঝে সুপ্রতিষ্ঠীত হলে সম্পূন্য অন্তর সাদা হয়ে যায়॥ এরুপ স্থলে ঈমানের স্বাদ অর্জিত হয়॥
এ ঈমান বিশেষ ভাবে বন্ধুত্ব লাভের জন্য॥ নিফাক (কপটতা) হলো অন্ধকার বস্তু, যখন কোন মু মেনের অন্তরে প্রবেশ করে তখন সেখানে কালিমার সৃষ্টিকরে ॥
গোনাহের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে হৃদয়ের কালিমাও প্রসারিত হয়॥
গোনাহকর্মে দৃঢ়তা অবলন্বন করলে সম্পূর্ণ অন্তর অন্ধকার হয়ে যায় ॥ এ অবস্থায় সে মুনাফেকে
(অবিশ্বাসী) পরিণীত হয়ে যায় এবং আল্লাহতায়লার রহমত হতে বঞ্চিত হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, হে দরবেশ, যদি মুমেনের দ্বীল চেরা যায় তাহলে দেখবে সেখানে
শুভ্রতা ভিন্ন কালোর চিহ্নও পাবেনা॥
তারপর বললেন, আমি আমার পীর ও মুর্শেদ , হযরত খাজা হাজী শরীফ জিন্দানী কুদ্দেসা সিররুহুর
মুখে শুনেছি যে, হযরত আনিস বিন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু পয়গাম্ভর সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম
হতে রওয়ায়েত(বর্ণনা ) করেছেন যে প্রকৃত ঈমান কম বেশী হয় না ॥
কিন্তু এর ১০১টা হদ (ধাপ বা পরিধি) আছে , যে ব্যাক্তি এর মধ্যে কমবেশী বর্ণনা করবে , সে ব্যত্যয়
প্রভেদ সৃষ্টিকারী॥ এর প্রকৃত রুপ হচ্ছে, লা-ই-লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্
॥ এর হদ বা পরিধি হচ্ছে নামাজ , রোজা, হজ্ব ও যাকাত ॥
যানাবাত (সহবাস) এর গোসলও এর মধ্যে অন্তভুক্ত ॥ যে ব্যাক্তি অধিক নেকি করবে, সে অধিক
ছওয়াব (প্রতিদান) পাবে এবং যে বিমুখ থাকবে সে কোন প্রতিদান পাবে না বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবে॥
এরপর এরশাদ করলেন ,কিয়ামতের দিন বারিতায়লা মু মেনদেরকে তাদের আমল (কর্ম) সম্বন্ধে
জীজ্ঞাসাবাদ করা হবে ঈমান সমন্ধে প্রশ্ন করবেনা কিন্তু কাফেরদের কে ঈমানসম্বন্ধে ই জিজ্ঞাসা বাদ করা হবে ॥ মু মেনদের ঈমান ধ্বংস হয়না , কিন্তু কাফেরদের ঈমান ধ্বংস হয়ে যায় ॥
নামাজ ত্যাগকারী এবং অস্বীকার কারী (মুণকির), নিম্নোক্ত হাদিসের নির্দেশে কাফের হয়ে যায়॥
হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহ আলায়হে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন , মান তারাকাস্ সালাাতা মুতা আম্মেদান ফাকাদ কাফারা , অর্থাৎ যে ব্যাক্তি বুঝিয়া শুনিয়া নামাজ ত্যাগ করে সে কুফর (অবিশ্বাস)
করে এবং কাফের হয়ে যায় ॥ ইমাম শাফি রহমতুল্লাহে আলায়হের মজহাবে এমন ব্যাক্তিকে কতল(হত্যা) করা ওয়াজেব॥
এ অতূলনীয় ও অমিয় বানী বর্ণনা পর হযরত খাজা নিশ্চুপ হলেন এবং স্বীয় কর্মে বিভোর হলেন ॥
এ অধম তার জায়গায় চলে এলো॥ আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
দ্বিতীয় মজলিশ
===================================
হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম এর মোনাজাত সম্মন্ধে হযরত খাজা ওসমান হারুণী(রহঃ)আলোচনা আরম্ভ করলেন। বললেন, আমি হযরত খাজা নাসিরুদ্দীন মওদুদ চির্শতী কাদ্দাসাল্লাহু সাররাহু হতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি তাম্বীহ আল গাফেলিন" পূস্তকে লেখা দেখিছি যে, আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম
হতে শুনেছেন, আল্লাহ্ জাল্লে কাদেরহু তার পাক কালামে এরশাদ করেছেন,
ফাতালাক্কা আদামা মের রাব্বিহি কালেমাতিন ফাতাবা আলায়হে॥
যখন হযরত আদম (আঃ) এর বেহেস্তী পোশাক তার অপরাধের জন্য খসে পরেছিল যার কারণে তিনি বেহেস্তের মধ্যে এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছিলেন, তখন আল্লাহ্ তায়লা তাকে জিজ্ঞেস করলেন হে আদম ,আমার নিকট হতে পালাচ্ছ কোথায় ?
হযরত আদম ( আঃ) উত্তরে বললেন, হে খোদা তোমার নিকট হতে কে পালাতে পারে, এবং যাবেই বা কোথায় ? আমি আমার ভুলের কারণে লজ্জিত হয়ে পরেছি॥
অপরাধ স্বীকার করায় আল্লাহ তায়লা তাকে কলেমা শিখালেন , যার উছিলায় তিনি তওবা করলেন এবং পরম করুনাময়ের দরবারে তা গৃহীত হলো ॥এ
পরবর্তী পর্যায়ে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ সমন্ধে কিছু জটিল তথ্য প্রদান করলেন ॥
হযরত এবনে আব্বাছ রাদিআল্লাহ্ তায়লা আনহুর বরাত দিয়ে বললেন যে, তিনি হযরত রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে, রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, যখন মানুষের মধ্যে গুণাহের পরিমাণ পায় তখন আল্লাহ্ তায়লা ফেরেস্তাদেরকে হুকুম করেন সেখানে চন্দ্র বা সূর্যের আলো কিছু ক্ষণের জন্য ঢেকে দাও, যাতে সৃষ্টি সাবধান হয় ॥
এরপর এরশাদ করলেন , যখন মহ্ রম মাসে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় সে বছর অনেক বালা (দুঃখ) অবতির্ণ হয়, ফেতনা (গণ্ডোগোল) বৃদ্ধি পায়, বুজুর্গদের
উপরে বিনা কারণে অপবাদ ঘটে ॥
সফর মাসে গ্রহণ হলে , বৃষ্টি কম হবে, নদী শুকিয়ে যাবে, রবিউল আউয়াল মাসে সূর্যগ্রহন বা চন্দ্রগ্রহণ হলে, কঠিন আকাল পড়বে, যার ফলে অসংখ্যলোক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে, ॥
রবিউস্ সানী মাসে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হলে, দেশের শস্যভান্ডার ভরে যায়, কিন্তু
বুজুর্গদের মৃত্য অধিক হবে॥
জমাদিউল আউয়াল মাসে গ্রহণে, ঝড় বৃষ্টি তুফান হবে,এবং আকস্মিক মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যাবে ॥
জমাদিস্ সানী মাসে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হলে সুফল ফলবে॥সে বছর ফসল খুব ভালো হবে, এবং দ্রবমূল্য হ্রাস পাবে ও ঐশ্বর্য বেড়ে যাবে ॥
রজ্জ্বব মাসে যদি সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ নতুন চাঁদের প্রথম শুক্রবারে হয়
তাহলে দুঃখত দূরর্ভিক্ষ মানুষের প্রতি অত্যাধিক বেড়ে যাবে
আকাশ বিকট থেকে আওয়াজ শোনা যাবে
শাবান মাসে গ্রহণ হলে মানুষ শান্তিতে থাকবে
এরপর রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন যদি রমজান মাসের প্রথম শুক্রবারে দিনে অথবা রাতে সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ হয়
তাহলে দেশে অনেক বিপদ আপদ নেমে আসবে এবং অনেক লোক মারা যাবে ।
শাওয়াল মাসে গ্রহণ হলে হাওয়ার গতি অত্যাধিক বেড়ে যেয়ে অনেক গাছ উপরিয়ে ফেলবে । জিলক্বদ মাসে গ্রহণ হলে অনেক রোগ অবর্তীন হবে।
জিলহজ্ব মাসে গ্রহণ হলে মনে করবে দূনীয়ার আয়ু শেষ হয়ে এসেছে, ফেতনা প্রতিষ্ঠিত হবে, আয়েব (দোষ) ঢেকে রাখার লোক মরে যাবে, অপরের দোষ বলে বেড়ারার লোক অধিক হবে, বাইরের সাজ সজ্জা বেড়ে যাবে, তাদের আখেরাতের সুফল বিনষ্ট হবে।
দুনিয়ার প্রতি প্রেম বেড়ে যাবে, অর্থাৎ মানুষ পরলালের চিন্তা পর্যন্ত ও ছেড়ে দেবে । মানুষ মোনাফেকদের সম্মান করবে, দরবেশদের কে দীন-দুঃখী মনে করে ঘৃণা করবে । সে সময় তাদের প্রতি আল্লাহ্ তায়লা এমন একটা বিপদ প্রতিষ্ঠিত করবে যার, কারণে তাদের সূখ বিনষ্ট হবে ।
নাউজুবিল্লাহ্
হযরত খাজা এ অমিয় বানী বর্ণনা করার পর স্বীয় কাজে মশগুল হলেন। আমি আমার বিজন স্থানে চলে এলাম ।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক।
===============================================
তৃতীয় মজলিস
===================================
হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজজ শহরের অপকারিতা সম্মন্ধে জ্ঞান দান করলেন । বললেন, শেষ যামানায় শহরে অধিক গোনাহের কারণে শহর নষ্ট হয়ে যাবে ॥ আমি যখন আমার পীড়ের সঙ্গে একসাথে সমরকন্দ সফর করেছিলাম তখন, হযরত খাজা মওদুদ চিশতী (রঃআঃ) এর মূখে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন, হযরত ইমামুল আশ্ যাইন মদিনাতুল উলুম ওয়াল মুতালেব আলী এবনে আবু তালিব করমুল্লাহু ওয়াজহু এরশাদ করেছেন,
যখন এ আয়াত নাজেল হলো , ওয়া ইমমিন্ কার্ ইয়াতিন ইল্লা নাহ্ নু মুহলেকুহা কাবলা ইয়াওমিল কেয়ামাতে আও মূ'য়াজ্জেবুহা আজাবান শাদীদা ॥ কানা জালেকা ফিল । কিতাবি মাসতুরা "অর্থাৎ এমন কোন শহর নেই যেখানে কেয়ামতে আসার পূর্বে দুঃখ কষ্ট ও দূরদর্শা অবতীর্ণ হবে না , এবং এমন কোন শহর নেই যেটা ধ্বংস ও নষ্ট হবে না॥
একথা 'লওহে মাহফুজে লেখা আছে ॥
এরপর এরশাদ করলেন, হা বশীগন( আবিসিনিয়া র অধিবাসী নিগ্রো) মক্কাকে
বিরান (জনশূন্য) করবে ॥ মদিনা দূরভিক্ষের কারণে জনশূন্য হবে, বিপদাপদ অবতীর্ণ হবে, লোকজন অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। আমাদের দেশ (খোরাসান,বর্তমান ইরাক) রিয়া (কপটতা) এর কারণে ধ্বংশ হবে॥ শ্যাম দেশ (সিরিয়া) বাদশাহের জুলুমের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে ॥ এ অবস্থায় আকাশ থেকে এক প্রকার ফসল । ধ্বংশকারী পোকা (টিড্ ডি) জমিনে পতিত হবে ॥ রোম ধ্বংস হবে সমমৈথুনের কারণে॥ বলখ্ দেশ ব্যাবসায়ীক বন্ধুত্বের কারণে ধ্বংস হবে ॥ মুসলমানগণ সুদ গ্রহণ করবে এবং নরখাদক হিসেবে চিহ্নিত হবে ॥ এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা মওদুদ চিশতী ((রঃ) আরও বলেন যে, ভবঘুরে ও তাদের সঙ্গীদের রঙ্গ রস ও মদ্যপানের কারণে শহর ধ্বংস হবে ॥
সিস্তান দেশ ভূমিকম্পে অন্ধকারচ্ছন্ন প্রলয়ে পাহার ফেটে । চৌচির হয়ে যাবে এবং সেখাকার অধিবাসীদের অস্থিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে ॥
মিশর ও দামেস্কে মেয়েদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা এতো বৃদ্ধি পাবে যে, যার কারণে তাদের একজনকে সূলিতে চড়াবে এবং অনেকে বলবে এ হচ্ছে ফাতেমা (নবীদুলালী)নাউযুবিল্লাহ
সুতরাং এটাই হবে উক্ত দেশ দুটোর ধ্বংসের কারণ। ইরান আর সিন্ধু ধ্বংস হবে হিন্দুস্থানের কারণে ॥ হিন্দুস্থান ধ্বংশ হবে ফ্যাসাদ, জিনা, ও শরাপ পানের কারণে ॥
এরপর আল্লাহ তায়লা হাওয়াকে হুকুম করবেন দুনিয়ার অবশিষ্ট লোক ও দেশ কে নিঃশেষ করো ॥ এরপর যারা বেচে থাকবে তাদের মাঝে তখন মোহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ্ (ইমাম মেহেদী) আত্মপ্রকাশ করবেন ॥ সারা দূনীয়ায় তখন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে ॥ এরপর হযরত ঈসা(আঃ) আসমান হতে অবতরণ করবেন । ঐ সময় সমস্ত জগৎ এ দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত্ব হবে। এ অমিয়বানী পেশ করার পর হুজুর আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন। আমিও আমার জায়গায় ফিরে এলাম॥
আল্হামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক॥
=====================================================================
চতুর্থ মজলিস
===================================
এ মজলিসে স্ত্রী লোকদের স্বীয় স্বামীর আনুগত্য ও গোলাম মুক্ত করার ফজিলত(উপকারিতা) সমন্ধে বলতে যেয়ে বলেন, আমিরুল মু'মেমীন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু হযরত রসুলে মকবুল সাল্লাল্লহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন যে, হযরত(দঃ)
এরশাদ করেছেন , যে নারী স্বীয় স্বামীর ইচ্ছায় তার কাছে না যেয়ে দুরে দুরে থাকে তার সমস্ত নেকি এমন ভাবে ধ্বংস ও নষ্ট হয়ে যায় যে ভাবে সাপ তার খোলস ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যায় এবং জঙ্গলের বালুর পরিমাণ গুণাহ তার আমল নামায় লেখা । যদি সে স্ত্রীলোক এমতাবস্থায় মারা যায় তবে সে দোজগ ভোগ করবে। এবং দোজগকের
সত্তরটি দরজা তার জন্য উম্মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু যে নারীর স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট থাকাকালীন অবস্থায় ইন্তেকাল করে, সে তৎক্ষণাৎ শ্রেষ্ঠ জান্নাত লাভ করবে। বেহেস্তের সত্তর টি দরজা উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ইমাম আবুল । লায়ছা সমরকন্দি(রহঃ) স্বীয় কিতাব ত্বাম্বীহ তে লিখেছেন,
যে নারী স্বীয় স্বামীর নিকট রাগের সহিত উপস্থিত । হয় তার আমলনামায় আকাশের তারকা রাজির সমপরিমাণ সংখ্যক গোনাহ লেখা হয়। এরপর এরশাদ করলেন, যদি স্বামীর শরীরে কোন স্থান হতে পূজ বা রক্ত প্রবাহিত হয়, এবং স্ত্রী সেগুলো সাফ করার অভিপ্রায় মুখ দিয়ে চাটে তবুও স্বামীর পূর্ণ হক আদায় হবে না। তারপর বললেন, হে দরবেশ
যদি আল্লাহ ছাড়া যদি অন্য কাউকে ইবাদতের সেজদাহ্ করার হুকুম থাকতো তাহলে আল্লাহতায়লা অবশ্যই স্ত্রীর প্রতি স্বামীকে সেজদাহ্ করার হুকুম প্রদান করতেন।
পরবর্তী আলোচনায় গোলাম আজাদ করার ব্যাপার নিয়ে আরম্ভ করলেন। এমন সময় এক দরবেশ হুজুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে । জমিনে চুমু খেলেন। হুজুর তার জন্য দোয়াখায়ের করলেন। এরপর এরশাদ করলেন, রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যাক্তি কোন গোলামকে আজাদ করে দেয় আমল নামায় আজাদকৃত গোলামের শরীরের শিরা উপশিরার সমপরিমাণ সংখ্যক নেকি লেখা হবে। এবং যে পযন্ত সে একজন নবীর প্রাপ্ত পূর্ণ্যের সমপরিমাণ সওয়াবের সৌভাগ্য অর্জন না করবে, সে পযন্ত সে এই ধ্বংসশীল পৃথিবী হতে বিদয় নেবে না।
এছাড়াও । কেয়ামতের দিন সে নিজের মা- বাবা ও আত্মীয় স্বজনের মধ্য হতে ৭০ জনকে ক্ষমা করাতে পারবে এবং তার শরীর হতে তার দেহের লোমের সমপরিমাণ নূর উদ্ভাসিত । হবে।
আসমানে । তার নাম ওলি আল্লাহ্(আল্লাহর বন্ধু) বলে উচ্চারিত হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, পয়গম্বর সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম
বললেন, গোলাম আজাদীকারী ব্যাক্তি যে পযন্ত না নিজের । জায়গা । বেহেস্তে দেখবে সে পযন্ত সে মারা যাবে না এবং প্রাণবায়ু বের করার সময় এ । কাজে নিযুক্ত ফেরেস্তা (মালেকূল মউত) তাকে বেহেস্তের সুসংবাদ প্রদান করবেন।
তারপর বললেন যে ব্যাক্তি বন্দি বা দাসকে মুক্তি দেবে সে এ নশ্বর পৃথিবী যে পযন্ত বেহেস্তের সূধা (শেরাবান তহুরা) পান না করবে সে পযন্ত , সে । নিজেকে মৃত্যুর নিকট আত্মসমপর্ণ করবে না ॥ মৃত্যু যন্ত্রণাও তার জন্য সহজ করা হবে। কিয়ামতের দিন আরশের নীচে ছায়া পাবে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্ত পাবে।
এরপর এরশাদ করলেন, আহ্ লে সুলুকগন দুনিয়াকে দোজকের চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করে, কারণ দূনিয়ার সাথে বন্ধুত্ব করলে পথ ভ্রষ্ট হতে হয়।
যার তুলনা হলো অন্ধকারচ্ছন্ন পথ। যেমন কোন পথিক যদি অন্ধকারে পথ চলতে যেয়ে পথ হারিয়ে ফেলে তাহলে পূরণায় পথ খুজে পেতে । তাকে খুবই কষ্ট করতে হয়। সুতারাং সেই ক্ষমতাবান যে নিজের সত্তাকে এই দূনিয়ায় মৃত্যু ঘটিয়ে রাখে ।যে দূনিয়াদারীতে নিজেকে না জড়িয়ে এ আবর্জনা হতে মুক্ত । থাকে, সেই শ্রেষ্ঠতম স্তরে । বা । মাকামে পৌছে সফলতা অর্জন । করতে সক্ষম হয়।
এরপর এরশাদ করলেন আহলে সূলক, দাসগণকে হাজার প্রার্থনা ও আকাংখ্যা দ্বারা ক্রয় করে মুক্ত করেছে, যেন কিয়ামতের দিন সে ঐ ওসিলায়(কারণে) দোজখ হতে মুক্তি । পায়। যখন হযরত খাজা এ অমিয়বানী বর্ণনা শেষ করলেন, তখন স্বীয় কাজে বিভোর হলেন।
এ দোয়াপ্রার্থী বিদায় নিয়ে । নিজের জায়গায় ফিরে এলাম ।
আল্হামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
==========================================
পঞ্চম মজলিস
হুজুর সদকা নিয়ে কথা শুরু করলেন, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর নিকট আরজ আরজ করা হয়ছিল, কর্মের (আমল) মধ্যে কোন কর্ম আফজল (শ্রেষ্ঠ) ?
উত্তরে তিনি এরশাদ করেছিলেন,
"সদকা" (আল্লাহ্ র উদ্দেশ্যে দান করা) পূনরায় আবেদন করা হইল সদকা কি জিনিস ? উত্তরে বললেন করো অভাব দূরকরা ।
সদকা প্রধান কারীর আশে পাশের ৭০ হাজার লোক কিয়ামতের ভয় হতে নিরাপদ থাকবে এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা হাসান বসরী(রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সদকা দেয়া শ্রেষ্ঠ, না কোরান তেলোয়াৎ করা শ্রেষ্ঠ, উত্তরে তিনি বলেছিলেেন,
রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, একটুকরা রুটি বা একমুঠো খেজুর দান (সদকা) করা হাজার বার কোরান শরীফ খতম করার চেয়েও উত্তম।
এরপর সদকা সমন্ধে একটা প্রত্যক্ষ ঘটনা বর্ণনা করলেন, হযরত খাজা হাসান বসরী (রহঃ) সমন্ধে বলেছিলেন, একবার এক ইহুদীকে দেখলাম বাজারের মধ্যে দাড়িয়ে এক ক্ষুদার্থ কুকুরকে রুটি খাওয়াচ্ছে । তাকে বললাম , তোমার এ নেকি কবুল হবে না, কারণ তুমি ইসলামের বহিভূত সম্প্রাদায়ের লোক। ইহুদী উত্তরে বললো, হে খাজা(মহামান্য ব্যাক্তি ) , যদি নেকি কবুল(গৃহীত) না হয়, না হবে, কিন্তু খোদা তো দেখেন এবং জানেন । এ ঘটনার বহুদিন পর আমি কাবা ঘড় জিয়ারতের জন্য গিয়েছিলাম , তোওয়াফের সময় দেখলাম, এক বৃদ্ধা কাবা ঘরের পাশ্বে সেজদাবনত হয়ে রাব্বি, রাব্বি (আমার রব, আমার রব) বলছে, হঠাৎ গায়বী আওয়াজ হলো, লাব্বায়িকা আবদি' অর্থাৎ হে আমার এবাদতকারী, এইতো আমি উপস্থিত । আমি তওয়াফ শেষ করে ঐ বৃদ্ধার নিকট গেলাম,
বৃদ্ধা সেজদাহ হতে মাথা উত্তোলন করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে' মাননীয়, আমাকে চিনতে পেরেছেন ? আমি সেই ইহুদী, যে বসরার বাজারে কুকুরকে রুটির টুকরো খাওয়াচ্ছিলাম এবং আপনি নিষেধ করেছিলেন।
এবার আপনি দেখলেন তো করুনাময় আমার পূর্ণ্য গ্রহণ করেছেন, এবং আমাকে কাছে ডেকে নিয়েছেন।
হে মহামান্য হাসান, আল্লাহর কুদরতকে কেহ সম্পূর্ণ রুপে জানেনা এবং এটাও বুঝতে পারেনা যে, কোন কাজের পরিণাম কি হবে ॥ অতপর হযরত খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজীজ এরশাদ করলেন ,
আমি সলুকের কিতাবে লেখা দেখেছি যে, খাজা ইব্রাহীম বিন্ আদহম (রহঃ) বলেছেন এক বছর বন্দেগীর চেয়ে ১ দিরহাম সদকা দেওয়া উত্তম এবং একজন গোলাম আজাদ করা সারারাত্রী বন্দগীর চেয়ে উত্তম । এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোরান শরীফ তেলোয়াৎ করা উত্তম না সদকা দেয়া । তিনি বলেছিলেন সদকা দেয়া , কেননা সদকা দোজখের আগুন হতে মুক্ত করে । এরপর বললেন সদকা অন্তরে নূর পয়দা করে এবং হাজার রাকাত নামাজ অপক্ষা অধিক প্রতিদান আনয়ন করে।
এরপর বললেন, সদকা প্নরদান করা ফল নামাজ হতে উত্তমতর। আরো বললেন যারা সদকা দেয় এবং নামাজ পাঠ করে তাদের মর্যাদা অনেক উর্ধে । এরপর বললেন কিয়ামতের দিন সূর্য যখন
মাথার সোয়া হাত বল্লম পরিমাণ ওপরে অবস্থান করবে তখন সদকা তার মাথার ওপরে গম্ভুজ হয়ে যাবে । সদকা বেহেস্তের পাথেয় । সদকা প্রদানকারী কখনও আল্লাহর করুনা হতে বঞ্চিত হবেনা । এরপর আরও বললেন যে, আল্লাহতায়লা বলেছেন দাতা বা দানকারীগন আমার বন্ধু, এবং দানকারীদেরকে কবর বা কেয়ামতের কোন আজাবই করা হবেনা । এসব মানুষকে নিয়ে পৃথিবী ও গর্ভবোধ করে। এরা যখন পথ চলে তখন প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি করে প্রতিদান তার আমল নামায় লেখা হয় ।
দানশীল ব্যাক্তি গণ ১০০০ বছর পূর্বে বেহেস্তের সু ঘ্রাণ গ্রহণ করবে, এবং প্রতিদিন তাদের আমলনামায় একজন পয়গম্ভরের (আঃ) পূন্য লেখা হবে ।
পরবর্তী বক্তব্য পেশ করলেন আউলিয়া (হঃ)র সমন্ধে এরশাদ করলেন আল্লাহর বন্ধুগন দশ দশটি পর্যন্ত নিজেদের নফসের বাসনা পূরণে বিরত ছিলেন । বর্ণিত আছে যে, হযরত খাজা আবু তোয়াব নহ্ শী , যিনি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের বুজুর্গ ছিলেন, তার ২০ বছর যাবৎ বাসনা ছিলো, ডিম সহকারে মোরগের মাংস দিয়ে রুটি খাবেন কিন্তু নফসের এ ইচ্ছাকে পূরণ করেননি । ২০ বছর পর তার ইচ্ছা হলো আজ নফসের ইচ্ছা পূরণ করা দরকার এবং সেই অনুসারে সন্ধ্যায় ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন । সেইদিন ঘটলো একটা বিভ্রাট, তিনি জহুরের নামাজের জন্য নতুন করতে বিজন বনের দিকে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ পথি মধ্যে এক বালক দৌড়ে এসে তার হাত ধরে বলতে লাগলো, কাল তুমি আমার জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছো। আজ আবার কি চুরি করতে এসেছো ? লোকজন চোর চোর শব্দ শুনে জড়ো হয়ে । গেল, ঘটনাচক্রে বালকটির পিতাও সেখানে উপস্থিত হয়েছিলো । সে ছেলের নিকট সব শুনে হযরত খাজাকে ধরে বিশ টি ঘুষি মারল। এমন সময় হযরত খাজা তোয়াব নহ্ শী (রহঃ) এর একজন পরিচিত ব্যাক্তি উপস্থিত হয়ে এ অচিন্ত্যনীয় ঘটনা অবলোকনে হকচকিয়ে গেলো । সে তখন উপস্থিত জনতাকে লক্ষকরে বললো উনি চোর নন, উনি মহামান্য ও মাননীয় তোয়াব নহ্ শী (রহঃ) । এ বাক্য উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত জনতা স্তীমিত হয়ে গেলো, এবং নিজেদের ভূলের জন্য অনুশোচনা করতে লাগলো এবং বললো হুজুর আমরা আপনাকে চিনিনি, আমাদের অন্যায় হয়ে গেছে , আমাদের মাফ করে দিন । তিনি জনতার কবল থেকে মুক্ত হয়ে, ঐ পরিচিত ব্যাক্তির সাথে তার বাড়িতে মেহমান হলেন । ইফতারের সময় সে লোক তার জন্য মোড়গের গোস্ত, ডিম রুটি পরিবেশন করলো । ইফতারের নফসের চাহিদা অনুযায়ী আহার্য দেখে তিনি বলে উঠলেন, এগুলি এখান থেকে জলদি দুর করো, আমি এইসব জিনিস আহার না করে শুধু আহারের বাসনা পোষণ করার জন্য লাভ করেছি বিশ ঘুষী, আর যদি এসব আহার করি, তাহলে না জানি কোন ধরনের বিপদে আবদ্ধ হই । পরের ঘটনা হলো ও গুলিতো খেলেন না বরং বাকি জীবনেও তিনি আর নফসের কোন বাসনাই পূরণ করেননি ।
এই পর্যন্ত বলা শেষ করে হুজুর আল্লহ্ তে মশগুল হলেন এবং আমি আমার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে এলাম ।
আলহামদুল্লাহ আলা জালেক
==========================================
ষষ্ঠ মজলিস
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
শরাবখোর বা মদ্যপায়িদের সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন । হযরত আমিরুল মো'মেনীন ওমর(রাঃ আঃ) আনহু হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, শরাব (মদ বা সূরা) সসম্পূর্ণরূপে 'হারাম' ॥ পরিমাণ কম হোক আর বেশী হোক, সর্বপ্রকার পরিমাণই হারাম (নিষিদ্ধ) ॥ কিন্তু
আঙ্গুরের রস বের পান করা হারাম নয়॥ অবশ্য যদি সে রস রেখে দিয়ে যদি পরে পান করে তাহলে নাজায়েজ (অনুচিত) । এরপর এরশাদ করলেন রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ হচ্ছে , লা নত (অভিশাপ) সেই ব্যাক্তির উপর যারা শরাপ পান করে অথবা বিক্রীকরে অথবা বিক্রীত মূল্য দ্বরা নিজের কর্ম সমাধা করে ॥ এরপর বললেন, এইসব কথা হচ্ছে হুকুম বা আদেশের ব্যাপারে এবং এ জিনিস পান না করা খুব কঠিন কোন কাজ নয় ॥ কেননা প্রথম থেকে অভ্যেস না থাকলেই তো হলো , কিন্তু যারা
মদ্যপানে অবস্থ্য তাদের জন্য ত্যাগকরা কষ্টের ব্যাপার হলেও ত্যাগ অবশ্য কর্তব্য ॥ সলুকের পথে এমন এমন মহাপুরুষ (বুজর্গ) গত হয়ে গেছেন যারা নিজের নফসকে হালাল (বৈধ) পানিও পান করতে দেয়নি । উপমা স্বরূপ হযরত খাজা ইউসুফ চিশ্ তি (রঃ আঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করলেন । এক রাত্রে তার ইচ্ছা হলো হাজার রাকাত নামাজ পাঠ করবেন। কিন্তু তার নফস বিরুদ্ধাচরণের কারণ কি ? বহু অনুসন্ধানের পর তার মনে হলো, রাতে এক কোঁজা (পানি পান করার পাত্র) পানি অধিক পান করে ফেলেছেন এবং সমস্ত ফ্যাসাদ(গন্ডগোল) ঐ পানিকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে॥
অতপর শপথ করলেন, যতদিন জীবিত থাকবো নফসকে(নিজেকে) তার ইচ্ছা মত পানি পান করতে দেবনা বরং পিপাসার্ত থাকবো।
পরিশেষে তিনি তাই করেছিলেন । যতদিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন কখনো
পেট ভরে বা চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করেননি ॥ হুজুর এই পর্যন্ত বর্ণনা করে মশগুল হলেন আমিও স্বীয় কুটিরে ফিরে এলাম ॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক ॥
=============================== ==============
সপ্তম মজলিস
===============================
আজকের বক্তব্য ছিল মোমেনদেরকে (বিশ্বাসীদেরকে) দুঃখ দেয়া সমন্ধে । হুজুর এরশাদ করলেন, হুজুর করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম নির্দেশ করেছেন, মুসলমানদেরকে দুঃখ দিওনা । কারণ এদের সিনায় (বক্ষের) মধ্যে ৭০টি পর্দা রয়েছে এবং প্রতিটি পর্দার উপর একজন করে ফেরেস্তা অবস্থান করছেন । যে ব্যাক্তি কোন মোমেন মুসলমানকে দুঃখ দেয় প্রথমতঃ সে যেন কোন ফেরেস্তাকে কষ্ট দেয় , অর্থাৎ যন্তনা প্রথমে ফেরেস্তাগনের মধ্যেই অনুভূত হয় এবং পরে মোমেন উপলব্ধি করে।
যে ব্যাক্তি মোমেনকে কষ্ট দেয়, ৭০টি কবীরাহ গোনাহ্ (মদ্যপান, জেনা, অথবা এধরনের নিষিদ্ধ কোন কর্মের অপরাধকে কবীরা গোনাহ্ বলা হয় ) তার কর্মফলের(আমল নামায়) সাথে যোগ হয় এবং তার জন্য দোজখের মধ্যে একটা শাস্তির ঘড় তৈরী হয় ।
মোনাফেক(প্রবঞ্চক, ভন্ড, কপট) ব্যাতিত কউ মোমেনদের অন্তরে কষ্ট দেয় না ।
পরবর্তী বক্তব্য ছিল সূন্নত ও নফল নামাজ নিয়ে । বললেন ফরজের পরেই সুন্নত নফলের স্থান ॥ আমাদের মাশায়েগ (পীড়গন) রহমতুল্লাহ্ আলাইহিম এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি নাজের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ পাঠ করে এবং কোরান শরীফের মধ্য হতে যা তার স্মরণে আসে , সূরা ফাতেহার সংযুক্ত করে (অর্থাৎ সুরা ফাতিহার শেষ অক্ষরটির উপরে পেশ দিয়ে পরবর্তী সুরা বা আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে)পড়বেগ সে এই দূনীয়াতে বেহেস্তের সুসংবাদ পাবে মূৃত্যুর পর ৭০ হাজার ফেরেস্তা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন উপহার নিয়ে আসবে এবং দাফনের পর তার কবরে নূরের তবক বিছিয়ে দেয়া হবে॥
হায়শরের দিন ঐ ফেরেস্তাগনই তাকে কবর থেকে উত্তোলন করবে এবং ৭০ প্রকার পোষাক পরিধান করাবে॥ আল্লাহুম্মা আরজিকনা মিনহু( হে আল্লাহ্ আমাদেরকে উহা হতে রিজিক দান করো)॥
এরপর এরশাদ করলেন , যোহরের সুন্নতের পূর্বে যে ব্যাক্তি চার রাকাত নফল নামাজ পাঠ করবে এবং নামাজের মধ্যে যেসব সূরা কারাত নির্দারিত আছে তা সঠিক ভাবে অনুসরণ করবে , আল্লাহ্ তায়লা তার
হাজার বাসনা পূর্ণ করবেন ॥ প্রত্যেক রাকাতের বিনিময়ে ১০০০ হাজার বছর এবাদতের সওয়াব পাবে ।
এরপর বললেন, যে ব্যাক্তি আসরের চার রাকাত সুন্নতের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে, সে তার প্রতি রাকাতের বিনিময়ে, বেহেস্তে একটি করে প্রাসাদ (মহল) পাবে ॥
এ রওয়ায়েত হযরত আবু হুরায়রা (রাদিঃ) হযরত রসূলে খোদা (সাঃ)
হতে বর্ণনা করেছেন ॥ যে ব্যাক্তি মাগরেবের নামাজের পরে চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে সে ব্যাক্তি রোজ হা শরের আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাবে॥ যে ব্যাক্তি মাগরেব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে চার রাকাত নামাজ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তায়লা তাকে সমস্ত বালা মুসিবত হতে মুক্ত রাখবেন এবং বিনা হিসাবে তাকে বেহেস্ত প্রদান করবেন॥
এছাড়াও প্রতি রাকাত নামাজের বিনিময়ে, একজন নবী (আঃ) দের ছওয়াব প্রদান করা হবে॥ যে ব্যাক্তি এশার নামাজের পরে চার রাকাত
সুন্নত নামাজ পাঠ করবে সে আল্লাহ্ তায়লার বারগাহে (দরবারে) গৃহীত হবে এবং বিনা হিসাবে বেহেস্তে স্থান পাবে॥
এই সমস্ত নামাজ আল্লাহ্ তায়লার বন্ধুগন ব্যাতিত কেউ পাঠ করেন না। এরপর এরশাদ করলেন , যেব্যাক্তি অধিক নামাজ পাঠ করে, তার অর্জিত সওয়াবের পরিমাণ হবে ফেরেস্তাদের অর্জিত এবাদত হতেও অধিক। অর্থাৎ ঐ পরিমাণ ছওয়াব তাকে দান করা হবে॥
এরপর বললেন , মোমেনদেরকে দুঃখ কষ্ট দেয়া সমন্ধে। আহলে সলুকগণ অপরের সঙ্গে কথা বলা এই জন্য বন্ধ করে দেয় যাতে কথা বলতে যেয়ে কোন মুসলমান ভাইয়ের অন্তরে দুঃখ না দেয়া হয়। আহলে সলুক শুধু ভয় পায় এই ব্যাপারকেই এবং এ জন্যই তারা নিজেদেরকে বোবা ও বধির করে রাখে॥
এই পর্যন্ত বলার পর হুজুর আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন এবং আমি আমার নির্ধারিত স্থানে ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ।
========================================= = ==
অস্টম মজলিস
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
গালি দেওয়া সমন্ধে আলোচনা শুরু করলেন ॥
এরশাদ করলেন , কোন ব্যাক্তি কোন মুসলমানকে গালি দেয়ার অপরাধের মানদন্ডটি দাড়ায়, স্বীয় মা বোনের সঙ্গে জেনা (নিষিদ্ধ সহবাস) করার সমতুল্য ॥
ফেরাউনের সাহায্য কারীদের মধ্যে তার নাম লেখা হয়ে যায় ।
(ফেরাউন হযরত মুসা (আঃ ) কে দুঃখ কষ্ট দেয়ার অগ্রনায়ক ছিল ) এরপর এরশাদ করলেন , কোন ব্যাক্তি কোন মুসলমানকে গালি দিলে
তার দোয়া ১০০ দিন পর্যন্ত কবুল হয়না এবং সে যদি বিনা তওবায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে দোজখ হবে তার বাসস্থান ।
পরে এরশাদ করলেন , একসময় খাজা নাসিরুদ্দিন আবু ইউসুফ চিশতী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম ।
ইলমের বাহাস (জ্ঞানের বির্তক ) চলছিলো । এক ব্যাক্তি খুব বাকপটুত্ব দেখাচ্ছিলো এবং উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছিল ॥
খাজা আবু ইউসুফ চিশতী(কুঃসেঃআঃ) ঐ ব্যাক্তিকে বললেন আস্তে কথা বল। একথা শুনে সে ব্যাক্তি চুপ হয়ে গেল এবং নিজের জিহবাকে এমনভাবে চিবালো যে, একেবারে রক্তাক্ত হয়ে গেল । অবশেষে নিজের নফসের দিকে খেয়াল করে বলতে লাগলো, তোর এই অযথা কথা বলার কি প্রয়োজন ?
মজলিস হতে নিশ্চুপ উঠে বেড়িয়ে গেল । পরবর্তীতে সে দশ বছর পর্যন্ত এই অপরাধের জন্য নির্জনে এবাদতে মশগুল ছিল॥ এরপর খাবার দেওয়া হলো। দস্তরখানা সাদা ছিল । তিনি বললেন , লাল দস্তরখানা নিয়ে এসো, তার উপর খাবার রেখে খাওয়া হবে । কেননা রসূলে মকবুল (সাঃ) খাঞ্চার (tray ) মধ্যে খুব কম সময়ই আহার করতেন ॥ যদি মেহমান আসতো এবং মেহমানদারি করা হতো , তাহলেও লাল দস্তরখানা ব্যাবহার করা হতো। এরপর এরশাদ করলেন , হযরত ঈসা (আঃ) এর দস্তরখানাও লাল ছিল এবং সেটা আসমান থেকে অবর্তীন্য হয়ে
ছিল । এরপর এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে আহার করে, তার প্রতি লোকমা (গ্রাস) এর প্রতিদানে একশ করে ছওয়াব পাবে এবং বেহেস্তের ১০০টি করে দরজা তার জন্য নির্ধারিত হবে॥ সে ব্যাক্তি বেহেস্তের মধ্যে সব সময় ই হযরত
ঈসা (আঃ) ও অন্য নবীদের হাজার হাজার সালাম এবং আর্শিবাদ লাভ করবে । আর যে ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে কোন গরীব দুঃখিকে আহার করাবে তার জন্য শ্রেষ্ঠ প্র তিদান তার আমল নামায় লেখা হবে এবং রুটি খাওয়া শেষ হবে তখন, আল্লাহতায়লা তার পুন্জিভূত গুণাহ্ কে মাফ করে দেবেন॥
এরপর এরশাদ করলেন, লাল দস্তরখানে খাবার খাওয়া , হযরত
ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ্ (আঃ) এর সুন্নত এবং এই সুন্নত অন্য আম্বিয়াদের ও ছিল॥
হযরত মূসা (আঃ) কখনও লাল দস্তরখানে খাবার না রেখে আহার করতেন না । এরপর হযরত কসম খেয়ে বর্ণনা করলেন,
কসম সেই খোদার যার হাতে নীহিত আছে আমার প্রাণ। যে লাল দস্তরখানে রূটি খাবে সে একটা ওমরার ছওয়াব পাবে, এবং এক হাজার ক্ষদার্থকে পেট ভরে খাওয়ানোর ছওয়াব পাবে।
সে ব্যাক্তি এতো বেশী ছওয়াব লাভ করবে যেন আমার উম্মতের মধ্যে হাজার বন্দিকে মুক্ত করালেন।
এরপর এরশাদ করলেন , যে ব্যাক্তি সব সময় লাল দস্তরখানে আহার করতে থাকে রোজ হাশরে জিব্রাইল (আঃ) তার জন্য বেহেস্তী পোষাকসহ বোরাক নিয়ে আসবে, বোরাকের উপরে উপবেশন করিয়ে এবং পোশাক পড়িয়ে বেহেস্তে নিয়ে যাবে ।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি কোন মেহমান কে লাল দস্তরখানে আহার করাবে , যে প্রতিটি দানা যা মেহমানকে ভক্ষণকরাবে , প্রতি দানায় দানায় হাজার হাজার নেকি পাবে ॥
এরপর এরশাদ করলেন , আমি আমার পীর হযরত খাজা শরীফ জিন্দানী (রঃ) এর মূখে শুনেছি , তিনি বলেছিলেন,
যে, ব্যাক্তি লাল দস্তরখানে খানা খাবে এবং খাওয়াবে, আল্লাহ্ তায়লা তাকে রহমতের নজরে দেখেন এবং হাজারটি বেহেস্তের প্রকোষ্ঠ তাকে দান করবেন ॥
হযরত খাজা যখন এ বর্ণনা শেষ করে মশগুল হলেন, তখন এ দোয়া প্রার্থী নিজের জায়গায় ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
============================= ============
নবম মজলিস
===============================
বৃত্তি বা পেশা সমন্ধে আলোচনা শুরুকরলেন । বললে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এর নিকট একবার জানতে চাওয়া হয়েছিল
ব্যাবসা কেমন ? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আল্ কাসিবু হাবিবুল্লাহ্ । অর্থাৎ যারা ব্যাবসা করে, তারা আল্লাহ্ র বন্ধু।
ঐ সময় মজলিসের মধ্য হতে দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনি আমার পেশা সমন্ধে কি বলেন ? রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন তোমার পেশা কি ? সে বলল আমি দর্জির কাজ করি ॥
তিনি বললেন , তোমার পেশা অতি উত্তম, যদি তুমি সততা অবলম্বন করো, কল কেয়ামত ঈদ্রীস (আঃ) এর সঙ্গে তোমার হাশর হবে ॥ এরপর একজন দাড়িয়ে বললেন, আমার পেশা সমন্ধে কি বলেন ? তিনি জীজ্ঞাসা করলেন তোমার পেশা কি ?
তিনি উত্তরে বললেন, আমি হারছী অর্থাৎ কৃষক, খাদ্যশস্যের চাষাবাদ করি ॥ তিনি উত্তর দিলেন, এই কাজটি খুবই উত্তম ।
হযরব জিব্রাইল আঃ হযরত আদম (আঃ) কে এই পেশা শিখিয়েছিল । যদি মিথ্যা না বলো, চুরি না করো তাহলে, হাশরের দিন আদম (আঃ) এর সঙ্গে তোমাকে উঠানো হবে ও উত্তম বেহেস্ত দান করা হবে এবং তার প্রতিবেশী হবে ॥ এরপর একজন
ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম , আমি কর্মকার। তিনি বললেন তোমার পেশা পূর্ণতা লাভ করে, হযরত দাউদ (আঃ) এর হাতে । তিনি বলতেন, যারা কর্মকার তাদের হাশর আমার সঙ্গে হবে, বেহেস্তে সে আমার পর্শী হবে ।
এরপর আরও একজন লোক দাড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্
আপনি আমার পেশা সমন্ধে কি আদেশ করেন ? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার পেশা কি ? তিনি উত্তর দিলেন বস্তকারী, অর্থাৎ
(তরিতরকারী) উৎপন্ন করি । তিনি বললেন, তোমার পেশা অত্যন্ত ভালো, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ও এই পেশা ছিল । আল্লাহতায়লা মঙ্গল করুন এবং সূফল প্রদান করুন ॥ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এই পেশা অবল্বনকারীদের জন্য দোয়া করেছিলেন । হাশরের দিন আমার সাথে তাদের হাশর হোক এবং আমার প্রতিবেশী হোক ।
এবার অন্য একজন দাড়িয়ে বললেন , আমার পেশা শিক্ষকতা। তিনি জবাবে বললেন এই পেশাদারীকে আল্লাহ্ তায়লা বন্ধু মনে করেন । আরও বললেন , হাশরের দিন আমার সাথে তোমার হাশর হবে । এবং তুমি আযরে আজীম (শ্রেষ্ঠ প্রতিদান) লাভ করবে । এই দোকানদারী
যদি পড়াবার সময় নির্ভূল ও মনোযোগ সহকারে পড়াও তাহলে ফেরেস্তা তোমার জন্য আস্তাগফার (ক্ষমা পর্থনা) করবে ॥ এরপর আরও একজন লোক দাড়িয়ে বলতে লাগলেন , আমার পেশা তেজারত ব্যবসা । তিনি এরশাদ করলেন এটাও ভালো পেশা যদি সততা বঝায় রাখো তাহল হযরত লোকমান (আঃ) এর সঙ্গে বেহেস্তে স্থান পাবে । এরপর তিনি বললেন, হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন,
তালাবাল হালালে ফারিজাতুন আলা কুল্লে মুসলেমেও মুসলেমাতিন । অর্থাৎ হালাল রুজি প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উপর ফরজ ॥
এরপর এরশাদ করলেন , আলকাসেবু সাদিকুল্লাহ্ " অর্থাৎ পেশা অবল্বনকারী আল্লাহর সাদেক অর্থাৎ বন্ধু । অন্যত্র বলেছেন,
আল কাসেবু হাবিবুল্লাহ , অর্থাৎ পেশা অবল্বন কারীরা আল্লাহ তায়লার বন্ধু ।
এরপর এরশাদ করলেন , বৃত্ত অবল্বনকারীর উচিৎ , যে পেশায় আকৃষ্ট হয়েছে তার উপর অধিক গুরুত্ব না দিয়ে বুঝতে চেষ্টা পেশা শুধু পেশার জন্যই। এতে অন্য কোন উপকার নেই । তাকে অবশ্যই ফরজ নামাজ, রোজা, ও রসূলে খোদা (সাঃ) এর সূন্নত সমূহকে প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে , এবং এগুলি সমাধা করার পর পেশায় নিয়োজিত হতে হবে ॥ আল্লাহ্ তায়লার করুনা
লাভের জন্য নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন ॥
আহলে আশেকদের মধ্যে যদি কেউ চিন্তা করে যে, পেশার মাধ্যমে রুজী আসে তাহলে সে সাথে সাথেই কাফের হয়ে যাবে । কেননা রিজিকের ব্যাপারে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন,
রিজিক দানের অধিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বয়ং ।
যদি কেউ বলেন , ম্যায় আন্ধিবানকে কাম করতে হ্যায় আওর বিবি বনকে খাতে হ্যায় " অর্থাৎ আমি অন্ধ সেজে কাজ করি, এবং বিবি সেজে খাই , তাহলে এ প্রবচনকারীও কাফের হয়ে যায় । এবং এরুপ আরও অনেক খারাপ প্র দেখে ===== বচন আছে যা আমরা ব্যাবহার করি কিন্তু যার পরিণতি জানিনা । এরপর এরশাদ করলেন, আমি উমদাহ্ কেতাবে লেখা দেখিছি , হযরত আবু দারদা(কুঃ সাঃ) প্রথমদিকে দিকে দোকানদারী পেশায় একযুগ পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন এবং হঠাৎ করে ছেড়ে দিলেন,
লোকজন তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায় , তিনি উত্তর দিলেন , আমার কাছে এর স্বরুপ উ দ্ ঘাটিত হয়েছে। আমার এ দোকানদারী মুসলমানিত্বের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত ছিল না , আমার দ্বারা এ কাজের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রাপ্য সম্পূর্ণ আদায় হচ্ছিল না বরং কমে যাচ্ছিল ॥
এরপর এরশাদ করলেন , হযরত ইমামে আজম আবু হানিফা (রাঃ) কোন এক ব্যাক্তির নিকট কিছু টাকা পেতেন । তিনি যখন তার নিকট টাকা ফেরত চাইতেন, তখন সে প্রত্যেকদিনই পরিশোধ করার শপথ করতো।
পরে একদিন সে সাতদিনের সময় চাইলে, তিনি তাকে সময় দিলেন॥ সে এক সপ্তাহের মধ্যে কোন কাজ সমাধা করতে শ্যাম দেশে চলে গেল, কিন্তু ফিরে এলো একবৎসর পরে , তিনি আবার তাগাদা দিলেন, সে আবার ও সাত দিনের সময় চাইলো । তিনি এবারও তাকে সময় দিলেন, কিন্তু পূর্বের মত এবারও সে কোথাও চলে গেল, এবং একবছর পর ফিরে এলো,
এমনি ভাবে হযরত আবু হানিফা (রঃ) তাকে সাতবার সময় দিলেন এবং সাতবারই অন্যত্র যেয়ে এক বছর পর ফিরে আসতো। কিন্তু এ জন্য ইমাম সাহেব কখনও তার প্রতি
কটুবাক্য ব্যাবহার করেননি। শেষবার যখন ফিরে এলো তখন ঐ
লোকটি বলতে লাগলো , আপনার মজহাব এর আদর্শ দেখে
দুঃখ হয় যে, এতো পরিচ্ছন্ন আদর্শ দেখেও মানুষ গ্রহণ না করে
থাকতে পারে কি করে । সে আবেদন করলো, হযরত আপনি
আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করুন। হযরত তাকে ইসলামে দীক্ষা দিলেন।
এই ঘটনার বলা শেষ করে হযরত খাজা ওসমান হারুণী (রহঃ)
বলতে লাগলেন যে, ঈ ব্যাক্তির ইসলাম গ্রহণ করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল যার জন্য ইমামকে আল্লাহ্ তায়লা , তার প্রতি
মেহেরবান করে দিয়েছিলেন। তাই সেদিন লোকটি মেহেরবানীর
মর্যাদা মুসলমা হওয়ার মাধ্যমে প্রদান করলো ।
এই পযন্ত বলা শেষকরে তিনি মশগুল হলেন । আমি ফিরে এলাম ॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%% %
দশম মজলিস
=================================এ
আলোচনা মুসিবত সমন্ধে শুরু হলো ,
খাজা ওসমান হারুণী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ বললেন, হযরত আবদুল্লাহ্ আনসারী রাদিআল্লাহ তায়লা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হতে এরশাদ করেছেন,
মুসিবত(বিপদাপদ, দুঃখ, দূর্ঘটনা) এর সময় যে বিলাপ ও চিৎকার করে সে কাফের ।
তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে, এবং তার নাম মুনাফেকদের তালিকায় তার নাম অন্তভুক্ত করা হবে ॥
আল্লাহ তায়লার লা -নত (অভিশাপ) তার ওপর আবর্তীন হয় ॥
মুসিবতে চিৎকার করা ইবলিশের (শয়তান) কাজ ॥ যে বিপদে আপদে ক্রন্দন বা চিৎকার করে শত বছরের সূকর্মফল নষ্ট হয়ে
যাবে । এবং শত বছরের গোনাহ তার আমল নামায় লেখা হবে।
এই সময়ের মধ্যে তওবা ( আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) না করে মৃত্যু হলে , দোজখে ইবলিশের সঙ্গে স্থান হবে।এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা ইব্রাহিম বিন আদহম বলখী (কুঃসেঃ) একদিন কোথাও যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে পেছন দিক থেকে ক্রন্দন ও চিৎকার শুনতে পেলেন, পেছনে পিছিয়ে যেয়ে বিলাপকারীর দেখা পেলেন। তিনি তাকে দেখে ফিরে চলে এলেন এবং এসে এধরনের কৌতূহলের জন্য নিজের নফসকে
এমন শাস্তি দিলেন যে ২০ বছর পর্যন্ত এধরনের
দৃশ্য দেখা বা শোনা থেকে রইলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি নিজের
কানের মধ্যে শীসার গুল ঢুকিয় শ্রবণপদ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি মুসিবতে ক্রন্দন করে, আল্লাহতায়লা
হাশরের দিন তাকে রহমতের নজরে দেখবে না ॥এবং দোজখে তার কঠিন শাস্তি হবে ॥
অন্যত্র বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি মুসিবতের সময় নিজের কাপড় ছিরে ফেলে এবং বিলাপ করে হাশরের দিন তার উভয় আবরণের মধ্যেই
লেখা থাকবে, এ ব্যাক্তি আল্লাহর রহমতকে বিশ্বাস করতো না।
পূরণায় বললেন , যে ব্যাক্তি দুঃখ কষ্টের সময় নিজের মূখ কালো করে , তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দোজখের মধ্যে একটা প্রকোষ্ঠ তৈরী
করা হবে এবং তার কোন ইবাদত কবুল হবেনা॥
অতপর পিপাসার্তকে পানি পান করানোর বিষয়ের ওপর আলোকপাত
করলেন, তিনি এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি পিপাসার্তকে পানি পান করাবে , সে গুণাহ্ হতে এমনভাবে প্রবিত্র হয় , যেন সদ্যজাত শিশু মায়ের পেট হতে ভূমিষ্ট হয়েছে।
যদি ঐদিন তার মৃত্যু হয় তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। আরও এরশাদ করলেন,
যদি কেহ কাহারো পিপাসা নিবারণে জন্য শরবত পান করায় আল্লহ্ তায়লা তার হাজারো বাসনা পূর্ণ করেন এবং সে দোজখের অগ্নি হতে মুক্তি পাবে ও বেহেস্ত লাভ করবে।
পরের বক্তব্য ছিল কন্যা সন্তান সমন্ধে, তিনি এরশাদ করলেন,
কন্যা সন্তান আল্লাহর নিকট হতে বান্দাদের জন্য উপহা স্বরুপ।
প্রত্যেকের উচিৎ কন্যা সন্তানকে মর্যাদা দেয়া।
যে ব্যাক্তি কন্যাদের মর্যাদা রক্ষাকরে আল্লাহ তায়লা তাকে সূখ শান্তিতে
রাখেন। যার ঘরে দুটো কন্যা সন্তান আছে, এবং সে তাতে সন্তুষ্ট থাকলে ৮০ টি হজ্বের সওয়াব তাকে প্রদান করা হয়। তার মর্যাদা ঐ ব্যাক্তির মর্যাদার চেয়েও উচ্চে যে ব্যাক্তি ৭০ জন গোলামকে মুক্ত করেছে।
যার ঘরে একজন কন্যা সন্তান আছে , আল্লাহতায়লা দোজখকে তার নিকট হতে ৫০০ বছরের পথ দূরত্বে রাখে।
এরপর এরশাদ করলেন, আমাদের নবী করিম (সাঃ) কন্যা সন্তানকে বন্ধু মনে করতেন।
যখন হযরত খাজা (রহঃ) বক্তব্য করে আল্লাহ্ তে মশগুল হলেন ,
তখন দোয়াপ্রাথী নিজের জায়গা ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক।
================================
একাদশ মজলিল
%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%%
এবার বক্তব্য শুরু করলেন পশু জবাই সমন্ধে।
এরশাদ করলেন, আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রঃ) হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) করেছেন, যে ব্যাক্তি (নফসের তৃপ্তির জন্য) ৪০ টি গরু জবাই করে, একটা খুনের অপরাধ তার
নামে লেখা হয় এবং যে ব্যাক্তি ১০০ টি ছাগল জবাই করে, তার নামেও একটা খুনের অপরাধ লেখা হয় এবং যে অন্যায় ভাবে গাভী বধ করে তার অবস্থা এমন হবে যেন সে কাবা শরীফ ধ্বংস করতে সাহায্য করলো।
কিন্তু এগুলো সেই কারণেই জবাই করা উচিৎ ; যে সব করারণে জবাই করার বিধান রয়েছে।
এরপর এরশাদ করলেন, আমি আমার পীরেরর মূখে শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ্ মোবারক নামের এক বুজুর্গের কথা বলতেন,
যার বয়স ৭০ বৎসরের মতো ছিলো। তিনি বলতেন, আমার ৭০ বছরের জীবনে কখনো কোন পশু জবাই করিনি।
এর পর এরশাদ করলেন, হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন,
কোন পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করা উচিৎ নয় কারণ আগুন আল্লাহর আযাব।
যদি কোন ব্যাক্তি পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করে তার প্রায়শ্চিত্ত বা (কাফ্ ফারা) হলো একজন কৃতদাসকে মুক্ত করে দওয়া অথবা
৬০ জন মিসকিন (দীন দুঃখী) কে আহার করানো অথবা ৬০ টি
রোজা রাখা।
যে ব্যাক্তি এ প্রায়শ্চিত্ত বা কাফ্ ফারা আদায় করবে না সে কেয়ামতেরদিন হকতায়লার আযাবে পতিত হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, নবী (সাঃ) বলেছেন, পশুকে আগুনে ফেলো না।
আল্লাহ্ তায়লার এই ধ্বংসশীল দুনিয়া ও আখেরাতের আযাবকে ভয় কর। পশুকে আগুনে নিক্ষেপ করলে একাধারে দুমাস রোজা রাখতে হবে। কেননা পশুকে আগুর মধ্যে ফেলা এমন গুণাহ্, যেমন মায়ের সাথে জেনা করা।
এরপর হুজুর নামাজ সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন,
এ রাস্তায় এমন অনেক শক্তিধর মহাপুরুষ আছেন যারা রুকু সেজদাতে আল্লাহর নিকট হতে লাব্বায়েক আবদি (হে আমার বান্দা আমি উপস্থিত) না শোনা পর্যন্ত রুকু ও সেজদা হতে মাথা
উত্তোলন করেন না।
আমি সলুকের কিতাবে লেখা দেখেছি যে, একবার খাজা জোনায়েদ বোগদাদী (রহঃ) এবং শায়খ শিবলী (রহঃ) নতুন ভাবে অজু করার জন্য দজলা নদীতে যেয়ে অজু করতে লাগলেন, নদীতে তা রা এক কাঠুরিয়াকে অজু করতে দেখলেন । হযরত শিবলী এবং জোনায়েদ বোগদাদী (রহঃ) ওজু শেষ করে তারা বলতে লাগলেন, কাঠুরিয়াকে ও
কিন্তু একজন উচ্চদরের বুজুর্গ(আল্লাহর নৈকট্যপ্রাত ব্যাক্তি বলেই মনে হচ্ছে।
তার অজু শেষ হলে তারা দুজনে তাকে পেশ ইমাম হওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন এবং বললেন,
অনুগ্রহকরে আপনি নামাজ পড়ান, তিনি নামাজ আরম্ভ করলেন,
কিন্তু রুকু এবং সেজদাতে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে লাগলেন। নামাজ শেষকরে এরা উভয়ে তাকে
রুকু এবং সেজদাতে এত দীর্ঘ সময় ব্যাবহার করার কি কারণ
জানতে চাইলেন । তিনি উত্তর দিলেন, আমি রুকু ও সেজদাতে
প্রতেকটি তসবীহ পাঠ করার পর যতক্ষণ না লাব্বায়েক আবদি
শুনতাম ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বীতিয় তকবীর বলতাম না । এটাই ছিল রুকু ও সেজদাতে দেরি করার কারণ ।
- একথা শ্রবণ করার পর উভয় বুজুর্গের চোখেই অশ্রু দেখা দিল এবং কেঁদে ফেললেন।
- শেষে একে অন্যকে বলতে লাগলেন, এটাই হচ্ছে প্রকৃত প্রেমিক ও
- আল্লাহতায়লার নিকট উপস্থিত ব্যাক্তিদের নির্দশন ।
যে পর্যন্ত হুজুরী ক্বলব(সমস্ত জাগতিক চিন্তা বিবর্জিত অবস্থায়)
নামাজ না হবে সে পর্যন্ত তারা সেটাকে নামাজের মধ্যেই গণনা
করেন না ।
এরপর এরশাদ করলেন, আমি হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী কুদ্দেসা
সিররুহুল আজীজ জীবিত সময়ে তার মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তিনি বলতেন,
হর বার কে দর নামাজ মশগুল শোয়াম
চুঁ দোস্ত হুজুর নিস্ত আঁ নিস্ত নামাজ
অর্থ - প্রত্যেকবারই আমি নামাজে বিলিন হই।
যখন বন্ধু উপস্থিত থাকে না , উহা নামাজ নয় ।
অর্থাৎ যে, নামাজে বন্ধু নেই, সে নামাজ নামাজই নয়।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর রেশম বা রীতি ছিল নামাজে যখন দাড়াতেন তখন ১৩০০ বার তকবির (আল্লাহু আকবর) বলতেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে নামাজের উপযোগী মনে না হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ আরম্ভ করতেন না । এবং যখন ইয়্যা কানা বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতায়ীন পর্যন্ত পৌছতেন তখন এ আয়াতকে কয়েকবার পাঠ করে তার পর পরবর্তী আয়াত পাঠ করতেন।
এরপর এরশাদ করলেন, খাজা শামসিল আরেফিন বড় বুজুর্গ ছিলেন।
একবার তিনি রসূলে মকবুল (সাঃ) এর রওজা মোবারকে পৌছে সালাম নিবেদন করলেন, আস্ সালামু আলায়কুম ইয়্যা সায়্যেদাল মুরসালিন"
রওজা মোবারকের অভ্যন্তর হতে আওয়াজ এলো, ওয়া আলাইকুমস্ সালাম ইয়া শামসিল আরেফিন"
এরপর হতেই তিনি শামসিল আরেফিন নামে সর্বত্র পরিচিত হয়ে গেলেন। প্রত্যেকেই তাকে তখন হতে শামসিল আরেফিন বলে ডাতেন।
এরপর এরশাদ করলেন অনুরূপ ঘটনা হযরত ইমামে আযম
আবু হানিফা(রহঃ) এর সঙ্গেও ঘটছে , যখন তিনি ঐশী পরশে
আপ্লুত হয়ে রসূলে খোদা ( সাঃ) এর রওজা মোবারকে গমন করে সালাম আবেদন করলেন,
আস্ সালাতু আস্ সালামু আলাইকা ইয়্যা সায়্যেদাল মূরছালিন"
উত্তরে শব্দ ভেসে এলো , আলায়কা আস্ সালাম ইয়া ইমামাল
মুসলেমিন।
এ সময় হতেই তিনি ইমামুল মুসলেমিন অর্থাৎ মুসলমানদের ধর্মীয় নেতা হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
এরপর হযরত বায়োজিত বোস্তামী (রহঃ) এর উপাদি লাভের ঘটনা
বর্ণনা করলেন,
একদিন রাত্রি দ্বিপ্রহরে হযরত বায়োজিত (রহঃ) যখন বালাখানায়(উপর তলার কক্ষে) গমন করলেন তখন চন্দ্র কিরণে
ধরনী ছিল আপ্লুত এবং বিশ্ব ছিল ঘুমিয়ে, কিন্তু আল্লাহর রহমত বর্ষিত হচ্ছিল অঝরে।
তিনি এ দৃশ্য অবলোকন করে বললেন, আফসোস ! এ মধুময় ও
আনন্দঘনক্ষণে মানব সন্তানগণ নিদ্রায় নিমগ্ন । মানুষে ভবিষৎ
অন্ধকার দেখে তার কোমল হৃদয় কেঁদে উঠলো, এবং ভীত হয়ে পড়লেন।
ইচ্ছা জাগলো দোয়া করতে যাতে মানুষ এ স্বপ্নরাজ্য হতে
বাস্তবে । ফিরে এসে পরিত্রাণ পায় ।
কিন্তু পরক্ষণেই খেয়াল হলো, এরকম ভয় পাওয়া তার উচিত
নয়, কারণ এ কাজ খাজায়ে আলম (সারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মনিত মহাপুরুষ) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শাফায়েতের স্তরে নিবন্ধ, এখানে অপরের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সূতারাং আমার উচিত নয় তাদের জন্য দোয়া চাওয়া ।
এচিন্তা করার সাথে সাথেই ঐশী আওয়াজ ভেসে এলো, হে বায়োজিদ, আমার হাবীবের (বন্ধুর) প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার
জন্য আমি তোমাকে
সুলতানূল আরেফিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলাম। এ পর্যন্ত বলার পর হযরত আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন হলেন।
আমি স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
দ্বাদশ মজলিস
সালাম করার বিষয়ে জ্ঞান করলেন, যখন মজলিসে প্রবেশ করবে , সালাম করে প্রবেশ করবে এবং যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখন সালাম করে পরে বেরুবে।
কেননা সালাম গোনাহর কাফ্ফারা (পাপের প্রায়শ্চিত্ত) হিসেবে পরিগণিত হয়।
ফেরেস্তাগন সালাম প্রদানকারীর জন্য ক্ষমা চায় এবং আল্লাহ তালার রহমত তার উপর বর্ষিত হয়।
তার পূর্ণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, আমি হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর মূখে শুনেছি , তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি মজলিসে সালাম করে প্রবেশ করে, এবং সালামের সাথে নির্গত হয় , হাজার নেকি তার আমল নামায় লেখা হয়। আল্লাহতায়লা তার হাজার বাসনা পূর্ণ্য করেন , এবং গোনাহ হতে এমন ভাবে পবিত্র করে, যেন সদ্য মাতৃজঠর হতে ভূমিষ্ঠ হলো।
এছাড়াও এক বছরের এবাদত এবং শত ওমরাহ হজ্বের সওয়াব তার
আমল নামায় লেখা হয়। ও হাজার হাজার মানুষের সম্মানের পাত্র হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন হযরত আদম (আঃ) এর দেহ মোবারকে
রূহ এলো তিনি তখন চিৎকার করে উঠলেন। হ যরত জিব্রাইল (আঃ)
সামনে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালাম দিলেন , এ সময় হতেই সমস্ত আম্বিয়া ( আঃ) দের সুন্নত ।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু
বর্ণনা করেছে , আমি ছোট বেলা হতেই হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এর
খেদমতে আছি সবসময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতাম যে, প্রথমে আমি তাকে সালাম নিবেদন করবো, এবং তিনি জবাব দিবেন। কিন্তু কখনও
সে সৌভাগ্য আমার হয়নি, আমি সালাম দেওয়ার পূর্বেই তিনি সালাম
দিতেন এবং আমাকে তার উত্তর দিতে হতো॥
এই পর্যন্ত বর্ণনা করার পর হযরত খাজা (রহ) যখন আল্লাহতে
তম্ময় হলেন, আমি তখন বিদায় স্বীয় স্থানে ফিরে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
_________________________________________________
ত্রয়োদশ মজলিস
___________________________________________________________________________________________________
ক্বাজা ও বাতিল নামাজের কাফ্ ফারা বা প্রায়শ্চিত নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ে বললেন, হযরত আমিরুল মুমেনীন হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু হযরত রসুলে মকবুল (সাঃ) রওয়ায়েত করেছেন, যে ব্যাক্তির নামাজ বোকামির জন্য ফওত (মৃত্যু) হয় এবং সে জানেনা যে কিভাবে ফওত হয়েছে তাহলে , তার উচিৎ সোমবার রাতে ৫০ রাকাত নামাজ পাঠ করা। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস একবার পাঠ করে নামাজ শেষে ১০০ বার আস্তাগফার পাঠ করবে এবং পূর্বের নামাজের কাফ্ ফারা হিসাবে এ নামাজকে কবুল করার জন্য দোয়া চাইবে॥
হর বার কে দর নামাজ মশগুল শোয়াম
চুঁ দোস্ত হুজুর নিস্ত আঁ নিস্ত নামাজ
অর্থ - প্রত্যেকবারই আমি নামাজে বিলিন হই।
যখন বন্ধু উপস্থিত থাকে না , উহা নামাজ নয় ।
অর্থাৎ যে, নামাজে বন্ধু নেই, সে নামাজ নামাজই নয়।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর রেশম বা রীতি ছিল নামাজে যখন দাড়াতেন তখন ১৩০০ বার তকবির (আল্লাহু আকবর) বলতেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে নামাজের উপযোগী মনে না হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ আরম্ভ করতেন না । এবং যখন ইয়্যা কানা বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতায়ীন পর্যন্ত পৌছতেন তখন এ আয়াতকে কয়েকবার পাঠ করে তার পর পরবর্তী আয়াত পাঠ করতেন।
এরপর এরশাদ করলেন, খাজা শামসিল আরেফিন বড় বুজুর্গ ছিলেন।
একবার তিনি রসূলে মকবুল (সাঃ) এর রওজা মোবারকে পৌছে সালাম নিবেদন করলেন, আস্ সালামু আলায়কুম ইয়্যা সায়্যেদাল মুরসালিন"
রওজা মোবারকের অভ্যন্তর হতে আওয়াজ এলো, ওয়া আলাইকুমস্ সালাম ইয়া শামসিল আরেফিন"
এরপর হতেই তিনি শামসিল আরেফিন নামে সর্বত্র পরিচিত হয়ে গেলেন। প্রত্যেকেই তাকে তখন হতে শামসিল আরেফিন বলে ডাতেন।
এরপর এরশাদ করলেন অনুরূপ ঘটনা হযরত ইমামে আযম
আবু হানিফা(রহঃ) এর সঙ্গেও ঘটছে , যখন তিনি ঐশী পরশে
আপ্লুত হয়ে রসূলে খোদা ( সাঃ) এর রওজা মোবারকে গমন করে সালাম আবেদন করলেন,
আস্ সালাতু আস্ সালামু আলাইকা ইয়্যা সায়্যেদাল মূরছালিন"
উত্তরে শব্দ ভেসে এলো , আলায়কা আস্ সালাম ইয়া ইমামাল
মুসলেমিন।
এ সময় হতেই তিনি ইমামুল মুসলেমিন অর্থাৎ মুসলমানদের ধর্মীয় নেতা হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
এরপর হযরত বায়োজিত বোস্তামী (রহঃ) এর উপাদি লাভের ঘটনা
বর্ণনা করলেন,
একদিন রাত্রি দ্বিপ্রহরে হযরত বায়োজিত (রহঃ) যখন বালাখানায়(উপর তলার কক্ষে) গমন করলেন তখন চন্দ্র কিরণে
ধরনী ছিল আপ্লুত এবং বিশ্ব ছিল ঘুমিয়ে, কিন্তু আল্লাহর রহমত বর্ষিত হচ্ছিল অঝরে।
তিনি এ দৃশ্য অবলোকন করে বললেন, আফসোস ! এ মধুময় ও
আনন্দঘনক্ষণে মানব সন্তানগণ নিদ্রায় নিমগ্ন । মানুষে ভবিষৎ
অন্ধকার দেখে তার কোমল হৃদয় কেঁদে উঠলো, এবং ভীত হয়ে পড়লেন।
ইচ্ছা জাগলো দোয়া করতে যাতে মানুষ এ স্বপ্নরাজ্য হতে
বাস্তবে । ফিরে এসে পরিত্রাণ পায় ।
কিন্তু পরক্ষণেই খেয়াল হলো, এরকম ভয় পাওয়া তার উচিত
নয়, কারণ এ কাজ খাজায়ে আলম (সারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মনিত মহাপুরুষ) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শাফায়েতের স্তরে নিবন্ধ, এখানে অপরের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সূতারাং আমার উচিত নয় তাদের জন্য দোয়া চাওয়া ।
এচিন্তা করার সাথে সাথেই ঐশী আওয়াজ ভেসে এলো, হে বায়োজিদ, আমার হাবীবের (বন্ধুর) প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার
জন্য আমি তোমাকে
সুলতানূল আরেফিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলাম। এ পর্যন্ত বলার পর হযরত আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন হলেন।
আমি স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ।
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
দ্বাদশ মজলিস
সালাম করার বিষয়ে জ্ঞান করলেন, যখন মজলিসে প্রবেশ করবে , সালাম করে প্রবেশ করবে এবং যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখন সালাম করে পরে বেরুবে।
কেননা সালাম গোনাহর কাফ্ফারা (পাপের প্রায়শ্চিত্ত) হিসেবে পরিগণিত হয়।
ফেরেস্তাগন সালাম প্রদানকারীর জন্য ক্ষমা চায় এবং আল্লাহ তালার রহমত তার উপর বর্ষিত হয়।
তার পূর্ণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, আমি হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর মূখে শুনেছি , তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি মজলিসে সালাম করে প্রবেশ করে, এবং সালামের সাথে নির্গত হয় , হাজার নেকি তার আমল নামায় লেখা হয়। আল্লাহতায়লা তার হাজার বাসনা পূর্ণ্য করেন , এবং গোনাহ হতে এমন ভাবে পবিত্র করে, যেন সদ্য মাতৃজঠর হতে ভূমিষ্ঠ হলো।
এছাড়াও এক বছরের এবাদত এবং শত ওমরাহ হজ্বের সওয়াব তার
আমল নামায় লেখা হয়। ও হাজার হাজার মানুষের সম্মানের পাত্র হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন হযরত আদম (আঃ) এর দেহ মোবারকে
রূহ এলো তিনি তখন চিৎকার করে উঠলেন। হ যরত জিব্রাইল (আঃ)
সামনে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালাম দিলেন , এ সময় হতেই সমস্ত আম্বিয়া ( আঃ) দের সুন্নত ।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু
বর্ণনা করেছে , আমি ছোট বেলা হতেই হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এর
খেদমতে আছি সবসময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকতাম যে, প্রথমে আমি তাকে সালাম নিবেদন করবো, এবং তিনি জবাব দিবেন। কিন্তু কখনও
সে সৌভাগ্য আমার হয়নি, আমি সালাম দেওয়ার পূর্বেই তিনি সালাম
দিতেন এবং আমাকে তার উত্তর দিতে হতো॥
এই পর্যন্ত বর্ণনা করার পর হযরত খাজা (রহ) যখন আল্লাহতে
তম্ময় হলেন, আমি তখন বিদায় স্বীয় স্থানে ফিরে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক ॥
_________________________________________________
ত্রয়োদশ মজলিস
___________________________________________________________________________________________________
ক্বাজা ও বাতিল নামাজের কাফ্ ফারা বা প্রায়শ্চিত নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ে বললেন, হযরত আমিরুল মুমেনীন হযরত আলী করমুল্লাহু ওয়াজহু হযরত রসুলে মকবুল (সাঃ) রওয়ায়েত করেছেন, যে ব্যাক্তির নামাজ বোকামির জন্য ফওত (মৃত্যু) হয় এবং সে জানেনা যে কিভাবে ফওত হয়েছে তাহলে , তার উচিৎ সোমবার রাতে ৫০ রাকাত নামাজ পাঠ করা। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস একবার পাঠ করে নামাজ শেষে ১০০ বার আস্তাগফার পাঠ করবে এবং পূর্বের নামাজের কাফ্ ফারা হিসাবে এ নামাজকে কবুল করার জন্য দোয়া চাইবে॥
আল্লাহতায়লা এই নামাজের বরকতে তার সমস্ত ক্বাজা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত নামাজকে পূনজীবিত করেন।
১০০ বছরে ক্বাজা হলেও পূনজীবিত হয়। এরপর এরশাদ করলেন, রাত্রি জাগরণ অতি উত্তম। সধারণতঃ মানুষ রাত্রে শুয়ে থাকে কিন্তু যারা রাত্রি জাগরণ করে, আল্লাহতায়লা ফেরেস্তাদেরকে হুকুম দেন, আগামীরাত পর্যন্ত তার রক্ষণাবেক্ষণ করো, এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকো। এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি
রাতে ২০ রাকাত নামাজ প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সুরা ইখলাস মিলিয়ে পাঠ করবেন আল্লাহতায়লা তাকে হাশরের দিন সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে উত্তোলন করবে এবং প্রতি রাকাতের জন্য বেহেস্তে একটি করে মহল দান করবেন। এছাড়াও পূলসেরাত পার হওয়ার জন্য মশাল দান করবেন। এরপর
এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি রাতে উটের এক নিঃশ্বাস পরিমাণ সময় পর্যন্ত এবাদত করে সে ৬০ টি ওমরা হজ্বের সওয়াব পাবে। রহমতের দরজা তার ওপর প্রসস্ত করা হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন আ মি খানা কাবাতে ছিলাম তখন
একজন বুজুর্গের সাথে দেখা হয়েছিল , যিনি ঐশী আলোকে আলোকিত ছিলেন। প্রতি রাতে ফজরের পূর্বে দূবার করে কোরানশরীফ খতম করতেন।
এরপর এরশাদ করলেন, সমরকন্দে আবদুল ওয়াহেদ সমরকান্দী নামে এক বুজুর্গের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল তিনি অতি উচ্চ পর্যায়ের বুজুর্গ ছিলেন।
তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি রাতে বন্দেগী করেনা তার ঈমানই নষ্ট হয়ে যায় এবং যে ব্যাক্তি দিনে রোজা রাখেনা তার অবস্থা
প্রথম ব্যাক্তির অনুরূপ ।
দিনে রোজা রাখা এবং রাতে বন্দেগী করা ঈমানের পরিপূর্ণতার পথে ফলোদয়ের কারণ ঘটায়।
এরপর এরশাদ করলেন, কিয়ামে শব ( রাতে দাড়িয়ে থাকা ) এক প্রকার নূর । দূনিয়ায় সে নূর লাভ করতে পারলে আখেরাতের ঠিকানা নির্ধারণ করা যায়॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি রাতে জাগ্রত থেকে বন্দেগী করে, সে ব্যাক্তি মুস্ তাজাবুদ্দাওয়াৎ (যার দোয়া কবুল হয়) হয় এবং বেহেস্ত তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আশা পোষণ করে। আল্লাহ তায়লা তারপ্রতি সন্তুুষ্ঠ ও রাজি থাকে
এরপর এরশাদ করলেন, ভ্রমণের পথে বোখারায় আরও একজনের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার বুজুর্গী ও মর্যাদা বর্ণনাতীত ।
বেশ কিছু দিন তার সোহবতে ছিলাম , কোন রাতও তিনি কিয়াম ( দাড়িয়ে ইবাদত করা) হতে বিরত থাকতেন না।
তিনি সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত এমন ভাবে দাড়িয়ে ইবাদত করেছেন যার ফলে মাটি তার হাতের স্পর্শ পর্যন্ত পায়নি॥
হযরত এ অমিয়বানী পেশ করার পর মশগুল হলেন।
আমি আমার গৃহে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ॥
________________________________________________________________________________________________________________________
চতুর্দশ মসজলিস
_____________________________________________
সুরা ফাতেহা ও সুরা এখলাস সমন্ধে কথা করলেন, হুজুর এরশাদ
করলেন, হযরত খাজা শায়খ ইউসুফ চিশতী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ তার রচনায় বর্ণনা করেছেন, হযরত রসূললে মকবুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি শয়ন করার সময় সুরা ফাতেহা
ও সুরা এখলাস তিনবার করে পাঠ করে, হাশরের দিন আল্লাহ তায়লা তাকে আমার উম্মতের মর্যাদা দান করে উত্তোলন করবেন॥ পয়গম্ভরদের পরে সেই ব্যাক্তি বেহেস্তে প্রবেশ করবে, এবং তার আগে আর কেউ যেতে পারবে না ॥
তাছাড়াও বেহেস্তে সে ঈসা (আঃ) এর প্রতিবেশী হিসাবে স্থান পাবে। এরপর এরশাদ করলেন, খাজা আবু মহম্মদ মিরাশ (রহঃ)
এর মূখে শুনেছি তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি তিনবার করে সুরা
এখলাস ও ফাতেহা পরবে তার সমস্ত গুণাহ এমন ভাবে দূর হয় যেন সদ্যজাত ভূমিষ্ট শিশু।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত জুনুন মিশরী(রহঃ) লিখেছেন, হযরত ইবনে ওমর (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি শোবার সময় সুরা কাফেরুণ পাঠ করে, হাজারো ফেরেস্তা তার বেহেস্তি হওয়ার সংবাদ প্রদান করেন।
এরপর এরশাদ করলেন, এক সময় আমি আমার পীড় ও মুর্শেদের
সাথে বদখ্ শানের পথে চলছিলাম। একজন বুজুর্গের সাথে দেখা হলো, যিনি অত্যন্ত বিলয়প্রাপ্ত ছিলেন।
আমি তার মূখে শুনেছি যে ব্যাক্তি সূর্য উঠার পর ২ বা ৪ রাকাত নামাজ পড়ে সে ওমরা হজ্বের সওয়াব লাভ করে। আরও বলেন,
রসূলে মকবুল (সাঃ) হতে বর্ণিত আছে , যে ব্যাক্তি সূর্য উদয়ের পর ২ অথব ৪ রাকাত নামাজ পাঠ করে তার মর্যাদা পৃথিবীর সমস্ত রত্নভান্ডার বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে কমনয়।
এখানেই হুজুর তার কথা শেষ করে আল্লাহতে মশগুল হলেন।
আমি আমার কুটিরে ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
* পঞ্চদশ মজলিস॥
_________________________________________
আহলে জান্নাত (বেহস্তবাসী) দের প্রশংসা সমন্ধে জ্ঞাগর্ভ আলোচনা করলেন। তিনি এরশাদ করলেন, যে তফছীরে
ইমাম শাফী - তে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এর নিকট আবেদন করা
হয়েছিল , আপনি আমাদেরকে বেহেস্ত বাসীদের খাওয়া পরা সমন্ধে কিছু জ্ঞান দান করুন। হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করলেন, কসম সেই জুল্ জালালে ওয়াল ইকরাম (শপথ সেই মহামহিম ও মহানুভব ) এর যিনি আমায় রসূল বানিয়েছেন, বেহেস্তে মানুষ ১০০ বার করে প্রতিদিন আহার করবে এবং ১০০ বার স্বীয় পরিবারের সঙ্গলাভ করবে।
মজলিস হতে একজন বিনয়াবনত হয়ে বললেন, ইয়া" রাসূলাল্লাহু " এ ধরনের খাওয়া দাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী কাজায়ে হাজত (মলমূত্র ত্যাগ করা) এর প্রয়োজন দেখা দেবে কি ? হুজুর বললেন, এধরনের কোন অবস্থার ।সৃষ্টি হবেনা বরং খাওয়ার পর পেট হতে বায়ু নির্গত হয়ে পেট খালি হয়ে যাবে, যার সুগন্ধ মৃগনাভীর (মুশক) সুগন্ধকেও হার মানাবে। এরপর এরশাদ করলেন, বেহেস্তবাসীগন সব সময় ধরে জীবিত থাকবে কখনও মরবে না, চীরযৌবন লাভ করবে, কখনও বৃদ্ধ হবেনা, চীরকাল প্রফুল্ল থাকবে, কখনও দূঃখিতও হবেনা, নিত্য নতুন নেয়ামত লাভ করবে । যে ব্যাক্তি এ পুরস্কার লাভ করতে চায় তার উচিৎ জুম্মার দিন জুম্মার নামাজের পর ১০০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা। তা হলেই সে অনুদান লাভ করতে পারবে। আর যে ব্যাক্তি প্রতি জুম্মাতেই এই আমল করবে তার সৌভাগ্য বর্ণনাতীত। এরপর এরশাদ করলেন, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, লোক নিজের পিতা মাতাকে দেখতে পাবে কি পাবে না, তিনি জানালেন, দেখতে পাবে বং সাক্ষাৎ ও করতে পারবে। পরে নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, জান্নাতু আদনিয়্যাদখুলুনাহা ওয়া মান ছালাছা মিন আবা- য়েহিম ওয়া আজওয়াজিহিম ওয়া জুররিয়াতেহিম ওয়াল মালায়েকাতু ইয়া খুলুনা আলাইহিম কুল্লে বাব। অর্থাৎ থাকার বাগান আছে সেখানে প্রবেশ করবে পূর্ণবান লোক , মাতা পিতা, সন্তান ও স্ত্রী গণ ॥ আর ফেরেস্তা প্রতি দরজা দিয়ে তাদের নিকট আসবে । এরপর এরশাদ করলেন, একজন অপর জনের সাথে দেখা করতে চাইলে ঘোড়ার মত এক প্রকার বাহনে চেপে তাদের মহলে যেতে পারবে।
হযরত খাজা এই পর্যন্ত বলে বিলয়প্রাপ্ত হলেন। আমিও প্রত্যাবর্তন করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
ষোড়শ মজলিস
______________________________________________ _________________________________________________
কথা বললেন মসজিদ সমন্ধে। হুজুর এরশাদ করলেন, যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন প্রথমে ডান পা ও পরে বাম পা প্রবেশ করাবে এবং নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে, বিসমিল্লাহে ওয়া তাওয়াক্কালতু আলাল্ লাহে ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহে আউজুবিল্লাহে মিনাশ্ শায়তোয়ানির রাজিম।
এ দোয়া হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) হযরত আলী (কঃ) কে শিখিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করার সময় এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহ তায়লা তার নামাজ কবুল করেন এবং তা র প্রতি রাকাত নামাজের জন্য ৭০ রাকাত নামাজের সওয়াব প্রদান করেন এবং তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য বেহেস্তে প্রাসাদ দান করবেন। এরপর এরশাদ করলেন, যদি কোন ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করার সময় আউজুবিল্লাহে মিনাশ্ শায়তোয়ানের রাজিম পাঠ করে তখন ইবলিশ দুঃখ করে বলে যে, এ লোক আমার পিঠ ভেঙ্গে দিয়েছে। ঐ দোয়া পাঠকারীর আমলনামায় ১ বছর এবাদতের সওয়াব প্রদান করা হয়। বাহির্গমনের সময়ও যদি উক্ত দোয়া পাঠ করে তাহলে বেহেস্তে তার জন্য ১০০ টি দরজা তৈরি করা হবে এবং শরীরের লোমের পরিমাণ সংখ্যক সওয়াব লাভ করবে॥এরপর এরশাদ করলেন, হযরত ইমাম জিন্দোসী (রহঃ) স্বীয় পুস্তকে বর্ণনা করেছেন, মুমেন যখন মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা প্রথমে প্রবেশ করায় তখন ফেরেস্তাগন বলতে থাকে যে, হে আল্লাহ্ একে বেহেস্তে স্থান দাও। বেড়োবার সময় যখন সে বাম পা প্রথমে বেড় করে তখন ফেরেস্তাগন বলতে থাকে যে, হে এলাহী এর সমস্ত গোনাহ্ মাফ করে দাও।
এ পর্যন্ত বলেই তিনি আল্লাহতে বিভোর হলেন। আমি আমার নিজ জায়গায় ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক॥
________________________________________________
সপ্তদশ মজলিস
____________________________________
হুজুর এবার কথা বললেন দূনিয়া ও দূনিয়ার সম্পত্তি সঞ্চয় করা সমন্ধে। এরশাদ করলেন, প্রথমে জানা উচিৎ দুনিয়া কি জিনিস এবং এর মাল সঞ্চয় করার অর্থ কি ?
দূনিয়ার প্রতি কোন ক্রমেই কোন পূর্ণ্যাত্মা অথবা প্রেমিকের উচিৎ নয় আসক্ত হওয়া বরং তার উচিৎ যা কিছু তার কাছে আছে তা যেন সে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়।
কোন অবস্থাতেই কোন বস্তুর মোহে আবিষ্ট হওয়া উচিৎ নয়। এরপর বললেন, হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর মূখে শুনেছি তিনি বলেছেন, মালের কৃজ্ঞতা (শুকুর) প্রকাশ করা হয় দূনিয়া ত্যাগের মাধ্যমে এবং ইসলামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে ॥ যে ব্যাক্তি সর্বাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে সে ইসলামের প্রাপ্য প্রদান করে এবং যে ব্যাক্তি যাকাত দেয় সে মালের (শুকুরানা) কৃতজ্ঞতা আদায় করে।
পরে বললেন বালকদের খারাপ অভ্যাস সমন্ধে। এরশাদ করলেন, কান্নার সময় বাচ্চাদের মারতে নেই। কারণ ঐ সময় শয়তান তার কান মলে, ভয় দেখায় এবং কষ্ট দেয়। এ অবস্থায় তার পিতা মাতা অথবা অন্য যে কোন ব্যাক্তি তাকে তার জন্য তাকে গোনাগার হতে হবে। এরপর এরশাদ করলেন, হাদিস শরীফে উল্যেখ আছে যে, যখন বাচ্চা কাঁদে তখন বাচ্চাকে মারা অন্যায় বরং তার কানে লা হাওলা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়েল আজীম শুনাও, কেননা এতে তার কান্না থেমে যাবে। এবং শয়তান পালিয়ে যাবে। তিনি এ সমস্ত বর্ণনা করে তিনি বিলয়প্রাপ্ত হলেন, আমিও বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
অষ্টাদশ মজলিস
হযরত হাঁচি সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন। বললেন, যখন কোন মুমেন বান্দা হাঁচি দিয়ে, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে তখন আল্লাহ তায়লা তার সমস্ত গোনাহ্ মাফ করে দেন, এবং ঐ বান্দার জন্য বেহেস্তে একটা প্রাসাদ তৈরি করেন, যার মধ্যে একটা গাছ থাকবে এবং সে গাছের ওপর সুমধুর কন্ঠের অধিকারী একটা পাখী বসে থাকবে। একজন কৃতদাস মুক্ত করার সওয়াবও এরসঙ্গে তার আমলনামায় লেখা হবে।
এরপর সে যদি দ্বীতিয় হাঁচি দিয়েও আলহামদলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে তাহলে খোদাতায়লা তার পিতামাতার সমস্ত গোনাহ ও ক্ষমাকরে দেন। যদি সে তৃতীয়বার হাঁচি দেয় তাহলে ভাববে এটা সর্দির প্রতিক্রিয়া। মুসলমানদের জেনে রাখা উচিৎ যে, হাঁচির জবাবে ইয়াহামুকাল্লাহ বললে গোনাহের প্রায়শ্চিত ( কাফ্ ফারা) করা হয় এবং আত্মিক উন্নতিও ঘটে।
যে ব্যাক্তি হাঁচির জবাব দিবে রোজ হাশরে সে নবী (আঃ) দের প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে এবং বেহেস্তে হাজার হুর লাভ করবে।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তির প্রথম হাঁচি আসে, সে হচ্ছেন হযরত আদম (আঃ) এবং যে ব্যাক্তি প্রথম হাঁচির জবাব দেন তিনি হচ্ছেন হযরত জিব্রাইল (আঃ) হযরত আদম (আঃ) যখন আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বললেন, তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন। এরপর এরশাদ করলেন, আতিয়া নামে একটা পর্দা দোজখের মাঝে আগুনকে আড়াল করে রেখেছে ॥ যখন কোন ব্যাক্তি হাঁচি দেয় তখন সে ঐ পর্দার নিকটবর্তী হয়, এবং যখন হাঁচির শুকর আদায় করে তখন সে ঐ পর্দা হতে বহুদুরে সরে আসে।
এ অমিয়বানী বলা শেষকরে হুজুর আল্লাহতে বিলীন হলেন এবং আমি আমার কুটিরে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
উনবিংশ মজলিস
_________________________________________
আযান সমন্ধে হুজুর তার অমিয়বানী পেশ করলেন, বললেন হযরত আমিরুল মুমেনীন আলী (কঃ) এরশাদ করেছেন, যে, আমি হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) হতে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে জেনেছি তিনি বলেছেন, "হে আলী যে ব্যাক্তি আযান দেয় তার সওয়াব সমন্ধে আল্লাহতায়লাই ভালো অবগত আছেন।
আযানের অর্থ এই যে, যখন মোয়াজ্জেন আল্লাহু আকবর বলে, তার অর্থ হলো আল্লাহতায়লা অত্যন্ত মহান ॥ উদ্দেশ্যে হলো, আমি তার সাক্ষ্য দিয়ে দুনিয়ার কর্ম হতে বিমুক্ত হয়ে তোমার নামাজের জন্য উপস্থিত হয়েছে। আশহাদু আল লা ই লাহা ইল্লাল্লাহু এর উদ্দেশ্য হচ্ছে " হে উম্মতে মুহম্মদ ( সাঃ), জেনে রাখ আমি ফেরেস্তাদেরকে সাক্ষী মনোনিত করছি এবং তোমাদেরকে খবর দিচ্ছি নামাজের সময়ে নামাজ হতে
উত্তমতর কিছুই নেই।
যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলাল্লাহ্ বলে তখন উপলব্ধ করতে হবে যে, হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রসূল এবং প্রেরিত হয়েছেন সত্যকে সঙ্গে নিয়ে ॥
যখন হাইয়্যা আলাস্ সালাহ বলে, তার অর্থ হলো, হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ), তোমাদের ওপর আমি প্রচার করে দিয়েছি, এখন তোমাদের উচিত আল্লাহতায়লা ও তার রসূলের অনুগত হওয়া।
কেননা, নামাজের প্রতিদানে আল্লাহতায়লা তোমাদের গোনাহ মাফ করে নদেন, কারণ নামাজ ধর্মের স্তম্ভ।
এরপর হাইয়্যা আলাল ফালাহ , যার অর্থ হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ), বেহেস্তের দরজা খুলে দেয়া হয়েছে উঠ এবং নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করো এবং এ উত্তম বস্তুু কিছুই নেই।
যে ব্যাক্তি নামাজ আদায় না করে সে দুর্ভাগাদের অন্তগর্ত হয়॥
যখন লা ই লাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে তখন বুঝবে যে, সাত আসমান জমিনের আমানত তোমার (মুয়াজ্জেম) গর্দানের ওপর বোঝা স্বরুপ ; যদি এ আযান কবুল হয় তাহলে মুক্তি পেলে॥
নামাজ পাঠ করলে গোনাহের কাফ্ ফারা এবং আল্লা ও তার রসূলের আনূগত্য স্বীকার করা হয়॥
যার আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য মন্জুর হয়েছে সে মসজিদে যেয়ে নামাজ আদায় করে॥ পরকালে সিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে একসাথে থাকার অধিকার লাভ করে এবং বেহেস্তে হযরত দাউদ (আঃ) এর প্রতিবেশী হওয়ার যোগ্য হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, মুয়াজ্জিনের আযানের জবাব দয়া কিয়ামতের দিন মুক্তির সনদস্বরূপ ॥
যে ব্যাক্তি জামাতে নামাজ পাঠ করে তার প্রতি রাকাতের জন্য সে ৩০০ রাকাত নামাজের সওয়াব পাবে এবং উত্তম বেহেস্তে সংখ্যাতিত মহল লাভ করবে॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
_____________________________________________________
বিংশ মজলিস
মুমেনদের হকিকত (যথার্থতা) সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন, বললেন, মুমেন তাকে বলা চলে যে তিনটি জিনিস কে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করে (১) দরবেশী (২) অসুস্থতা (৩) মৃত্যু॥ যে ব্যাক্তি
এ তিনটি জিনিসকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে ফেরেস্তাগণও তাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহন করবে॥
আল্লাহতায়লা স্বীয় করুনা দ্বাড়া তাকে আপ্লুত করবে এবং
তার বাসস্থান হবে উত্তম বেহেস্ত্॥ এরপর এরশাদ করলেন, আল্লাহতায়লা মুমেনদেরকে বন্ধুত্ব দান করেন। এবং মুমেনগণও আল্লহকে বন্ধু মনে করেন॥ এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আনিস বিন মালিক (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে. যে ব্যাক্তির নিকট ৬০ হাজার পরিমাণ দেহরাম আছে, সে ধনিদের মধ্যে গণ্য হয় এবং যার কাছে এর চেয়ে কম আছে সে মুফলেসীন (গরীব) ॥ যে ব্যাক্তির নিকট
কিছুই নেই তার উচিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ॥ কারণ সে আয়ুব (আঃ) এর উত্তরাধিকারিগণের মধ্যে গণ্য হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, আমি হযরত খাজা মওদুদ চিশতী (রহঃ) এর মুখে শুনেছি, তিনি বলেছেন, হাশরের দিন আল্লাহতায়লা তিনটি দলকে রহমতের নজরে দেখবেন এবং তারা আরশের নিচে ছায়ায় থাকবে॥ প্রথম দলঃ যাদের চোখ সবসময় অশ্রুতে ভেজা থাকে॥
দ্বীতিয় দলঃ ঐসব স্ত্রীলোক যাদের প্রতি তাদের স্বামীরা পরিতৃপ্ত॥
তৃতীয় দলঃ ঐ সব লোক যারা দরবেশ ও মিসকিনদেরকে আহার করায়॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি প্রতিবেশীকে খুশী রাখবে সে ব্যাক্তি বেহেস্তে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এর প্রতিবেশী হবে এবং যে ব্যাক্তি প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেবে সে অভিশপ্ত (মালউন) । যে ব্যাক্তি
নবী করীম (সাঃ) এর আহলে বয়াত (পরিবার বর্গ) কে বন্ধু মনে করে না সে মুনাফিক (প্রবঞ্চক) ॥ এরপর এরশাদ করলেন, আমলের মধ্যে উৎকৃষ্ট হচ্ছে নামাজ, তারপর সদকা (দান) , তারপর কোরান শরীফ পাঠ করা॥
হযরত খাজা বর্ণনা শেষ করে মশগুল হলেন॥ আমিও স্থানে চলে এলাম॥
দআলহামদুল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
একবিংশ মজলিস
অভাব পূরণের ব্যাপারে বক্তব্য পেশ করলেন॥ বললেন, যে ব্যাক্তি অভাব গ্রস্থ্যদের অভাব পূরণ করে আল্লাহতায়লা তাকে বন্ধুত্ব ও বেহেস্ত দান করেন॥
যে ব্যাক্তি মুসলমানদেরকে সম্মান দেয় তার গোনাহ মাফ হয় যায়॥
যে ব্যাক্তি পথের কাটা এই নিয়তে পরিস্কার যে , কোন মুসলমানের পায়ে বিধলে কষ্ট পাবে, আল্লাহতায়লা হাসরের দিন তাকে সিদ্দিকীন ও শহীদগনের সঙ্গে
উত্তলোন করবেন ॥ এরপর এরশাদ করলেন, আমাদের
শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ হতে বর্ণীত আছে যদি কেহ ওজিফাতে মশগুল থাকে এবং তখন কোন অভাব গ্রস্থ্য লোক তার কাছে আসে তাহলে তার উচিত ওজিফা ছেড়ে দিয়ে তার প্রতি মনোযোগ দেয়া এবং নিজের সামর্থ্যনুযায়ী তার অভাব পূরণকরার চেষ্টা করা॥
আল্লাহ তায়লা তাকে এর প্রতিদিনে আশাতীত ফল দান করবেন॥
এখানে পৌছেই নিশ্চুপ হলেন। আমি আমার কুটির ফিরে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
_________________________________________________________
দ্বাবিংশ মজলিস
আখেরী জামানা বা শেষ । জামানার অবস্থা সমন্ধে বলতে যেয়ে বললেন,
হযরত রসূললে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আখেরী জামানায় লোক আমার দলভুক্ত আলেমদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে; যেভাবে চোর ডাকাতদেরকে মারা হয়॥
ঐ সময় আলেমদেরকে মুনাফেক এবং মুনাফেকদের আলেম মনে করবে। সে সময়ের জীবন মৃত্যু র চেয়ে নিকৃষ্টতর হবে॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে(জন্যে) জ্ঞান অর্জন করবে সে দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় জগতে উচ্চমর্যাদা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে। এরপর এরশাদ করলেন, জ্ঞান বিস্তারের জন্য শিক্ষার পথে শিক্ষার্থীকে এক টাকা দানকরা হাজার বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম ॥ সে হাজার বছর ইবাদতের সওয়াব পাবে। যে ব্যাক্তি জ্ঞান অর্জনের পথে এক পা অগ্রসর হয় আল্লাহতায়লা তার জন্য বেহেস্তে ১০০ টি ঘড় দান করেন এবং ১০০ টি হুরও অনুদান পাবে॥ এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি ধর্মীয় পুস্তক প্রণয়ন করে, আল্লাহতায়লা হুকুম দেন তার নাম আমার জুব্বার নীচে অবস্থিত আউলিয়াদের দপ্তরে (খাতায়) লিখে নাও। ফেরেস্তা তখন তার নাম
আউলিয়াদের দপ্তরে লিখে নেয়॥॥
হযরত এ অমীয়বানী বর্ণনা করার পর আল্লাহতে বিলীন হলেন। আমি চলে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
____________________________________________________________
ত্রয়োবিংশ মজলিস
মৃত্যু- চিন্তা করার বিষয়ে জ্ঞান দান করলেন।
বললেন হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন মৃত্যুকে স্মরণ করা দিবা-রাত্রি বন্দেগীর চেয়ে উত্তম । এরপর বললেন যে ব্যাক্তি মৃত্যুকে সবসময় স্মরণ করে সে তার কবরকে বেহেস্তের বাগানের মতো একটা বাগান হিসাবে পাবে ॥উত্তম কাজ হচ্ছে সবসময় মৃত্যু চিন্তা করা ও আম্বিয়া আলাইস্ সালামের প্রতি দরুদ পাঠ করা । যে ব্যাক্তি এরুপ আমল করে আল্লাহ তালা তার গোনাহ মাফ করে দেন, যদি সে গোনাহ বনের বৃক্ষ হতেও অধিক হয় এবং তার জন্য দোজখ হারাম করে দেন। আল্লাহতায়লা বেহেস্তে নবীদের সম্মুখে তার ঘর করে দেবেন॥
বক্তব্য এখানে শেষ করে হুজুর মশগুল হলেন। আমি এজাজত (অনুমতি ) নিয়ে চলে এলাম॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
__________________________________________________________________________________________________________
চতুর্বিংশ মজলিস
________________________________________
মসজিদে আলোদান (চেরাগ) সমন্ধে বলতে যেয়ে বললেন, আমিরুল মো মেনীন হযরত আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) আছে, যে ব্যাক্তি এক রাত্রির জন্য মসজিদে বাতি প্রদান করে আল্লহতালা তার ৭০ বছরের গোনাহ মাফ করে দেন, এবং তার আমল নামায় ৭০ বছরের নেকী লেখা হয়। এছাড়াও বেহেস্তে তাকে একটা প্রসাদ দেয়া হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি মসজিদে বাতি দেয়া
অব্যাহত রাখে আল্লাহতালা তার দেহকে দোজখের আগুনের জন্য হারাম করে দেন এবং বেহেস্ত তার জন্য উম্মুক্ত হয়॥ সে তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন পথ দিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে এবং যে পর্যন্ত সে নিজের জায়গা বেহেস্তে অবলোকন না করবে সে পর্যন্ত মৃত্যু তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
এছাড়াও বেহেস্তে তাকে নবী (আঃ) দের বন্ধু বলে সম্মোধন করা হবে॥ হুজুর এখানেই শেষ করে আল্লাহ নিমগ্ন হলেন। আমি নিজের ঘরে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
পঞ্চবিংশ মজলিস
________________________________________________________________________________________
দরবেশদের সমন্ধে আলোচনায় বললেন, যে ব্যাক্তি
দরবেশদেরকে মেহমান রাখেন তার জন্য বেহেস্তের একটি দ্বার উম্মুক্ত
হয় এবং আখেরাতে সে ধনী হয়। যে ব্যাক্তি এ পথে টাকা পয়সা খরচ করে , অর্থাৎ দরবেশদের ভরণপোষণ করে এবং ঐ দানকে গোপন রাখে তার সমস্ত গোনহ মাফ করে দেয়া হয়। এরপর এরশাদ করলেন, তিনটি দল বেহেস্তের সুগন্ধও ভোগ করতে পারবে না॥ প্রথমঃ যে দরবেশ মিথ্যা কথা বলে।
দ্বীতিয়ঃ যে ব্যাবসায়ী অপরের ধন আত্মসাৎ করে॥
তৃতীয়ঃ যে ধনী কৃপণ॥
যখন দরবেশ মিথ্যা বলবে, ধনী কৃপণতা করবে, এবং ব্যাবসায়ী অপরের আমানত আত্মসাৎ করবে তখন আল্লাহতালা জমিন হতে বরকত তুলে নেন॥
এই পর্যন্ত বলা শেষ করে হুজুর মশগুল হলেন। এবং আমি
নিজর আবাসে ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
=================================================================
ষষ্ঠবিংশ মজলিস
সালোয়ার (পাজামা) পিরহণ (জামা) ও আস্তিন এর ব্যাবহার সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন। বললেন, হযরত আমিরুল মুমেনীন আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হতে বর্ণীত আছে যে, পাজামার পা লন্বা করা মুনাফেকের নমুনা।
পাজামার পা যদি কোন ব্যাক্তি পায়ের পাতা পর্যন্ত বড় করে তাহলে বুঝবে যে সে মুনাফেক এবং তার জায়গা হবে দোজখে॥ এরপর এরশাদ করলেন, কোন ব্যাক্তি পাজামার পা যদি পায়র শেষ প্রান্ত পর্যন্ত
বৃদ্ধি করে তাহলে চলার সময় সে অভিশাপ লাভ করে॥ ফেরেস্তাগন আসমান জমিন হতে অভিসম্পাত করে। তার শরীরের লোমের সংখ্যা পরিমাণ দোজখে শাস্তির ঘড় তৈরী করবে।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আবু হোরায়রা (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি লন্বা পাজামা পরিধান করে সে মুনাফেক এবং যার জামার অস্তিন বড় সে মল'উন (অভিশপ্ত) ॥
এরপর এরশাদ করলেন, দুটো দল সবসময় আল্লাহতালার না'নতের (অভিশাপের) শিকার হয়॥
প্রথমতঃ যারা লম্বা পাজামা পরিধান করে ।
দ্বিতীয়তঃ যারা জামার আস্তিন বড় রাখে ।
যে ব্যাক্তি এ দুটো কর্ম করে সে দোজখে নিজের জন্য ঘর তৈরী করে। এরপরএরশাদ করলেন, লম্বা পাজামা পরিধান করা জামার আস্তিন বড় রাখা মেয়েদের জন্য জায়েজ (অনুমদিত) আছে॥ এসব বক্তব্য পেশ করার পর হুজুর মশগুল হলেন। আমি নিজের ঘরে প্রত্যাবর্তন করলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ।
সপ্তবিংশ মজলিস
হুজুর এরশাদ করলেন, আখেরী (শেষ) জামানার (কালের) আলেম ও আমির সমন্ধে হযরত রসুলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন যে, শেষ জামানার দলপতি (আমীর) গণ স্বেচ্ছাচারী হবে এবং আলেমগন
দূনিয়াকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে এবং ফেতনা (বিশৃংখলা)
সৃষ্টি করবে সুতারাং সে সময় জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুই উত্তম হবে। কেননা মুমেনগণ তখন বিলাসে নির্মজ্জিত হবে অর্থাৎ আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকবে ।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন আমির হবে যথেচ্ছাচারী এবং আলেম হবে দুনিয়ার বন্ধু , তখন আল্লাহতালা দুনিয়ার বুক থেকে বরকত তুলে নিবেন॥ রোগ, ব্যাধি, ও অন্যায় মানুষকে গ্রাস করবে। শহর বিরান (বিজন) হবে এবং পৃথিবীর বুকে ঝগড়া বিবাদ ছড়িয়ে পরবে।
এরপর এরশাদ করলেন, আখেরী যামানার অধিকাংশ আলেম মদ্যপায়ী সমকামী হবে। সুতারাং অবশ্যই জানবে যে তারা দোজখের কাষ্ঠখন্ড॥ এরপর সদকা সমন্ধে বললেন যে সদকা (দান) দরবেশদেরকে দেয়া দরকার।
যে ব্যাক্তি নিজের দরবেশীকে ঢেকে রাখা সে ১০গুণ সওয়াব বেশী লাভ করে। দরবেশদের সদকা নিজের আত্মীয়স্বজনকে দেয়া উচিত কারণ এতে বহু সওয়াব রয়েছে এবং একাজের জন্য তার সমস্ত গোনাহ মাফ হয়ে যাবে যাবে। আত্মীয়স্বজনেরু পরে সদকার হকদার হচ্ছে আলেমগন, এদের ১ টাকা দান করলে ৬০০০ টাকার সওয়াব লাভ করা যায় । এরপর সদকার হকদার হচ্ছে , পূন্যাত্মা ও ভালো লোকদের ॥ যে ব্যক্তি উক্ত নিয়মে সদকা প্রদান করে আল্লাহতালা তাকে ক্ষমা করে দেন। এবং বেহেস্তে উৎকৃষ্ট অট্রলিকা দান করেন।
জ্ঞানগর্ভ আলোচনার পর হুজুর মশগুল হলেন। এবং আমি বিদায় নিলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
অষ্টবিংশ মজলিস
তওবা ও আলেমদের সমন্ধে আলোচনায় বললেন, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে মৃত্যুর পূর্বে তওবা কর। মৃত্যুর পর অনুনয় বিনয়ে কোন কাজ হবে না। এরপর এরশাদ করলেন, আল্লাহতালা কোরান মজিদ ও ফোরকানে হামিদের মধ্যে বলেছে, ইয়্যা আয়্যুহাল্লাজিনা আমানু তুবু ইলাল্লহ তাওবাতু নসুহা । অর্থাৎ হে ঈমানদার, আল্লাহর নিকট তওবা কর , তওবাতুন নসুহা, অর্থাৎ সেই রকম তওবা যে রকম তওবার হক বা দাবী রয়েছে এবং তা করবে তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পূর্বে।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আদম (আঃ) যখন বেহস্ত হতে দুনিয়ায় নিক্ষিপ্ত হলেন, তখন তিনি দোয়া করলেন,"হে করুনাময়
তুমি ইবলিশকে তুমি আমার ওপর বিজয়ী করেছো, আমার কোন ক্ষমতা নেই , যে আমি নিজে তাকে পরাস্ত করতে পারি, কিন্তু তুমি যদি ক্ষমতা
দাও তাহলে কোন অসুবিধা হবেনা।
ঐশী আওয়াজ ভেসে এলো, হে" আদম, যখন তোমার আওলাদ (সন্তান সন্ততি) হবে, তখন আমার দয়া তাদের
সঙ্গে থাকবে, তারা সর্তক থাকলে তাদের ওপর ইবলিশের আক্রমণ
কার্যকরী হবেনা।
হযরত আদম (আঃ) দ্বীতিয়বার আবেদন করলেন, "হে এলাহী তোমার দয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি কর। পূনরায় আওয়াজ এলো, আমি তাদের জন্য তওবা ফরজ করলাম। সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্বমূহুর্তে তওবা করলেও আমি গ্রহণ করবো। এরপর এরশাদ করলেন,
"আহ্ লে সলুক; মুসলমান হওয়ার জন্য তওবা করা ফরজ মনে করে। প্রত্যেকের উচিত মৃত্যুর পূর্বেই তওবা করা। তার পর বললেন, আল্লাহতালা পশ্চিমে তওবা নামক একটা দরজা তৈরী করেছেন, তার বিস্তৃতি ৭০ বছরের পথ উচ্চতা ৪০ বছরের পথ। মানব সৃষ্টির পর
হতে আজ পর্যন্ত সেটা খোলা আছে, এবং যতদিন পর্যন্ত সূর্য্য পশ্চিম দিক হতে উদয় না হবে ততদিন পর্যন্ত খোলাই থাকবে॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে সমস্ত আলোচনা বা বক্তব্য পেশ করা হলো মনে করবে এগুলি তোমার পূর্ণ-পরিপূর্ণতার বা পরিপূর্ণ - কামিলিয়াতের জন্য।
তোমার উচিত আমি যা কিছু বললাম সেগুলো পালন করব,
যাতে কিয়ামতেরদিন লজ্জিত না হও। এরপর এরশাদ করলেন,
সেই মুরিদই পীরের প্রকৃত উত্তরাধীকারী যে তার পীরের নিকট
হতে যা শুনে তা স্মরণ রাখে এবং মন প্রাণ দিয়ে তা মেনে চলে। তার বক্তব্য শেষ করে তিনি পবিত্র মুছল্লা (জায়নামাজ)
খিরকা (লম্বা দরবেশী জামা) আছা (লাঠী) মোবারক আমাকে দান করলেন। এবং নির্দেশ দিলেন, এ আমানত (গচ্ছিত মাল)
খাজেগানে চিশতী রাদিআল্লাহু আনহু হতে আমার নিকট পৌছেছিলো। আমি তোমার নিকট পৌছালাম এবং গচ্ছিত রাখলাম ॥ এখন তোমার উচিত, তোমার পরে যাকে তোমার উপযুক্ত মনে করবা তাকে দান করে জিম্মাদার করবে।
তার কথা শেষ হলে এ গোলাম মাথা কদমে রাখলো। তিনি আমাকে স্নেহের পরশে উত্তোলন করে আলিঙ্গন করলেন।
আমি বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
===================================================================================
উপরোক্ত মজলিস গুলো হযরতে খাজা শায়খ মঈনুদ্দীন হাসান সন্জরী ছুম্মা আজমেরী (রহঃ) এর স্বহস্তে লিখা আনিসুল আরওয়াহ (রূহের বন্ধু) হতে সংগ্রহ করা,
আমরা যারা ত্বরিকত পন্থী , বিশেষ করে চিশতীয়া তরিকার তাদের জন্য আনিসুল আরওয়াহ অতীব প্রয়োজনীয় একটি
গ্রন্থ ॥ আমি আনিসুল আরওয়াহ পড়তে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি । সত্যিই আনিসুল আরওয়াহ রূহের বন্ধু ।
বিঃ দ্রঃ এরপর দলিলুল আরেফিন,
রাতে ২০ রাকাত নামাজ প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সুরা ইখলাস মিলিয়ে পাঠ করবেন আল্লাহতায়লা তাকে হাশরের দিন সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে উত্তোলন করবে এবং প্রতি রাকাতের জন্য বেহেস্তে একটি করে মহল দান করবেন। এছাড়াও পূলসেরাত পার হওয়ার জন্য মশাল দান করবেন। এরপর
এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি রাতে উটের এক নিঃশ্বাস পরিমাণ সময় পর্যন্ত এবাদত করে সে ৬০ টি ওমরা হজ্বের সওয়াব পাবে। রহমতের দরজা তার ওপর প্রসস্ত করা হয়।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন আ মি খানা কাবাতে ছিলাম তখন
একজন বুজুর্গের সাথে দেখা হয়েছিল , যিনি ঐশী আলোকে আলোকিত ছিলেন। প্রতি রাতে ফজরের পূর্বে দূবার করে কোরানশরীফ খতম করতেন।
এরপর এরশাদ করলেন, সমরকন্দে আবদুল ওয়াহেদ সমরকান্দী নামে এক বুজুর্গের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল তিনি অতি উচ্চ পর্যায়ের বুজুর্গ ছিলেন।
তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি রাতে বন্দেগী করেনা তার ঈমানই নষ্ট হয়ে যায় এবং যে ব্যাক্তি দিনে রোজা রাখেনা তার অবস্থা
প্রথম ব্যাক্তির অনুরূপ ।
দিনে রোজা রাখা এবং রাতে বন্দেগী করা ঈমানের পরিপূর্ণতার পথে ফলোদয়ের কারণ ঘটায়।
এরপর এরশাদ করলেন, কিয়ামে শব ( রাতে দাড়িয়ে থাকা ) এক প্রকার নূর । দূনিয়ায় সে নূর লাভ করতে পারলে আখেরাতের ঠিকানা নির্ধারণ করা যায়॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি রাতে জাগ্রত থেকে বন্দেগী করে, সে ব্যাক্তি মুস্ তাজাবুদ্দাওয়াৎ (যার দোয়া কবুল হয়) হয় এবং বেহেস্ত তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আশা পোষণ করে। আল্লাহ তায়লা তারপ্রতি সন্তুুষ্ঠ ও রাজি থাকে
এরপর এরশাদ করলেন, ভ্রমণের পথে বোখারায় আরও একজনের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার বুজুর্গী ও মর্যাদা বর্ণনাতীত ।
বেশ কিছু দিন তার সোহবতে ছিলাম , কোন রাতও তিনি কিয়াম ( দাড়িয়ে ইবাদত করা) হতে বিরত থাকতেন না।
তিনি সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত এমন ভাবে দাড়িয়ে ইবাদত করেছেন যার ফলে মাটি তার হাতের স্পর্শ পর্যন্ত পায়নি॥
হযরত এ অমিয়বানী পেশ করার পর মশগুল হলেন।
আমি আমার গৃহে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ॥
________________________________________________________________________________________________________________________
চতুর্দশ মসজলিস
_____________________________________________
সুরা ফাতেহা ও সুরা এখলাস সমন্ধে কথা করলেন, হুজুর এরশাদ
করলেন, হযরত খাজা শায়খ ইউসুফ চিশতী কুদ্দেসা সিররুহুল আজিজ তার রচনায় বর্ণনা করেছেন, হযরত রসূললে মকবুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি শয়ন করার সময় সুরা ফাতেহা
ও সুরা এখলাস তিনবার করে পাঠ করে, হাশরের দিন আল্লাহ তায়লা তাকে আমার উম্মতের মর্যাদা দান করে উত্তোলন করবেন॥ পয়গম্ভরদের পরে সেই ব্যাক্তি বেহেস্তে প্রবেশ করবে, এবং তার আগে আর কেউ যেতে পারবে না ॥
তাছাড়াও বেহেস্তে সে ঈসা (আঃ) এর প্রতিবেশী হিসাবে স্থান পাবে। এরপর এরশাদ করলেন, খাজা আবু মহম্মদ মিরাশ (রহঃ)
এর মূখে শুনেছি তিনি বলতেন, যে ব্যাক্তি তিনবার করে সুরা
এখলাস ও ফাতেহা পরবে তার সমস্ত গুণাহ এমন ভাবে দূর হয় যেন সদ্যজাত ভূমিষ্ট শিশু।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত জুনুন মিশরী(রহঃ) লিখেছেন, হযরত ইবনে ওমর (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি শোবার সময় সুরা কাফেরুণ পাঠ করে, হাজারো ফেরেস্তা তার বেহেস্তি হওয়ার সংবাদ প্রদান করেন।
এরপর এরশাদ করলেন, এক সময় আমি আমার পীড় ও মুর্শেদের
সাথে বদখ্ শানের পথে চলছিলাম। একজন বুজুর্গের সাথে দেখা হলো, যিনি অত্যন্ত বিলয়প্রাপ্ত ছিলেন।
আমি তার মূখে শুনেছি যে ব্যাক্তি সূর্য উঠার পর ২ বা ৪ রাকাত নামাজ পড়ে সে ওমরা হজ্বের সওয়াব লাভ করে। আরও বলেন,
রসূলে মকবুল (সাঃ) হতে বর্ণিত আছে , যে ব্যাক্তি সূর্য উদয়ের পর ২ অথব ৪ রাকাত নামাজ পাঠ করে তার মর্যাদা পৃথিবীর সমস্ত রত্নভান্ডার বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে কমনয়।
এখানেই হুজুর তার কথা শেষ করে আল্লাহতে মশগুল হলেন।
আমি আমার কুটিরে ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
* পঞ্চদশ মজলিস॥
_________________________________________
আহলে জান্নাত (বেহস্তবাসী) দের প্রশংসা সমন্ধে জ্ঞাগর্ভ আলোচনা করলেন। তিনি এরশাদ করলেন, যে তফছীরে
ইমাম শাফী - তে বর্ণিত আছে যে, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এর নিকট আবেদন করা
হয়েছিল , আপনি আমাদেরকে বেহেস্ত বাসীদের খাওয়া পরা সমন্ধে কিছু জ্ঞান দান করুন। হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করলেন, কসম সেই জুল্ জালালে ওয়াল ইকরাম (শপথ সেই মহামহিম ও মহানুভব ) এর যিনি আমায় রসূল বানিয়েছেন, বেহেস্তে মানুষ ১০০ বার করে প্রতিদিন আহার করবে এবং ১০০ বার স্বীয় পরিবারের সঙ্গলাভ করবে।
মজলিস হতে একজন বিনয়াবনত হয়ে বললেন, ইয়া" রাসূলাল্লাহু " এ ধরনের খাওয়া দাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী কাজায়ে হাজত (মলমূত্র ত্যাগ করা) এর প্রয়োজন দেখা দেবে কি ? হুজুর বললেন, এধরনের কোন অবস্থার ।সৃষ্টি হবেনা বরং খাওয়ার পর পেট হতে বায়ু নির্গত হয়ে পেট খালি হয়ে যাবে, যার সুগন্ধ মৃগনাভীর (মুশক) সুগন্ধকেও হার মানাবে। এরপর এরশাদ করলেন, বেহেস্তবাসীগন সব সময় ধরে জীবিত থাকবে কখনও মরবে না, চীরযৌবন লাভ করবে, কখনও বৃদ্ধ হবেনা, চীরকাল প্রফুল্ল থাকবে, কখনও দূঃখিতও হবেনা, নিত্য নতুন নেয়ামত লাভ করবে । যে ব্যাক্তি এ পুরস্কার লাভ করতে চায় তার উচিৎ জুম্মার দিন জুম্মার নামাজের পর ১০০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা। তা হলেই সে অনুদান লাভ করতে পারবে। আর যে ব্যাক্তি প্রতি জুম্মাতেই এই আমল করবে তার সৌভাগ্য বর্ণনাতীত। এরপর এরশাদ করলেন, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, লোক নিজের পিতা মাতাকে দেখতে পাবে কি পাবে না, তিনি জানালেন, দেখতে পাবে বং সাক্ষাৎ ও করতে পারবে। পরে নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, জান্নাতু আদনিয়্যাদখুলুনাহা ওয়া মান ছালাছা মিন আবা- য়েহিম ওয়া আজওয়াজিহিম ওয়া জুররিয়াতেহিম ওয়াল মালায়েকাতু ইয়া খুলুনা আলাইহিম কুল্লে বাব। অর্থাৎ থাকার বাগান আছে সেখানে প্রবেশ করবে পূর্ণবান লোক , মাতা পিতা, সন্তান ও স্ত্রী গণ ॥ আর ফেরেস্তা প্রতি দরজা দিয়ে তাদের নিকট আসবে । এরপর এরশাদ করলেন, একজন অপর জনের সাথে দেখা করতে চাইলে ঘোড়ার মত এক প্রকার বাহনে চেপে তাদের মহলে যেতে পারবে।
হযরত খাজা এই পর্যন্ত বলে বিলয়প্রাপ্ত হলেন। আমিও প্রত্যাবর্তন করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
ষোড়শ মজলিস
______________________________________________ _________________________________________________
কথা বললেন মসজিদ সমন্ধে। হুজুর এরশাদ করলেন, যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন প্রথমে ডান পা ও পরে বাম পা প্রবেশ করাবে এবং নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে, বিসমিল্লাহে ওয়া তাওয়াক্কালতু আলাল্ লাহে ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহে আউজুবিল্লাহে মিনাশ্ শায়তোয়ানির রাজিম।
এ দোয়া হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) হযরত আলী (কঃ) কে শিখিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করার সময় এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহ তায়লা তার নামাজ কবুল করেন এবং তা র প্রতি রাকাত নামাজের জন্য ৭০ রাকাত নামাজের সওয়াব প্রদান করেন এবং তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য বেহেস্তে প্রাসাদ দান করবেন। এরপর এরশাদ করলেন, যদি কোন ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করার সময় আউজুবিল্লাহে মিনাশ্ শায়তোয়ানের রাজিম পাঠ করে তখন ইবলিশ দুঃখ করে বলে যে, এ লোক আমার পিঠ ভেঙ্গে দিয়েছে। ঐ দোয়া পাঠকারীর আমলনামায় ১ বছর এবাদতের সওয়াব প্রদান করা হয়। বাহির্গমনের সময়ও যদি উক্ত দোয়া পাঠ করে তাহলে বেহেস্তে তার জন্য ১০০ টি দরজা তৈরি করা হবে এবং শরীরের লোমের পরিমাণ সংখ্যক সওয়াব লাভ করবে॥এরপর এরশাদ করলেন, হযরত ইমাম জিন্দোসী (রহঃ) স্বীয় পুস্তকে বর্ণনা করেছেন, মুমেন যখন মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা প্রথমে প্রবেশ করায় তখন ফেরেস্তাগন বলতে থাকে যে, হে আল্লাহ্ একে বেহেস্তে স্থান দাও। বেড়োবার সময় যখন সে বাম পা প্রথমে বেড় করে তখন ফেরেস্তাগন বলতে থাকে যে, হে এলাহী এর সমস্ত গোনাহ্ মাফ করে দাও।
এ পর্যন্ত বলেই তিনি আল্লাহতে বিভোর হলেন। আমি আমার নিজ জায়গায় ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ আলা জালেক॥
________________________________________________
সপ্তদশ মজলিস
____________________________________
হুজুর এবার কথা বললেন দূনিয়া ও দূনিয়ার সম্পত্তি সঞ্চয় করা সমন্ধে। এরশাদ করলেন, প্রথমে জানা উচিৎ দুনিয়া কি জিনিস এবং এর মাল সঞ্চয় করার অর্থ কি ?
দূনিয়ার প্রতি কোন ক্রমেই কোন পূর্ণ্যাত্মা অথবা প্রেমিকের উচিৎ নয় আসক্ত হওয়া বরং তার উচিৎ যা কিছু তার কাছে আছে তা যেন সে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়।
কোন অবস্থাতেই কোন বস্তুর মোহে আবিষ্ট হওয়া উচিৎ নয়। এরপর বললেন, হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী (রহঃ) এর মূখে শুনেছি তিনি বলেছেন, মালের কৃজ্ঞতা (শুকুর) প্রকাশ করা হয় দূনিয়া ত্যাগের মাধ্যমে এবং ইসলামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে ॥ যে ব্যাক্তি সর্বাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে সে ইসলামের প্রাপ্য প্রদান করে এবং যে ব্যাক্তি যাকাত দেয় সে মালের (শুকুরানা) কৃতজ্ঞতা আদায় করে।
পরে বললেন বালকদের খারাপ অভ্যাস সমন্ধে। এরশাদ করলেন, কান্নার সময় বাচ্চাদের মারতে নেই। কারণ ঐ সময় শয়তান তার কান মলে, ভয় দেখায় এবং কষ্ট দেয়। এ অবস্থায় তার পিতা মাতা অথবা অন্য যে কোন ব্যাক্তি তাকে তার জন্য তাকে গোনাগার হতে হবে। এরপর এরশাদ করলেন, হাদিস শরীফে উল্যেখ আছে যে, যখন বাচ্চা কাঁদে তখন বাচ্চাকে মারা অন্যায় বরং তার কানে লা হাওলা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়েল আজীম শুনাও, কেননা এতে তার কান্না থেমে যাবে। এবং শয়তান পালিয়ে যাবে। তিনি এ সমস্ত বর্ণনা করে তিনি বিলয়প্রাপ্ত হলেন, আমিও বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
অষ্টাদশ মজলিস
হযরত হাঁচি সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন। বললেন, যখন কোন মুমেন বান্দা হাঁচি দিয়ে, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে তখন আল্লাহ তায়লা তার সমস্ত গোনাহ্ মাফ করে দেন, এবং ঐ বান্দার জন্য বেহেস্তে একটা প্রাসাদ তৈরি করেন, যার মধ্যে একটা গাছ থাকবে এবং সে গাছের ওপর সুমধুর কন্ঠের অধিকারী একটা পাখী বসে থাকবে। একজন কৃতদাস মুক্ত করার সওয়াবও এরসঙ্গে তার আমলনামায় লেখা হবে।
এরপর সে যদি দ্বীতিয় হাঁচি দিয়েও আলহামদলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে তাহলে খোদাতায়লা তার পিতামাতার সমস্ত গোনাহ ও ক্ষমাকরে দেন। যদি সে তৃতীয়বার হাঁচি দেয় তাহলে ভাববে এটা সর্দির প্রতিক্রিয়া। মুসলমানদের জেনে রাখা উচিৎ যে, হাঁচির জবাবে ইয়াহামুকাল্লাহ বললে গোনাহের প্রায়শ্চিত ( কাফ্ ফারা) করা হয় এবং আত্মিক উন্নতিও ঘটে।
যে ব্যাক্তি হাঁচির জবাব দিবে রোজ হাশরে সে নবী (আঃ) দের প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে এবং বেহেস্তে হাজার হুর লাভ করবে।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তির প্রথম হাঁচি আসে, সে হচ্ছেন হযরত আদম (আঃ) এবং যে ব্যাক্তি প্রথম হাঁচির জবাব দেন তিনি হচ্ছেন হযরত জিব্রাইল (আঃ) হযরত আদম (আঃ) যখন আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বললেন, তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন। এরপর এরশাদ করলেন, আতিয়া নামে একটা পর্দা দোজখের মাঝে আগুনকে আড়াল করে রেখেছে ॥ যখন কোন ব্যাক্তি হাঁচি দেয় তখন সে ঐ পর্দার নিকটবর্তী হয়, এবং যখন হাঁচির শুকর আদায় করে তখন সে ঐ পর্দা হতে বহুদুরে সরে আসে।
এ অমিয়বানী বলা শেষকরে হুজুর আল্লাহতে বিলীন হলেন এবং আমি আমার কুটিরে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
______________________________________________________
উনবিংশ মজলিস
_________________________________________
আযান সমন্ধে হুজুর তার অমিয়বানী পেশ করলেন, বললেন হযরত আমিরুল মুমেনীন আলী (কঃ) এরশাদ করেছেন, যে, আমি হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) হতে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে জেনেছি তিনি বলেছেন, "হে আলী যে ব্যাক্তি আযান দেয় তার সওয়াব সমন্ধে আল্লাহতায়লাই ভালো অবগত আছেন।
আযানের অর্থ এই যে, যখন মোয়াজ্জেন আল্লাহু আকবর বলে, তার অর্থ হলো আল্লাহতায়লা অত্যন্ত মহান ॥ উদ্দেশ্যে হলো, আমি তার সাক্ষ্য দিয়ে দুনিয়ার কর্ম হতে বিমুক্ত হয়ে তোমার নামাজের জন্য উপস্থিত হয়েছে। আশহাদু আল লা ই লাহা ইল্লাল্লাহু এর উদ্দেশ্য হচ্ছে " হে উম্মতে মুহম্মদ ( সাঃ), জেনে রাখ আমি ফেরেস্তাদেরকে সাক্ষী মনোনিত করছি এবং তোমাদেরকে খবর দিচ্ছি নামাজের সময়ে নামাজ হতে
উত্তমতর কিছুই নেই।
যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলাল্লাহ্ বলে তখন উপলব্ধ করতে হবে যে, হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রসূল এবং প্রেরিত হয়েছেন সত্যকে সঙ্গে নিয়ে ॥
যখন হাইয়্যা আলাস্ সালাহ বলে, তার অর্থ হলো, হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ), তোমাদের ওপর আমি প্রচার করে দিয়েছি, এখন তোমাদের উচিত আল্লাহতায়লা ও তার রসূলের অনুগত হওয়া।
কেননা, নামাজের প্রতিদানে আল্লাহতায়লা তোমাদের গোনাহ মাফ করে নদেন, কারণ নামাজ ধর্মের স্তম্ভ।
এরপর হাইয়্যা আলাল ফালাহ , যার অর্থ হে উম্মতে মুহম্মদ (সাঃ), বেহেস্তের দরজা খুলে দেয়া হয়েছে উঠ এবং নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করো এবং এ উত্তম বস্তুু কিছুই নেই।
যে ব্যাক্তি নামাজ আদায় না করে সে দুর্ভাগাদের অন্তগর্ত হয়॥
যখন লা ই লাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে তখন বুঝবে যে, সাত আসমান জমিনের আমানত তোমার (মুয়াজ্জেম) গর্দানের ওপর বোঝা স্বরুপ ; যদি এ আযান কবুল হয় তাহলে মুক্তি পেলে॥
নামাজ পাঠ করলে গোনাহের কাফ্ ফারা এবং আল্লা ও তার রসূলের আনূগত্য স্বীকার করা হয়॥
যার আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য মন্জুর হয়েছে সে মসজিদে যেয়ে নামাজ আদায় করে॥ পরকালে সিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে একসাথে থাকার অধিকার লাভ করে এবং বেহেস্তে হযরত দাউদ (আঃ) এর প্রতিবেশী হওয়ার যোগ্য হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, মুয়াজ্জিনের আযানের জবাব দয়া কিয়ামতের দিন মুক্তির সনদস্বরূপ ॥
যে ব্যাক্তি জামাতে নামাজ পাঠ করে তার প্রতি রাকাতের জন্য সে ৩০০ রাকাত নামাজের সওয়াব পাবে এবং উত্তম বেহেস্তে সংখ্যাতিত মহল লাভ করবে॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
_____________________________________________________
বিংশ মজলিস
মুমেনদের হকিকত (যথার্থতা) সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন, বললেন, মুমেন তাকে বলা চলে যে তিনটি জিনিস কে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করে (১) দরবেশী (২) অসুস্থতা (৩) মৃত্যু॥ যে ব্যাক্তি
এ তিনটি জিনিসকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে ফেরেস্তাগণও তাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহন করবে॥
আল্লাহতায়লা স্বীয় করুনা দ্বাড়া তাকে আপ্লুত করবে এবং
তার বাসস্থান হবে উত্তম বেহেস্ত্॥ এরপর এরশাদ করলেন, আল্লাহতায়লা মুমেনদেরকে বন্ধুত্ব দান করেন। এবং মুমেনগণও আল্লহকে বন্ধু মনে করেন॥ এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আনিস বিন মালিক (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে. যে ব্যাক্তির নিকট ৬০ হাজার পরিমাণ দেহরাম আছে, সে ধনিদের মধ্যে গণ্য হয় এবং যার কাছে এর চেয়ে কম আছে সে মুফলেসীন (গরীব) ॥ যে ব্যাক্তির নিকট
কিছুই নেই তার উচিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ॥ কারণ সে আয়ুব (আঃ) এর উত্তরাধিকারিগণের মধ্যে গণ্য হয়॥
এরপর এরশাদ করলেন, আমি হযরত খাজা মওদুদ চিশতী (রহঃ) এর মুখে শুনেছি, তিনি বলেছেন, হাশরের দিন আল্লাহতায়লা তিনটি দলকে রহমতের নজরে দেখবেন এবং তারা আরশের নিচে ছায়ায় থাকবে॥ প্রথম দলঃ যাদের চোখ সবসময় অশ্রুতে ভেজা থাকে॥
দ্বীতিয় দলঃ ঐসব স্ত্রীলোক যাদের প্রতি তাদের স্বামীরা পরিতৃপ্ত॥
তৃতীয় দলঃ ঐ সব লোক যারা দরবেশ ও মিসকিনদেরকে আহার করায়॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি প্রতিবেশীকে খুশী রাখবে সে ব্যাক্তি বেহেস্তে হযরত রসূলে মকবুল (সাঃ) এর প্রতিবেশী হবে এবং যে ব্যাক্তি প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেবে সে অভিশপ্ত (মালউন) । যে ব্যাক্তি
নবী করীম (সাঃ) এর আহলে বয়াত (পরিবার বর্গ) কে বন্ধু মনে করে না সে মুনাফিক (প্রবঞ্চক) ॥ এরপর এরশাদ করলেন, আমলের মধ্যে উৎকৃষ্ট হচ্ছে নামাজ, তারপর সদকা (দান) , তারপর কোরান শরীফ পাঠ করা॥
হযরত খাজা বর্ণনা শেষ করে মশগুল হলেন॥ আমিও স্থানে চলে এলাম॥
দআলহামদুল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
একবিংশ মজলিস
অভাব পূরণের ব্যাপারে বক্তব্য পেশ করলেন॥ বললেন, যে ব্যাক্তি অভাব গ্রস্থ্যদের অভাব পূরণ করে আল্লাহতায়লা তাকে বন্ধুত্ব ও বেহেস্ত দান করেন॥
যে ব্যাক্তি মুসলমানদেরকে সম্মান দেয় তার গোনাহ মাফ হয় যায়॥
যে ব্যাক্তি পথের কাটা এই নিয়তে পরিস্কার যে , কোন মুসলমানের পায়ে বিধলে কষ্ট পাবে, আল্লাহতায়লা হাসরের দিন তাকে সিদ্দিকীন ও শহীদগনের সঙ্গে
উত্তলোন করবেন ॥ এরপর এরশাদ করলেন, আমাদের
শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ হতে বর্ণীত আছে যদি কেহ ওজিফাতে মশগুল থাকে এবং তখন কোন অভাব গ্রস্থ্য লোক তার কাছে আসে তাহলে তার উচিত ওজিফা ছেড়ে দিয়ে তার প্রতি মনোযোগ দেয়া এবং নিজের সামর্থ্যনুযায়ী তার অভাব পূরণকরার চেষ্টা করা॥
আল্লাহ তায়লা তাকে এর প্রতিদিনে আশাতীত ফল দান করবেন॥
এখানে পৌছেই নিশ্চুপ হলেন। আমি আমার কুটির ফিরে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
_________________________________________________________
দ্বাবিংশ মজলিস
আখেরী জামানা বা শেষ । জামানার অবস্থা সমন্ধে বলতে যেয়ে বললেন,
হযরত রসূললে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আখেরী জামানায় লোক আমার দলভুক্ত আলেমদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে; যেভাবে চোর ডাকাতদেরকে মারা হয়॥
ঐ সময় আলেমদেরকে মুনাফেক এবং মুনাফেকদের আলেম মনে করবে। সে সময়ের জীবন মৃত্যু র চেয়ে নিকৃষ্টতর হবে॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে(জন্যে) জ্ঞান অর্জন করবে সে দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় জগতে উচ্চমর্যাদা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে। এরপর এরশাদ করলেন, জ্ঞান বিস্তারের জন্য শিক্ষার পথে শিক্ষার্থীকে এক টাকা দানকরা হাজার বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম ॥ সে হাজার বছর ইবাদতের সওয়াব পাবে। যে ব্যাক্তি জ্ঞান অর্জনের পথে এক পা অগ্রসর হয় আল্লাহতায়লা তার জন্য বেহেস্তে ১০০ টি ঘড় দান করেন এবং ১০০ টি হুরও অনুদান পাবে॥ এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি ধর্মীয় পুস্তক প্রণয়ন করে, আল্লাহতায়লা হুকুম দেন তার নাম আমার জুব্বার নীচে অবস্থিত আউলিয়াদের দপ্তরে (খাতায়) লিখে নাও। ফেরেস্তা তখন তার নাম
আউলিয়াদের দপ্তরে লিখে নেয়॥॥
হযরত এ অমীয়বানী বর্ণনা করার পর আল্লাহতে বিলীন হলেন। আমি চলে এলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
____________________________________________________________
ত্রয়োবিংশ মজলিস
মৃত্যু- চিন্তা করার বিষয়ে জ্ঞান দান করলেন।
বললেন হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন মৃত্যুকে স্মরণ করা দিবা-রাত্রি বন্দেগীর চেয়ে উত্তম । এরপর বললেন যে ব্যাক্তি মৃত্যুকে সবসময় স্মরণ করে সে তার কবরকে বেহেস্তের বাগানের মতো একটা বাগান হিসাবে পাবে ॥উত্তম কাজ হচ্ছে সবসময় মৃত্যু চিন্তা করা ও আম্বিয়া আলাইস্ সালামের প্রতি দরুদ পাঠ করা । যে ব্যাক্তি এরুপ আমল করে আল্লাহ তালা তার গোনাহ মাফ করে দেন, যদি সে গোনাহ বনের বৃক্ষ হতেও অধিক হয় এবং তার জন্য দোজখ হারাম করে দেন। আল্লাহতায়লা বেহেস্তে নবীদের সম্মুখে তার ঘর করে দেবেন॥
বক্তব্য এখানে শেষ করে হুজুর মশগুল হলেন। আমি এজাজত (অনুমতি ) নিয়ে চলে এলাম॥
আলহাদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
__________________________________________________________________________________________________________
চতুর্বিংশ মজলিস
________________________________________
মসজিদে আলোদান (চেরাগ) সমন্ধে বলতে যেয়ে বললেন, আমিরুল মো মেনীন হযরত আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হতে রওয়ায়েত (বর্ণনা) আছে, যে ব্যাক্তি এক রাত্রির জন্য মসজিদে বাতি প্রদান করে আল্লহতালা তার ৭০ বছরের গোনাহ মাফ করে দেন, এবং তার আমল নামায় ৭০ বছরের নেকী লেখা হয়। এছাড়াও বেহেস্তে তাকে একটা প্রসাদ দেয়া হবে।
এরপর এরশাদ করলেন, যে ব্যাক্তি মসজিদে বাতি দেয়া
অব্যাহত রাখে আল্লাহতালা তার দেহকে দোজখের আগুনের জন্য হারাম করে দেন এবং বেহেস্ত তার জন্য উম্মুক্ত হয়॥ সে তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন পথ দিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে এবং যে পর্যন্ত সে নিজের জায়গা বেহেস্তে অবলোকন না করবে সে পর্যন্ত মৃত্যু তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
এছাড়াও বেহেস্তে তাকে নবী (আঃ) দের বন্ধু বলে সম্মোধন করা হবে॥ হুজুর এখানেই শেষ করে আল্লাহ নিমগ্ন হলেন। আমি নিজের ঘরে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
___________________________________________________________
পঞ্চবিংশ মজলিস
________________________________________________________________________________________
দরবেশদের সমন্ধে আলোচনায় বললেন, যে ব্যাক্তি
দরবেশদেরকে মেহমান রাখেন তার জন্য বেহেস্তের একটি দ্বার উম্মুক্ত
হয় এবং আখেরাতে সে ধনী হয়। যে ব্যাক্তি এ পথে টাকা পয়সা খরচ করে , অর্থাৎ দরবেশদের ভরণপোষণ করে এবং ঐ দানকে গোপন রাখে তার সমস্ত গোনহ মাফ করে দেয়া হয়। এরপর এরশাদ করলেন, তিনটি দল বেহেস্তের সুগন্ধও ভোগ করতে পারবে না॥ প্রথমঃ যে দরবেশ মিথ্যা কথা বলে।
দ্বীতিয়ঃ যে ব্যাবসায়ী অপরের ধন আত্মসাৎ করে॥
তৃতীয়ঃ যে ধনী কৃপণ॥
যখন দরবেশ মিথ্যা বলবে, ধনী কৃপণতা করবে, এবং ব্যাবসায়ী অপরের আমানত আত্মসাৎ করবে তখন আল্লাহতালা জমিন হতে বরকত তুলে নেন॥
এই পর্যন্ত বলা শেষ করে হুজুর মশগুল হলেন। এবং আমি
নিজর আবাসে ফিরে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
=================================================================
ষষ্ঠবিংশ মজলিস
সালোয়ার (পাজামা) পিরহণ (জামা) ও আস্তিন এর ব্যাবহার সমন্ধে বক্তব্য পেশ করলেন। বললেন, হযরত আমিরুল মুমেনীন আলী করমুল্লাহ ওয়াজহু হতে বর্ণীত আছে যে, পাজামার পা লন্বা করা মুনাফেকের নমুনা।
পাজামার পা যদি কোন ব্যাক্তি পায়ের পাতা পর্যন্ত বড় করে তাহলে বুঝবে যে সে মুনাফেক এবং তার জায়গা হবে দোজখে॥ এরপর এরশাদ করলেন, কোন ব্যাক্তি পাজামার পা যদি পায়র শেষ প্রান্ত পর্যন্ত
বৃদ্ধি করে তাহলে চলার সময় সে অভিশাপ লাভ করে॥ ফেরেস্তাগন আসমান জমিন হতে অভিসম্পাত করে। তার শরীরের লোমের সংখ্যা পরিমাণ দোজখে শাস্তির ঘড় তৈরী করবে।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আবু হোরায়রা (রাদিঃ) হতে বর্ণীত আছে, যে ব্যাক্তি লন্বা পাজামা পরিধান করে সে মুনাফেক এবং যার জামার অস্তিন বড় সে মল'উন (অভিশপ্ত) ॥
এরপর এরশাদ করলেন, দুটো দল সবসময় আল্লাহতালার না'নতের (অভিশাপের) শিকার হয়॥
প্রথমতঃ যারা লম্বা পাজামা পরিধান করে ।
দ্বিতীয়তঃ যারা জামার আস্তিন বড় রাখে ।
যে ব্যাক্তি এ দুটো কর্ম করে সে দোজখে নিজের জন্য ঘর তৈরী করে। এরপরএরশাদ করলেন, লম্বা পাজামা পরিধান করা জামার আস্তিন বড় রাখা মেয়েদের জন্য জায়েজ (অনুমদিত) আছে॥ এসব বক্তব্য পেশ করার পর হুজুর মশগুল হলেন। আমি নিজের ঘরে প্রত্যাবর্তন করলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক ।
সপ্তবিংশ মজলিস
হুজুর এরশাদ করলেন, আখেরী (শেষ) জামানার (কালের) আলেম ও আমির সমন্ধে হযরত রসুলে মকবুল (সাঃ) বলেছেন যে, শেষ জামানার দলপতি (আমীর) গণ স্বেচ্ছাচারী হবে এবং আলেমগন
দূনিয়াকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে এবং ফেতনা (বিশৃংখলা)
সৃষ্টি করবে সুতারাং সে সময় জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুই উত্তম হবে। কেননা মুমেনগণ তখন বিলাসে নির্মজ্জিত হবে অর্থাৎ আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকবে ।
এরপর এরশাদ করলেন, যখন আমির হবে যথেচ্ছাচারী এবং আলেম হবে দুনিয়ার বন্ধু , তখন আল্লাহতালা দুনিয়ার বুক থেকে বরকত তুলে নিবেন॥ রোগ, ব্যাধি, ও অন্যায় মানুষকে গ্রাস করবে। শহর বিরান (বিজন) হবে এবং পৃথিবীর বুকে ঝগড়া বিবাদ ছড়িয়ে পরবে।
এরপর এরশাদ করলেন, আখেরী যামানার অধিকাংশ আলেম মদ্যপায়ী সমকামী হবে। সুতারাং অবশ্যই জানবে যে তারা দোজখের কাষ্ঠখন্ড॥ এরপর সদকা সমন্ধে বললেন যে সদকা (দান) দরবেশদেরকে দেয়া দরকার।
যে ব্যাক্তি নিজের দরবেশীকে ঢেকে রাখা সে ১০গুণ সওয়াব বেশী লাভ করে। দরবেশদের সদকা নিজের আত্মীয়স্বজনকে দেয়া উচিত কারণ এতে বহু সওয়াব রয়েছে এবং একাজের জন্য তার সমস্ত গোনাহ মাফ হয়ে যাবে যাবে। আত্মীয়স্বজনেরু পরে সদকার হকদার হচ্ছে আলেমগন, এদের ১ টাকা দান করলে ৬০০০ টাকার সওয়াব লাভ করা যায় । এরপর সদকার হকদার হচ্ছে , পূন্যাত্মা ও ভালো লোকদের ॥ যে ব্যক্তি উক্ত নিয়মে সদকা প্রদান করে আল্লাহতালা তাকে ক্ষমা করে দেন। এবং বেহেস্তে উৎকৃষ্ট অট্রলিকা দান করেন।
জ্ঞানগর্ভ আলোচনার পর হুজুর মশগুল হলেন। এবং আমি বিদায় নিলাম॥
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
অষ্টবিংশ মজলিস
তওবা ও আলেমদের সমন্ধে আলোচনায় বললেন, হযরত রসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে মৃত্যুর পূর্বে তওবা কর। মৃত্যুর পর অনুনয় বিনয়ে কোন কাজ হবে না। এরপর এরশাদ করলেন, আল্লাহতালা কোরান মজিদ ও ফোরকানে হামিদের মধ্যে বলেছে, ইয়্যা আয়্যুহাল্লাজিনা আমানু তুবু ইলাল্লহ তাওবাতু নসুহা । অর্থাৎ হে ঈমানদার, আল্লাহর নিকট তওবা কর , তওবাতুন নসুহা, অর্থাৎ সেই রকম তওবা যে রকম তওবার হক বা দাবী রয়েছে এবং তা করবে তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পূর্বে।
এরপর এরশাদ করলেন, হযরত আদম (আঃ) যখন বেহস্ত হতে দুনিয়ায় নিক্ষিপ্ত হলেন, তখন তিনি দোয়া করলেন,"হে করুনাময়
তুমি ইবলিশকে তুমি আমার ওপর বিজয়ী করেছো, আমার কোন ক্ষমতা নেই , যে আমি নিজে তাকে পরাস্ত করতে পারি, কিন্তু তুমি যদি ক্ষমতা
দাও তাহলে কোন অসুবিধা হবেনা।
ঐশী আওয়াজ ভেসে এলো, হে" আদম, যখন তোমার আওলাদ (সন্তান সন্ততি) হবে, তখন আমার দয়া তাদের
সঙ্গে থাকবে, তারা সর্তক থাকলে তাদের ওপর ইবলিশের আক্রমণ
কার্যকরী হবেনা।
হযরত আদম (আঃ) দ্বীতিয়বার আবেদন করলেন, "হে এলাহী তোমার দয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি কর। পূনরায় আওয়াজ এলো, আমি তাদের জন্য তওবা ফরজ করলাম। সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্বমূহুর্তে তওবা করলেও আমি গ্রহণ করবো। এরপর এরশাদ করলেন,
"আহ্ লে সলুক; মুসলমান হওয়ার জন্য তওবা করা ফরজ মনে করে। প্রত্যেকের উচিত মৃত্যুর পূর্বেই তওবা করা। তার পর বললেন, আল্লাহতালা পশ্চিমে তওবা নামক একটা দরজা তৈরী করেছেন, তার বিস্তৃতি ৭০ বছরের পথ উচ্চতা ৪০ বছরের পথ। মানব সৃষ্টির পর
হতে আজ পর্যন্ত সেটা খোলা আছে, এবং যতদিন পর্যন্ত সূর্য্য পশ্চিম দিক হতে উদয় না হবে ততদিন পর্যন্ত খোলাই থাকবে॥
এরপর এরশাদ করলেন, যে সমস্ত আলোচনা বা বক্তব্য পেশ করা হলো মনে করবে এগুলি তোমার পূর্ণ-পরিপূর্ণতার বা পরিপূর্ণ - কামিলিয়াতের জন্য।
তোমার উচিত আমি যা কিছু বললাম সেগুলো পালন করব,
যাতে কিয়ামতেরদিন লজ্জিত না হও। এরপর এরশাদ করলেন,
সেই মুরিদই পীরের প্রকৃত উত্তরাধীকারী যে তার পীরের নিকট
হতে যা শুনে তা স্মরণ রাখে এবং মন প্রাণ দিয়ে তা মেনে চলে। তার বক্তব্য শেষ করে তিনি পবিত্র মুছল্লা (জায়নামাজ)
খিরকা (লম্বা দরবেশী জামা) আছা (লাঠী) মোবারক আমাকে দান করলেন। এবং নির্দেশ দিলেন, এ আমানত (গচ্ছিত মাল)
খাজেগানে চিশতী রাদিআল্লাহু আনহু হতে আমার নিকট পৌছেছিলো। আমি তোমার নিকট পৌছালাম এবং গচ্ছিত রাখলাম ॥ এখন তোমার উচিত, তোমার পরে যাকে তোমার উপযুক্ত মনে করবা তাকে দান করে জিম্মাদার করবে।
তার কথা শেষ হলে এ গোলাম মাথা কদমে রাখলো। তিনি আমাকে স্নেহের পরশে উত্তোলন করে আলিঙ্গন করলেন।
আমি বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আলা জালেক॥
===================================================================================
উপরোক্ত মজলিস গুলো হযরতে খাজা শায়খ মঈনুদ্দীন হাসান সন্জরী ছুম্মা আজমেরী (রহঃ) এর স্বহস্তে লিখা আনিসুল আরওয়াহ (রূহের বন্ধু) হতে সংগ্রহ করা,
আমরা যারা ত্বরিকত পন্থী , বিশেষ করে চিশতীয়া তরিকার তাদের জন্য আনিসুল আরওয়াহ অতীব প্রয়োজনীয় একটি
গ্রন্থ ॥ আমি আনিসুল আরওয়াহ পড়তে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি । সত্যিই আনিসুল আরওয়াহ রূহের বন্ধু ।
বিঃ দ্রঃ এরপর দলিলুল আরেফিন,
*********************************************ক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন